শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মার্চ, ২০২১ ২৩:২০

রক্ত জমাট বাঁধার অভিযোগ

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা স্থগিত আরও চার দেশে

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা স্থগিত আরও চার দেশে

অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কভিড টিকার ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত রাখল ইতালি, ডেনমার্ক, নরওয়ে ও আইসল্যান্ড। ইতালি এ টিকা স্থগিত করার কারণ হিসেবে বলেছে, সম্প্রতি সিসিলি দ্বীপে দুজন পুরুষ রোগীর এ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর মৃত্যু ঘটেছে। এর পরই দেশটিতে এ ভ্যাকসিস নেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইতালির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এআইএফএ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আর অন্য দেশগুলো কারণ হিসেবে বলছে, ওই দেশগুলোয় অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা নেওয়ার পর রক্ত জমাট বাঁধার কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। যদিও ইউরোপের ওষুধের ওপর নজরদারি করা সংস্থা ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছিল এ টিকা নিরাপদ। কিন্তু ইউরোপের এ দেশগুলোর পদক্ষেপের পর এ টিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইতালির নৌবাহিনীর ৪৩ বছর বয়সী এক অফিসার ও ৫০ বছরের এক পুলিশ কর্তার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে অবশ্য ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন বা অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত করোনাভ্যাকসিন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেসব দেশের মধ্যে রয়েছে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও লুক্সেমবার্গ। সেদিক থেকে ইতালি হলো অষ্টম দেশ যেখানে এ ভ্যাকসিনটি নিষিদ্ধ হয়েছে। প্রথম এ টিকার ব্যবহারের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় ডেনমার্ক। সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, কভিড টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের রক্ত জমাট বাঁধার গুরুতর সমস্যার রিপোর্ট সামনে আসার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে অস্ট্রিয়ায়। সেখানে অ্যাস্ট্রাজেনেকার কভিড টিকা নেওয়ার কয়েক দিন পর ৪৯ বছরের এক নার্সের মৃত্যু হয় রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায়। যে ব্যাচের টিকা নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাচের টিকার ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে সে দেশে। অস্ট্রিয়ায় পাঠানো ওই ব্যাচের টিকার ডোজ পৌঁছেছিল এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও লুক্সেমবার্গেও। এ চারটি দেশও ওই ব্যাচের টিকার ব্যবহার স্থগিত রেখেছে। একই কারণে টিকার ব্যবহারে স্থগিতাদেশ এনেছে আইসল্যান্ড ও নরওয়ে। ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) জানিয়েছে, ৯ মার্চ অবধি ইউরোপের ৩০ লাখের বেশি ব্যক্তিকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ২২টি ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা সামনে এসেছে। যদিও অস্ট্রিয়ায় নার্সের মৃত্যুতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ভূমিকা নেই বলে মনে করে ইএমএ। অ্যাস্ট্রাজেনেকার কভিড টিকা দেওয়া বন্ধ রাখার বিষয়টিকে ‘অতি সতর্ক’ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক স্টিফেন ইভান্স এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘ইউরোপের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটা অতি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।’ তাঁর মতে, ‘ঝুঁকি ও সুবিধা দুটি বিষয় তুলনা করলে টিকার ব্যবহারের পাল্লা এখনো ভারী রয়েছে।’

ভারতে ব্যবহৃত কভিশিল্ড টিকা সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি হচ্ছে। এ টিকা আদতে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাই। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের এসব রিপোর্ট সামনে আসার পর বিষয়টির ওপর ‘তীক্ষè নজর’ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টিকাকরণের বিপ্রতীপ প্রভাববিষয়ক কমিটির প্রধান নরেন্দ্র অরোরা। তাঁর কথায়, ‘কিছু দেশে এ টিকার সাময়িক স্থগিতাদেশের বিষয়ে আমরা অবহিত। কভিশিল্ড নেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি এবং রক্ত জমাট সম্পর্কিত বিষয়টির ওপর আমরা নজর রাখছি।’ যদিও এ টিকার ব্যবহার বন্ধের পথে যে ভারত হাঁটছে না তা-ও জানিয়েছেন তিনি।