শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জুন, ২০২১ ২৩:২৯

স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থা র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে

------ ড. আদিল মুহাম্মদ খান

স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থা র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে
Google News

পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের রিপোর্টে গত কয়েক বছর ধরেই ঢাকা বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় তলানিতে আছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। ২০১৯ সালের তুলনায় র‌্যাঙ্কিংয়ে আমরা কাগজে-কলমে এক ধাপ এগিয়েছি, তবে প্রকৃত অর্থে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ২০১৯ সালে আমাদের সূচক মান ছিল ১০০ এর মধ্যে ৩৯ দশমিক ২। এখন তা ৩৩ দশমিক ৫। স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থা এই র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে।

মোবাইল সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি আরও বলেন, পাঁচটা সূচকের মধ্যে স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামোতে আমরা আগের মতোই আছি। পিছিয়েছি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পরিবেশে। করোনা পরিস্থিতিতে সব নগরেই টানাপড়েন আছে। তবে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের যে দুরবস্থা, করোনার কারণে তা সামনে চলে এসেছে। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা স্বাস্থ্যসেবা। ঢাকায় অনেক বড় হাসপাতাল আছে। কিন্তু ছোটখাটো রোগব্যাধির জন্য বাড়ির পাশে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার মিলবে না। এখানে সাংঘাতিকভাবে পিছিয়ে আছি। আর করোনায় চিকিৎসা নিয়ে মানুষকে যে বেগ পেতে হয়েছে বা হচ্ছে, তার প্রতিফলন পড়েছে র‌্যাংকিংয়ে। স্বাস্থ্য সূচকে ২০১৯ সালের তুলনায় ১৩ পিছিয়েছি, যা সর্বোচ্চ। পরিবেশের চ্যালেঞ্জটি আমাদের দীর্ঘদিনের। বায়ুদূষণে আমরা প্রায়ই শীর্ষে থাকছি। আমাদের বাচ্চাদের খেলার সুযোগ নেই, সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা নেই। এ কারণে সংস্কৃতি সূচকেও পিছিয়ে আছি। পরিসংখ্যানের চেয়ে ঢাকা শহরের শিশু-কিশোরদের অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর। করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ। এটার কারণে হয়তো শিক্ষা সূচকে পিছিয়ে গেছি। বিশ্বের খুব কম দেশই আছে, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এভাবে বন্ধ।

এই নগরপরিকল্পনাবিদ বলেন, রাজধানী হিসেবে ঢাকার অবকাঠামো, যাতায়াত সুবিধা, জলাবদ্ধতা- কোনো সূচকেই ভালো করতে পারছি না। আমাদের পরিকল্পনাগুলোর মান নিয়ে ঝামেলা আছে। এগুলো বৈশ্বিক মানের হয় না। এ ছাড়া যতটুকু পরিকল্পনা হয়, তাও বাস্তবায়ন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে স্বার্থগোষ্ঠী জড়িত থেকে তাদের সুবিধামতো পরিকল্পনা প্রণয়নের চেষ্টা করেন। এ ছাড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর মধ্যে সুশাসনের তীব্র অভাব আছে। যখন একটা নগরের নাগরিক সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সুশাসনের অভাব থাকে, তখন সেই নগরের পক্ষে বাসযোগ্যতার দিকে এগোনো সম্ভব হয় না। এ ছাড়া নগরের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ একদমই সীমিত। এ কারণে পরিকল্পনাগুলো টেকসই হচ্ছে না। ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য যে ওয়ার্ড কাউন্সিলগুলো, সেগুলো একেবারে নির্জীব। লোকাল কাউন্সিলের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনাগুলো সাজালে ওই এলাকার উন্নয়ন ও বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। তবে এখন উত্তর সিটি করপোরেশন বর্ধিত নগর এলাকাগুলোর জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়েছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তার সমগ্র এলাকার জন্য একটা ওয়ার্ডভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান করার উদ্যোগ নিয়েছে। এটা হলে সামনের দিনগুলোতে পরিবর্তন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সম্পদ ও কত মানুষের জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আগে ডিজাইন পপুলেশন ঠিক করে সেই অনুযায়ী অবকাঠামো তৈরি, সবুজ এলাকা, খেলার মাঠ, পার্ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে পারলে সুফল মিলবে।

এই বিভাগের আরও খবর