শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:৪২

ট্রেনে রাশিয়া গেলেন কিম পুতিনের সঙ্গে বৈঠক আজ

কোরীয় উপদ্বীপের নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গ আলোচনার মুখ্য বিষয়

ট্রেনে রাশিয়া গেলেন কিম পুতিনের সঙ্গে বৈঠক আজ
চীন থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের বিদেশ সফরমানেই ট্রেন ভ্রমণ। রাশিয়া সফরেও সেই প্রমাণ দিলেন কিম -এএফপি

বছর দেড়েক আগে তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে যুদ্ধংদেহি নেতা। কিন্তু গত বছরের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় শীতকালীর অলিম্পিক। সেখানে উত্তর কোরিয়া অংশ নেয় এবং দেশটির প্রতিনিধিরা দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের উদ্যোগে দুই কোরিয়ার মধ্যে ফের সংলাপ শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে সংলাপ গড়ায় আমেরিকা পর্যন্ত। গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে বহুল কাক্সিক্ষত বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। সেই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে আলোর দেখা দিয়েছিল তা গত ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মিলিয়ে যায়। এ অবস্থার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার নেতা তার গ্রহণযোগ্যতা ও ক্ষমতার জানান দিতে এবার বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের চির শত্রু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে। আর সেই বৈঠক হতে যাচ্ছে আজ। রাশিয়ার ভøাদিভস্তক শহরে এ শীর্ষ  বৈঠক হবে। রাশিয়া বলছে, কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে সহায়তা করতে চান পুতিন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কোণঠাসা হলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্তর কোরিয়া যে একা নয়, সে দেশের নেতা কিম জং উন আবার তা প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেশী ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশ চীনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের পাশাপাশি আরেক প্রতিবেশী রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বদ্ধপরিকর কিম। গতকাল একটি সাঁজোয়া ট্রেনে চেপে কিম নিজ দেশের সীমান্ত থেকে কয়েক ঘণ্টা দূরের খাসান শহরে পৌঁছান। রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে সাড়ম্বরে স্বাগত জানান। আজ ভøাদিভস্কের কাছে রাস্কি আইল্যান্ডের ফার ইস্টার্ন ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস কমপ্লেক্সে পুতিনের সঙ্গে উত্তর কোরীয় নেতার শীর্ষ বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশনের সম্মেলনও এই কমপ্লেক্সেই হয়েছিল। পুতিন এর আগে ২০০২ সালে উত্তর কোরিয়ার তৎকালীন শীর্ষ নেতা ও উনের বাবা কিম জং ইলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ইল ২০১১ সালে ‘পুতিনের লেফটেন্যান্ট’ খ্যাত দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গেও বসেছিলেন। মেদভেদেভ তখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এবারের সফরে কিম রাশিয়ার কাছ থেকে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের  চেষ্টা করবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপের নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গটিই আলোচনার বেশিরভাগ অংশ জুড়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক এক উপদেষ্টা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থার মধ্যেই মস্কোর সমর্থন পেতে পুতিনের দ্বারস্থ হয়েছেন উত্তরের নেতা। তবে তিনি চাইলেও রাশিয়া এখনি পিয়ংইয়ংয়ের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাবে সমর্থন দেবে না বলেই অনুমান বিশ্লেষকদের। রাশিয়ার জন্যও এই সফরের গুরুত্ব ‘কম নয়’। তারা যে এখনো বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তি, কিমের সফর তা প্রমাণেরও সুযোগ করে দিয়েছে, বলছেন পর্যবেক্ষকরা। গতকাল ভøাদিভস্কেও কোয়ায়সাইড রেলস্টেশনে উত্তরের নেতার ট্রেন থামার বেশ কিছুক্ষণ পর কিমের বগির দরজা খোলে। হাসিমুখে বেরিয়ে এসে এরপর উত্তরের নেতা লাল গালিচায় পা রাখেন। রেলস্টেশনের সামনের স্কয়ারে অনার গার্ড প্রদর্শনের পর উত্তরের নেতা কালো লিমুজিনে চেপে রাস্কি আইল্যান্ডের পথে রওনা হন। সেখানেই তার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ গণমাধ্যম। হ্যানয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর উত্তর  কোরিয়ার আরও বিকল্প আছে এবং বিশ্বনেতাদের কাছে তাদের চাহিদা যে ‘এখনো ফুরায়নি’ এটা প্রমাণ করতেই কিমের এবারের রাশিয়া সফর বলে মন্তব্য করেছেন ভøাদিভস্কের ফার ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আর্তিওম লুকিন। আগামীকালই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


আপনার মন্তব্য