বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
২৫৮ মৃত্যুর নতুন রেকর্ড শনাক্ত ১৪ হাজার ৯২৫

রাজধানীর বাইরে থেকে আসা রোগী বেশি মারা যাচ্ছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক দিনের ব্যবধানে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস সংক্রমণে সর্বোচ্চ মৃত্যুর আগের রেকর্ডটিও ভেঙে গেল। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রাণ হারিয়েছেন সর্বোচ্চ ২৫৮ জন। করোনায় এর আগে কখনই এক দিনে এত মৃত্যু দেখেনি দেশ। আগের দিনই রেকর্ড ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গতকাল সেই রেকর্ডটিও ভাঙল।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ঈদের পর থেকে বিধিনিষেধের মধ্যেই সংক্রমণের পাশাপাশি প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু। গত ২৩ জুলাই ১৬৬ জন, ২৪ জুলাই ১৯৫ জন, ২৫ জুলাই ২২৮ জন, ২৬ জুলাই ২৪৭ জন (ওই দিন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু) ও গতকাল ২৫৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। এদিকে হঠাৎ করেই মৃত্যু বাড়তে শুরু করেছে ঢাকায়। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৬১ জন, খুলনা বিভাগে ৫০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩ জন, রংপুর বিভাগে ১১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১ জন ও সিলেট বিভাগে সাতজন মারা গেছেন। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের বেশি মৃত্যু হয়েছে ৪ জেলায়। এর মধ্যে ঢাকা (মহানগরসহ) জেলায় ৪১ জন, চট্টগ্রাম জেলায় ১৮ জন, কুমিল্লা জেলায় ১৫ জন ও কুষ্টিয়া জেলায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, মহামারীর ১৬ মাস পরও বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় আইসিইউসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় এসব রোগী ভিড় করছে ঢাকায়। আবার ঢাকার বাইরে থেকে এসব রোগী আনতে অনেক সময় অক্সিজেন ও লাইফ সাপোর্ট সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্সও মিলছে না। দীর্ঘ যাত্রায় পথেই রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। ফলে ঢাকায় আসার পর এসব রোগীর বড় অংশেরই মৃত্যু হচ্ছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতালে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের পর থেকে করোনা রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। ঢাকার বাইরের অধিকাংশ রোগী জটিল অবস্থায় আসছেন। তাদেও বেশিরভাগেরই আইসিইউর প্রয়োজন হচ্ছে। চিকিৎসা দিয়েও অধিকাংশকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের ৪০ শতাংশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যাচ্ছেন। গ্রামের হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সাপোর্টটা দিতে পারলে রোগী মৃত্যুর হার কমে আসবে। তখন ঢাকার বাইরে থেকে রোগী এলেও এত জটিল অবস্থায় আসতে হবে না। ঢাকা মহানগরীর ১৬টি সরকারি কভিড হাসপাতালের ৩৮১টি আইসিইউর মধ্যে গতকাল ফাঁকা ছিল মাত্র ২২টি। এ ছাড়া ২৮টি বেসরকারি হাসপাতালের ৫১২টি আইসিইউর মধ্যে ফাঁকা ছিল ৯৩টি। শয্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি ছিল ৪টি হাসপাতালে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৫৮ জনের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। বাড়িতে ১৫ জন মারা গেছেন। দুজন হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান। মৃতদের মধ্যে ১৩৮ জন ছিলেন পুরুষ ও ১২০ জন নারী। বয়স বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে ১৪৭ জনই ছিলেন ষাটোর্ধ্ব। এ ছাড়া ৫৪ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব, ৩১ জন চল্লিশোর্ধ্ব, ১৬ জন ত্রিশোর্ধ্ব, আটজন বিশোর্ধ্ব ও দুজনের বয়স ছিল ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।

এদিকে দেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এই সময়ে ৫২ হাজার ৪৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৪ হাজার ৯২৫ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৮.৪৪ শতাংশ। শনাক্তের হার গত তিন দিন ধরে কমলেও নমুনা পরীক্ষা বাড়ায় বেড়েছে রোগী শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যু। গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ হাজার ৭৭৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৪১৪ জন।

ঈদের আগ থেকে সর্বোচ্চ সংক্রমণ বজায় রয়েছে বরিশাল ও সিলেট বিভাগে। বাড়ছে চট্টগ্রাম বিভাগেও। গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৩৯.৫৩ শতাংশ শনাক্তের হার ছিল সিলেট বিভাগে। বরিশাল বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ৩৭.১৬ শতাংশ। দ্বীপ জেলা ভোলায় শনাক্তের হার ছাড়িয়েছে ৪২ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ৩৪.৮৯ শতাংশ। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৮ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ২৬.৯২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬.৩৪ শতাংশ, ঢাকা বিভাগে ২৫.২৬ শতাংশ ও রাজশাহী বিভাগে ২৪.৫১ শতাংশ ছিল শনাক্তের হার।

সর্বশেষ খবর