রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

এনআইডি ছাড়া বিদেশে পার্সেল নয়

আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত - ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রের চিঠি

উবায়দুল্লাহ বাদল

এখন থেকে বিদেশে পার্সেল পাঠাতে হলে প্রেরণকারী ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) লাগবে। পার্সেলের সঙ্গে এনআইডির ফটোকপিও সংযুক্ত করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, বিদেশে পাঠানোর জন্য সেসব পার্সেল ও সব ধরনের ডাক জিপিওর মাধ্যমে স্ক্যান করে বিমানবন্দরে পাঠাতে হবে। এরপর ওইসব পার্সেল বিমানবন্দরেও স্ক্যান করতে  হবে। কুরিয়ার সার্ভিস ও গার্মেন্টস কাপড়ের ভিতর পার্সেল করে বিদেশে মাদক পাচার রোধে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে মাদক পাচারের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। সম্প্রতি এ সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বাইরে মাদক পাচারের সময় বড় কয়েকটি চালান আটক করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। অতীতেও এ ধরনের ঘটনার নজির রয়েছে। এর পরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এসব চোরাকারবারিকে ধরতে ইন্টারপোলের সহযোগিতাও চেয়েছে সরকার। মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথ এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে মাদক পাচার রোধে বিমানবন্দরগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, বিমানবন্দরে পার্সেল কুরিয়ার স্ক্যানিং ব্যবস্থা জোরদার, কুরিয়ারের পাতায় এনআইডি কপি সংযুক্ত ও লাইসেন্সবিহীন কুরিয়ার সার্ভিসগুলোকে আইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়। ডাক বিভাগের কাছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও লাইসেন্সবিহীন কতগুলো কুরিয়ার সার্ভিস আছে সে তালিকা চাওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর বিষয়টি নিয়ে ২ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দফতর প্রধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান বলেন, অতিসম্প্রতি পার্সেল করে গার্মেন্টসের কাপড়ের ভিতর বিদেশে মাদক পাচারের সময় অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ জন্য ডাকযোগে পাঠানো সব পার্সেল প্রেরণের ক্ষেত্রে স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রেরণকারী ব্যক্তির এনআইডি প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার স্বার্থে ডাকযোগে প্রেরিত সব পার্সেল জিপিওর মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে স্ক্যান করে বিমানবন্দরে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ সময় কমিটির সদস্যরা তাকে সমর্থন করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। এর পরই এ সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি।

এর আগে ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কুরিয়ার সার্ভিসে মালামাল পরিবহনের সময় প্রেরকের এনআইডি কপি ও ছবি সংরক্ষণ করতে পারবে সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। দেশের বন্দরগুলোতে মাদক শনাক্তকরণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর একটি ডগ স্কোয়াড প্রকল্প তৈরি করবে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে ডগ স্কোয়াড দেওয়া হবে। মাদক কারবারিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এবং তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক কারবারিদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) কার্যালয়ে মাদকদ্রব্যের একজন কর্মকর্তা অবস্থান করবেন। মানুষকে সচেতন করতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকের কুফল প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হবে। টিভি ও বেতারে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। এ ছাড়া পাঠ্যপুস্তকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করারও সিদ্ধান্ত হয়।