শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

শর্তের বেড়াজালে ওমরাহ পালনের প্রস্তুতি

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

করোনার কারণে দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১০ আগস্ট বা ১ মহররম থেকে আবারও বিদেশিরা পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ যেসব শর্ত জুড়ে দিয়েছে তা পূরণ করে ১০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশি ওমরাহপ্রত্যাশীদের সৌদি আরব পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। মহামারী করোনার কারণে ২০২০ সালের ২৪ ফেরুয়ারি থেকে বিদেশিদের জন্য পবিত্র ওমরাহ পালন বন্ধ ঘোষণা করেছিল সৌদি সরকার।

জানতে চাইলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ১০ আগস্ট থেকে সৌদি সরকার ওমরাহ শুরু করেছে। ওইদিন থেকে আমাদের ওমরাহ যাত্রী পাঠানো সম্ভব নয়। লকডাউন শেষে ১১ তারিখের পর বৈঠক করে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, ওমরাহ যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে হাব। ওমরা পালনের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ নতুন করে যেসব শর্ত দিয়েছেন তা পূরণসহ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আমাদের এক মাস সময় লেগে যাবে। এ ছাড়া সৌদির প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আমাদের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তি করতে হয়। এ অবস্থায় আমরা ১০ তারিখ থেকেই ওমরাহ যাত্রী পাঠানো সম্ভব হবে না। জানা যায়, কঠিন ও জটিল শর্তের বেড়াজালে পড়েছে ওমরাহ হজ।  বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে মানতে হবে বেশ কিছু শর্ত। যার কিছু পূরণ করা খুব জটিল হবে। যেমন চীনের তৈরি কোনো কোম্পানির টিকা আগে নেওয়া থাকলে আবারও তাকে নতুন করে অন্য কোম্পানির টিকার পূর্ণ ডোজ নিতে হবে। বাধ্যতামূলকভাবে করোনাভাইরাসের সম্পূর্ণ ডোজ টিকা নিতে হবে। সেই টিকা হতে হবে ফাইজার, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা অথবা জনসন অ্যান্ড জনসনের। এ শর্ত প্রকাশের আগে ইতিমধ্যে যারা চীনের সিনোফার্মের টিকার দুটি ডোজ নিয়েছেন কিংবা উল্লিখিত টিকা ছাড়া অন্য কোনো টিকা নিয়েছেন তাদেরও নতুন করে টিকা নিতে হবে অন্য কোম্পানির।  টিকার বাইরে অন্য শর্তাবলি হচ্ছে- ওমরাহ পালনের জন্য ১৮ বছর বা বেশি বয়সীরাই সুযোগ পাবেন। তবে যে দম্পতির তিন-চার বছরের শিশু রয়েছে তারা ইচ্ছে করলেও শিশুদের সঙ্গে নিতে পারবেন না।