শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২১

জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধে ১০১ নোবেলজয়ীর চিঠি

Google News

নিজ নিজ ক্ষেত্রে তারা বলিয়ান। স্বীকৃতিও মিলেছে। তারা নোবেলজয়ী। এদের মধ্যে ১০১ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফসিল ফুয়েল বা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্‌বান জানিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতারা যখন ভার্চুয়াল সামিটের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন, তখন তারা পরিষ্কার এই বার্তা পাঠিয়েছেন খোলা চিঠিতে। তাওয়াক্কল কারমান, এলফ্রেডি জেলিনেক, দালাই লামাসহ প্রখ্যাত নোবেল জয়ীরা বলেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানিকে মাটিতেই থাকতে দিন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হয়, আজ বাইডেন ও বিশ্ব নেতারা ওই সামিটে বসছেন। তাদের প্রতি চিঠিতে আহ্‌বান জানানো হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। তা থেকে বাঁচতে পর্যায়ক্রমে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে। এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ১০১ জন নোবেলজয়ীই। এতে তারা বলেছেন, শিল্পবিপ্লব শুরু হওয়ার পর থেকেই জীবাশ্ম জ্বালানি শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের জন্য দায়ী। ফলে এমন শিল্পের বিস্তার অব্যাহত রাখা একটি বিবেকবর্জিত কাজ। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা পরিষ্কার করেছেন, এখন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে এই সামিটে অংশগ্রহণ কারীরা। এক্ষেত্রে বিশ্বনেতাদের কাছে কিছু সুপারিশ উত্থাপন করেছেন তারা। তা হলো- ক. তেল, গ্যাস এবং কয়লা উৎপাদন বিস্তারের আরও পদক্ষেপ নেওয়া বন্ধ করতে হবে। খ. জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, কার্বন নির্গমণের শীর্ষস্থানীয় উৎস হলো স্থানীয় পর্যায়ে দূষণ। জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন, তা পরিশোধন, পরিবহন এবং প্রজ্বলনের ফলে পরিবেশ এবং স্বাস্থ্য খাতে মূল্য দিতে হয়।

এর মূল্য অনেক সময় দেয় আদিবাসী মানুষরা এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়। এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন স্থল বোমা নিষিদ্ধকরণ নিয়ে কাজ করায় ১৯৯৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী জোডি উইলিয়ামস। নারী অধিকারকর্মী এবং ২০১১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারবিজয়ী লিমাহ গোউই। ২০১৮ সালে রসায়নে পুরস্কারবিজয়ী ফ্রাঁসিস এইচ আরনল্ড। ২০০৮ সালে চিকিৎসায় পুরস্কার বিজয়ী হেরাল্ড জুর হুসেন। ২০০৫ সালে সাহিত্যে পুরস্কার বিজয়ী এলফ্রিডে জেলিনেক, ২০১০ সালে অর্থনীতিতে পুরস্কার বিজয়ী ক্রিস্টোফার পিসারাইডস প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আটকে রাখার কথা বলা হয়েছিল। যা কিনা শিল্পবিপ্লব যুগের সময়ের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি বেশি। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিশ্বকে জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন ২০২০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর শতকরা ৬ ভাগ কমিয়ে আনতে হবে। ইউএন প্রোডাকশন গ্যাপের রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে এই কর্তন বার্ষিক শতকরা ২ ভাগ। গত বছর জাতিসংঘ বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে বর্তমানের চেয়ে শতকরা ১২০ ভাগ বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন হবে। বিজ্ঞানীরা বিশ্বের তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি বেঁধে দেওয়ার যে মাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছেন এটা তার চেয়ে অনেক বেশি।