রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

অপচেষ্টা চলছে সরকার ও গণমাধ্যম মুখোমুখি করার

চার সাংবাদিক সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন, আজ বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অপচেষ্টা চলছে সরকার ও গণমাধ্যম মুখোমুখি করার

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাব তলবের নামে সম্মানহানির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজে ও ডিআরইউর যৌথ সংবাদ সম্মেলন

সাংবাদিকদের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) যে চিঠি দিয়েছে, সাংবাদিক নেতারা তাকে সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলেন, সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব করার মধ্য দিয়ে তাদের প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে সংগঠনগুলোকে এবং গোটা সাংবাদিক সমাজকে। সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রতিকারও দাবি করেন তারা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজে ও ডিআরইউ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ ঘটনায় আজ বেলা ১২টায় বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব করার মধ্য দিয়ে তাদের প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে সংগঠনগুলোকে এবং গোটা সাংবাদিক সমাজকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সুনির্দিষ্ট কারণে যে কোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব তলব করতে পারে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে- ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেন, জঙ্গি অর্থায়ন ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। এমন কোনো অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে আসেনি। সরকারের অনেক সংস্থার সঙ্গেও আমরা আলাপ করেছি। তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এ ঘটনাটি উদ্বেগজনক। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন- ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী। লিখিত বক্তব্যে মসিউর রহমান খান বলেন, দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব এভাবে তলব করা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে কোনো দিন, কোনো সময় এ রকম ঘটেনি। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনসমূহের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক বলে আমরা মনে করি। নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বিএফআইইউ কেন, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিএফআইইউর এ পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছেন। দেখা গেছে, এ বিষয়টি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হচ্ছে। এতে দেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে। কারণ গোটা বিশ্বে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দেশের সরকার ও সচেতন সমাজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি কিংবা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল মেনে নেয় না, নিতে পারে না। সংবাদ সম্মেলনে বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আজ বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনসমূহের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্যাবলি চেয়ে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে চিঠি দেয়।

সর্বশেষ খবর