বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য হালনাগাদের পর দেশে এখন ভোটার ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন। গতকাল সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, নতুন ভোটারের খসড়ায় ছিল ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ২১৬ জন। এতে আরও যুক্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৪২ জন। সব মিলিয়ে ৪৭ লাখ ৮ হাজার ৮৫৮ জন ভোটার বেড়েছে। অন্যদিকে, সংসদ নির্বাচনের তফসিলের আগে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ৩০ নভেম্বর। গত ১০ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলো। নির্বাচন কমিশন জানায়, হালনাগাদের পর পুরুষ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জনে; নারী ভোটার সংখ্যা হয়েছে ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন এবং ১ হাজার ২৩০ জন হিজড়া। রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হবে, তাদের যুক্ত করে ভোটের জন্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩০ নভেম্বর।
হালনাগাদে এবার নারী বাড়লেও সচেতনতা ও সহযোগিতা চায় ইসি : ২০২৫ সালের ২ মার্চের ১২ কোটি ৩৭ লাখ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার বেশি ছিল প্রায় ৩০ লাখ। এরপরে হালনাগাদে ব্যবধান কমেছে ১০ লাখের বেশি। গত ২ মার্চ মোট ভোটার তালিকায় পুরুষ ছিল ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৬১৫ জন; নারী ছিল ৬ কোটি ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৬৫ জন এবং হিজড়া ছিল ৯৯৪। এ ছাড়া হালনাগাদে যুক্ত হয়েছে পুরুষ ১৮ লাখ ৭০ হাজার ২০৩ জন; নারী ২৭ লাখ ৭৬২ জন ও হিজড়া ২৫১ জন। হালনাগাদে মৃত বাদ ২১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯০ জন (এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ২৪ হাজার ৯০২; নারী ৯ লাখ ৭ হাজার ৬৬৭ এবং হিজড়া ২১)।
ভোট কেন্দ্র সংস্কারে প্রয়োজন ১১০ কোটি টাকা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২ হাজার ৪৯ ভোট কেন্দ্র ব্যবহার অনুপযোগী। মেরামতে ১১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ভোট কেন্দ্র সংস্কার করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এমন তথ্য জানিয়েছে। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেনের তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোট কেন্দ্র হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেরামত ও সংস্কার কাজ করা প্রয়োজন এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৪৯০টি। ওই ভোট কেন্দ্রগুলো মেরামতের জন্য মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত চাহিদার পরিমাণ ৩ হাজার ৩৭৮ দশমিক ৭৮ লাখ টাকা এবং যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন সে রূপ ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৫৯টি।
এসব সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত চাহিদার পরিমাণ ৭ হাজার ৬৪৮ দশমিক ৪৯০ লাখ টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃতব্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের মেরামত ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ১১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন সম্প্রতি এক চিঠিতে ওই পরিমাণ বরাদ্দ দিতে শিক্ষা সচিবকে চিঠিও দিয়েছেন, যার অনুলিপি নির্বাচন কমিশনকেও দেওয়া হয়েছে।