শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ জুন, ২০২১ ২৩:২৮

দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২ বছর আট মাস

জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯১ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

দেশে মানুষের গড় আয়ু দুই মাস বেড়ে ৭২ বছর আট মাস হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষের আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭১ বছর দুই মাস আর নারীর ৭৪ বছর পাঁচ মাস। এ ছাড়া গত ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯১ লাখ ১ হাজার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২০’ হালনাগাদ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এর আগের ২০১৯ সালের এ প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭২ বছর ছয় মাস। গত বছরের জুন পর্যন্ত মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৮২ লাখ ২ হাজার।

গতকাল ঢাকায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ইয়ামিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. খুরশীদ আলম, বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বক্তব্য দেন। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পরিসংখ্যান বিভাগের যুগ্ম পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক। তিনি বলেন, সারা দেশের ২ হাজার ১২টি নমুনা এলাকার ১২ লাখ ৮৫ হাজার ১৩ জনের তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে নারীর তুলনায় পুরুষের জন্মহার কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে মোট পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার আর নারী ৮ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার। ২০২০ সালের হিসাবে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭২ দশমিক আট বছর, যা ২০১৯ সালে ছিল ৭২ দশমিক ছয় বছর। দেশে গড় আয়ু ২০১৮ সালে ৭২ দশমিক তিন বছর, ২০১৭ সালে ৭২ বছর এবং ২০১৬ সালে ৭১ দশমিক ছয় বছর। প্রত্যাশিত গড় আয়ু পুরুষের চেয়ে নারীর বেশি। ২০২০ সালে পুরুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু হচ্ছে ৭১ দশমিক দুই বছর। ২০১৯ সালে ছিল ৭১ দশমিক এক বছর। ২০১৮ সালে ৭০ দশমিক আট বছর, ২০১৭ সালে ৭০ দশমিক ছয় বছর এবং ২০১৬ সালে ৭০ দশমিক তিন বছর। অন্যদিকে নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রত্যাশিত গড় আয়ু হচ্ছে ৭৪ দশমিক পাঁচ, ৭৪ দশমিক দুই, ৭৩ দশমিক আট, ৭৩ দশমিক পাঁচ ও ৭২ দশমিক নয় বছর। দেশে জনসংখ্যা বাড়ার হার ১ দশমিক ৩০। মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ৪ শতাংশ, প্রতি হাজারে মাতৃমৃত্যু হার ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার শিক্ষার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ, সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার শিক্ষার হার ৭৫ দশিমক ২ শতাংশ, সাত বছর ও তদূর্ধ্ব নারী শিক্ষার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ। আর দেশের ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ৫২ দশমিক ৭ আর নারী ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। মহামারীর মধ্যে গত বছর প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে ৫ দশমিক ১ জন মারা গেছেন। ২০১৯ সালে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৯ জন। অর্থাৎ গত বছর আগের বছরের তুলনায় মৃত্যুহার কিছুটা বেড়েছে। তবে শিশুমৃত্যুহার অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি হাজারে ২১টি শিশু মারা যাচ্ছে। আর বিয়ের গড় বয়স ২৪ দশমিক দুই মাস অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের বছরও একই হার ছিল। নমুনা এলাকায় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। শহর এলাকায় ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রামে ব্যবহার করে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ।

এই বিভাগের আরও খবর