সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

নভেম্বরে বিদেশযাত্রায় রেকর্ড

১ লাখ ২ হাজার ৮৬৩ কর্মীর ছাড়পত্র দিয়েছে বিএমইটি

জুলকার নাইন

নভেম্বরে বিদেশযাত্রায় রেকর্ড

প্রায় দেড় বছরের খরা কাটিয়ে ফের ছন্দে ফিরেছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। কর্মীদের বিদেশযাত্রা শুরু হয়েছে পুরোদমে। শুধু তাই নয়, সদ্যসমাপ্ত নভেম্বর মাসে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন রেকর্ড হয়েছে। এই এক মাসে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬৩ জন কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। এর আগে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে ১ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন।

বিএমইটির কর্মকর্তারা জানান, করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালে বৈদেশিক কর্মসংস্থান থমকে গিয়েছিল। আগের বছর কর্মসংস্থান দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও এ বছর পরিস্থিতি বেশ ভালো। এ বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে ৩৫ হাজার ৭৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৯ হাজার ৫১০ জন এবং মার্চে ৬১ হাজার ৬৫৩ জন কর্মী বিদেশে যান। দেশে দ্বিতীয় দফায় কভিড মহামারী শুরু হলে এপ্রিলে আবার লকডাউনের কারণে কর্মী যাওয়া কমে যায়। ওই মাসে ৩৪ হাজার ১৪৫ জন, মে মাসে ১৪ হাজার ২০০ জন, জুনে ৪৫ হাজার ৫৬৭ জন, জুলাই মাসে আবার ১২ হাজার ৩৮০ ও আগস্টে ১৯ হাজার ৬০৪ জন কর্মী বিদেশে যান।  কভিড পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হওয়ার পর সেপ্টেম্বর থেকে ফের কর্মী যাওয়া বাড়তে থাকে। ওই মাসে ৪২ হাজার এবং অক্টোবরে ৬৫ হাজার ২৩৩ জন বিদেশে যান। এরপর নভেম্বর মাসে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬৩ জন কর্মী বিদেশে যান, যা নতুন রেকর্ড।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মাসে যে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯৫ জন কর্মী বিদেশে গেছেন তার মধ্যে এককভাবে সৌদি আরবেই গেছেন ৩ লাখ ৭০ হাজার ১৪ জন। অর্থাৎ এ বছর বিদেশে যত লোক গেছেন তার মধ্যে ৭৬ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। মহামারীর পর সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ বেড়েছে। এ ছাড়া এ বছর ওমানে ৪০ হাজার ৮৬ জন, সিঙ্গাপুরে ২১ হাজার ৩৩৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪ হাজার ২৭৪ জন, জর্ডানে ১১ হাজার ৮৪৫ জন এবং কাতারে ৯ হাজার ৭২৮ জন কর্মী গেছেন।

পরিসংখ্যান অনুসারে, আগের ২০১৭ সালের মার্চ মাসে যখন রেকর্ড ১ লাখের বেশি কর্মী গিয়েছিলেন সে বছর মোট বিদেশে গিয়েছিলেন ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন। এক বছরে কর্মী প্রেরণে সেটা ছিল  বাংলাদেশের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় রেকর্ড। এর পরের বছর ২০১৮ সালে ৭ লাখ ৩৪ হাজার এবং ২০১৯ সালে ৭ লাখ কর্মী বিদেশে যান। কিন্তু ২০২০ সালে এসে করোনার কারণে খরায় পড়ে শ্রমবাজার, ফলে ২ লাখ ১৭ হাজার কর্মী বিদেশে যান। তবে চলতি পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো। গত ১১ মাসে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯৫ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। কভিড পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় ৫ লাখ কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সবাই। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিএমইটি আশা করছে, এই বছর সাড়ে ৫ লাখ লোকের বিদেশে কর্মসংস্থান হবে যেটা স্বাভাবিক সময়ের কাছাকাছি। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক শহীদুল আলম বলেন, মহামারীর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ লোকের বিদেশে কর্মসংস্থানের ঘটনা খুবই ইতিবাচক। আমরা মনে করি বিদেশগামীদের নিবন্ধন ও ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা, কোয়ারেন্টাইনের জন্য ২৫ হাজার করে টাকা, বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর বসানো, প্রবাসীদের কভিড পরীক্ষার খরচ দেওয়াসহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান দফতর, রিক্রুটিং এজেন্সিসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অর্জন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এ বছর প্রায় ৬ লাখ কর্মী বিদেশে যাবেন। করোনা মহামারীর মধ্যে এটি একটি অসাধারণ অর্জন হবে। জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের হার করোনা মহামারীর পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে এসেছে। এই প্রবাহ চলমান থাকলে একদিকে যেমন বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে তেমনিভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহও ঊর্ধ্বমুখী হবে।

সর্বশেষ খবর