শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২০

মিয়ানমারে জান্তার বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ

৫ শতাধিক নেতা-কর্মী ডিটেনশনে

মিয়ানমারে আন্দোলনকারীদের একাংশ এবার সামরিক জান্তার ওয়েবসাইটগুলোকে টার্গেট করে সাইবার যুদ্ধে নেমে পড়েছে। তারা অনেক ওয়েবসাইট হ্যাক করে অচল করে দিয়েছেন। এদিকে গতকাল দেশটির রাজধানীসহ প্রধান প্রধান শহরের রাজপথে লাখ লাখ মানুষ তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে ৫ শতাধিক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের পর ডিটেনশনে (অনির্দিষ্টকালের জন্য নিরাপত্তা আইনে) আটকে রাখার আদেশ দিয়েছে।

রয়টার্স জানায়, টানা চতুর্থ রাতের মতো ইন্টারনেট বন্ধ রাখার প্রতিবাদে মিয়ানমারে সাইবার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সেনা সরকার পরিচালিত  বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটে হামলা চালিয়েছেন আন্দোলনকারী হ্যাকাররা। মিয়ানমার হ্যাকারস হিসেবে পরিচয় দেওয়া একটি গ্রুপের হামলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সামরিক বাহিনীর প্রচারণা পেজ, রাষ্ট্র পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভি, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনসহ বেশ কয়েকটি সরকার পরিচালিত ওয়েবসাইট বিঘিœত হয়েছে। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে রাজপথের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে মিয়ানমারের সরকারি ওয়েবসাইটে হামলা চালিয়েছেন হ্যাকাররা। মিয়ানমার হ্যাকারস গ্রুপটি নিজের  ফেসবুক পেজে বলেছে, ‘আমরা মিয়ানমারে ন্যায়বিচারের জন্য লড়ছি। এটা এমন ঘটনা যেন সরকারি ওয়েবসাইটের  সামনে বিক্ষোভ করছে হাজার হাজার মানুষ।’ অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ম্যাট ওয়ারেন বলেছেন, মনে হচ্ছে এই হ্যাকিংয়ের উদ্দেশ্য হলো জনসমর্থন  তৈরি করা।  এদিকে দেশটির সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতে জনগণের সমর্থন আছে। তবে সেই ভাষ্যকে মিথ্যা প্রমাণ করে গতকালও বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ইয়াঙ্গুনে জড়ো হন অভ্যুত্থানবিরোধী হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। এ ছাড়া সেনা শাসনের প্রতিবাদ জানাতে ইয়াঙ্গুনের বহু গাড়িচালক ধীরগতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। এভাবে  প্রতিবাদ করা কো সোয়ে মিন বলেন, আমি স্বৈরশাসনের মধ্যে জেগে উঠতে চাই না।

আসিয়ানে আলোচিত হবে পরিস্থিতি : সেনা অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আসিয়ানে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনাই। ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই সম্মতি আসে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার  দেশগুলোর জোট আসিয়ান। এই জোটের অন্যতম সদস্য মিয়ানমার। আর বর্তমানে জোটটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে ব্রুনাই।


আপনার মন্তব্য