Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:১১
আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:৩৯

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার দাবি

অনলাইন ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার দাবি

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন। কেউ কেউ তাকে শান্তিতে নোবেল দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর জাসিন্ডা আরডার্ন মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতে তিনি হিজাব পড়েছেন, ওই ঘটনায় নিহত ও আহতদের বাড়িতে গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। এমনকি তিনি শুক্রবার ‍সে দেশের মুসলিমদের জুম্মার নামাজের খুতবা শুনতেও মুসলিম কমিউনিটিতে যান।

নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যে তার অনুসারীরা পিটিশনের জন্য একটি ওয়েবসাইট খুলেছে এবং সেখানে এরমধ্যে ৯৫৫ জনের স্বাক্ষর জমা পড়েছে। আসলেই কি জাসিন্ডা আরডার্ন নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত? যদি পান, সেটা কিসের ভিত্তিতে?

সাদা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানোর রীতি পাল্টে দিয়েছেন

প্রধানমন্ত্রী ঘটনা ঘটার ২৪ ঘন্টার কম সময়ের মধ্যেই এর নিন্দা জানিয়ে ওই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেটা অন্যান্যদের বেলায় দেখা যায়নি। যেমন, এই ঘটনাকে শেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদের বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তা মানতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন ‘এটা কোন হুমকি নয়’।

প্রধানমন্ত্রী হামলাকারীর চেয়ে ঘটনাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন

জাসিন্ডা আরডার্ন হামলাকারীর চেয়ে ঘটনাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এর একটি বিশেষ প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। হামলার পর তিনি হামলাকারীর নাম মুখে উচ্চারণ করেননি। তার সকল কার্যক্রম ছিলো ওই ঘটনার ক্ষতিগ্রস্থদের ঘিরে।

নিউজিল্যান্ডে মুসলিম কমিউনিটিকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সমর্থন করেছেন

তিনি নিহতদের শেষকৃত্যর ভার নিয়েছেন। ওই ঘটনায় নিহত ও আহতদের বাড়িতে গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। তাদের সম্মান জানাতে হিজাব পড়েছেন। পার্লামেন্টে কথা শুরুর আগে সালাম দিয়েছেন। তার প্রগতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক চিন্তাধারা সন্ত্রাসী ওই হামলার পরপরই সংক্রিয় অস্ত্র নিষিদ্ধ করেছেন এবং এ জন্য তিনি এক সপ্তাহ সময়ও নেননি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যাপারে সাহসী পদক্ষেপ

ঘটনার পর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। বলেন ‘(সামাজিক মাধ্যম) তারা প্রকাশক, পোস্টম্যান নয়, সবকিছু লাভের জন্য করা উচিৎ নয়, দায়িত্বশীল হওয়া উচিৎ।

জাসিন্ডা আরডার্ন এর অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ইতিহাস

মাওরি ভাষা নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ তিনটি ভাষার একটি। কিন্তু স্কুলে এই ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয় না। জাসিন্ডা আরডার্ন এটা পরিবর্তন করতে চান এবং ২০২৫ সালের মধ্যেই দেশটির প্রতিটি প্রাথমিক স্কুলে এই ভাষা শিক্ষা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার

গাজায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন জাসিন্ডা আরডার্ন। এছাড়া চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের অত্যাচারের বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিডি প্রতিদিন/২২ মার্চ ২০১৯/আরাফাত


আপনার মন্তব্য