শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৪৬

পশ্চিমবঙ্গ ভোটে সহিংসতা নিয়েও রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গ ভোটে সহিংসতা নিয়েও রাজনীতি

১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ। দেশটিতে লোকসভা নির্বাচনের বাইরে হয় সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। প্রায় সব রাজ্যে নির্বাচন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ থাকে। এক সময় ভোটের দিন বা তার আগে-পরে ভয়ংকর গোলমাল হতো বিহার ও উত্তরপ্রদেশে। সেখানকার অবস্থা এখন ভালো। সংঘাত নেই বললেই চলে। কিন্তু এখনো ব্যতিক্রম পশ্চিমবঙ্গ। সেখানে রাজনৈতিক সংঘর্ষে মানুষ মরছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মারা যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে এখন চলছে বিধানসভা নির্বাচন। আট পর্বের নির্বাচনের চার দফা শেষ হয়েছে। বাকি আছে চার দফা। অর্থাৎ মাঝামাঝি পর্ব চলছে। কিন্তু ভোট যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে, সংঘাত ও সংঘর্ষ।  কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মানুষ মারা যাচ্ছে। আর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অভিযোগ। যা অবস্থা তাতে এটা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, যে রাজনৈতিক দলের যেখানে শক্তি বেশি, তারা সেখানে সংঘাতের রাস্তায় যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাজ্যের শীতলকুচির ঘটনার কথাই ধরা যাক। কোচবিহারের এই এলাকার একটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজন মারা গেছেন। সেখানেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে একজন মারা গেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তরবঙ্গের এক প্রবীণ সাংবাদিক ডয়েচে ভেলেকে জানিয়েছেন, ‘শীতলকুচির প্রার্থীরাও গত দুই দিনে এলাকায় গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। অবশ্য দুই প্রধান দল বলেছে, তারা যাবে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে মেরুকরণের চেষ্টা, বিভাজনের মরিয়া প্রয়াস।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শীতলকুচির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করে বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী ভোটব্যাংকের রাজনীতি করছেন। তিনি কেবল গুলিতে চারজনের মৃত্যুর কথা বলছেন। যারা মুসলমান। অথচ রাজবংশী যুবক আনন্দ বর্মণ যে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে গুলিতে মারা গেল তা বলছেন না। কারণ, রাজবংশী যুবক তার ভোটব্যাংক নয়। কারণ সে হিন্দু।’ গতকাল  রানাঘাটের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘এটা অমিত শাহের চক্রান্ত। এসপির সঙ্গে বসে বিজেপি কর্মীরা ওই পরিকল্পনা করেছিল। বিজেপিই সেদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গুলি চালাতে প্ররোচিত করেছিল। বিজেপি রাজ্যে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লাগাতে চাইছে।’ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ আবার শীতলকুচি নিয়ে আরও মারাত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আর যদি বাড়াবাড়ি করে, তা হলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে।’ তৃণমূল সোমবার দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে গেছে। তাদের দাবি, দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নিক কমিশন। কারণ, তিনি উসকানি দিচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পশ্চিমবঙ্গে এমন গোলমাল হবে কেন? প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক শুভাশিস মৈত্র মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গের ভোটের সঙ্গে সহিংসতার একটা সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে আছে। ডয়েচে ভেলেকে তিনি বলেছেন, ‘এক সময় অতিবামরা ঘোষণা করে সহিংসতার পথ নিয়েছে। অন্য দলগুলো মুখে সহিংসতার কথা বলে না। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে করে। পশ্চিমবঙ্গে এমন একটা জেলা নেই যেখানে গত দুই বছরে কোনো রাজনৈতিক হত্যা হয়নি।’