শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৯ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মে, ২০২১ ২৩:৫৩

জেরুজালেম দখলের খায়েশে বেপরোয়া ইসরায়েল

ফিলিস্তিনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে নিজে থেকেই ফিলিস্তিনিরা চলে যায়

জেরুজালেম দখলের খায়েশে বেপরোয়া ইসরায়েল
গাজায় নির্বিচারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। তাদের এই হামলার মূল লক্ষ্যই আবাসিক এলাকা -এএফপি
Google News

বেন গুইরান (ইসরায়েলি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা) নিজে তার জীবনীতে একটি কৌশলের কথা লিখেছেন। আর সেটি হলো ফিলিস্তিনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে নিজে থেকেই ফিলিস্তিনিরা চলে যায়। অব্যাহত চাপের মুখে নানা সময়ে বহু জায়গা ফিলিস্তিনিরা ছেড়েও দিয়েছেন। ফলে এই কৌশল প্রায়ই প্রয়োগ করেছে ইসরায়েল। আর এতে অনেক সময় সফলও হচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম হলো পূর্ব জেরুসালেম এবং আল আকসা। ফিলিস্তিনিরা এখানে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছে, কারণ তারা মনে করে এই শহরটি হারালে স্বাধীন দেশের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে।’

লন্ডনে রাজনৈতিক ঝুঁকি সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ সাদি হামদি মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দিন দিন আশঙ্কা জোরদার হচ্ছে যে পূর্ব জেরুসালেম এবং আল আকসার নিয়ন্ত্রণ নিতে ইসরায়েল এখন মরিয়া এবং হামাস মনে করেছে ইসরায়েলকে প্রতিরোধের জন্য যে কোনো ঝুঁকি তাদের নিতে হবে। কারণ তারা ভীতি সৃষ্টি করে ফিলিস্তিনিদের নিজ বাসভূম থেকে সরানোর চেষ্টা করছে।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, জেরুসালেমে যা চলছিল তা নিয়ে রামাল্লায় ফিলিস্তিনি প্রশাসন তেমন সোচ্চার হয়নি। সৌদি আরব বা অন্য আরব মুসলিম দেশগুলো কম-বেশি চুপ ছিল। তুরস্ক কিছু মৌখিক বোলচালের বাইরে কিছু করেনি। ‘এই শূন্যতার মধ্যে হামাস হয়তো মনে করেছে জেরুসালেম নিয়ে তাদেরই এখন কিছু করতে হবে। চরম ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা ইসরায়েলকে বার্তা দিতে চেয়েছে জেরুজালেম নিয়ে তাদের পরিকল্পনার পরিণতি রয়েছে, বলেন মি. হামদি। এদিকে হামাসের রকেট ছোঁড়ার পর যে লড়াই এখন শুরু হয়েছে তা থামানোর জন্য জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন দূত পাঠিয়েছেন ইসরায়েলে। দুদিন আগে তিনি প্রথম টেলিফোনে করেছেন ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসকে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হচ্ছে হামাসের সঙ্গে কথা বলার জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকে কাতারকে মধ্যস্থতা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে এই লড়াইয়ের দুই পক্ষের মধ্যে লাভ-ক্ষতির সমীকরণ।

হামাসের পরিণতি : লন্ডনে গবেষণা সংস্থা চ্যাটাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক মোহামেদ এল দাহশান বলেন, সাময়িকভাবে হামাস দুর্বল হয়ে পড়বে, কিন্তু সংগঠন হিসেবে তারা গাজা থেকে নিশ্চিহ্ন হবে বা গাজায় তারা নিয়ন্ত্রণ হারাবে সে সম্ভাবনা ক্ষীণ। ‘গাজায় ক্ষমতার শূন্যতা নিয়ে ইসরায়েল উদ্বিগ্ন। সুতরাং তারা হামাসকে সংগঠন হিসেবে ধ্বংস করতে চায়। তারপরও হামাসের রকেট, তাদের রাজনীতি ইসরায়েলকে অনেক সুবিধা দেয়। বহু বহু ফিলিস্তিনি হামাসকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করে এবং ফিলিস্তিনিদের নিজেদের মধ্যে এই বিরোধ বৈরিতা ইসরায়েলকে সুবিধা দেয়।’ তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা জেরুজালেম ইনস্টিটিউট অব স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড সিকিউরিটির (জেআইএসএস) গবেষক ড. জনাথন স্পায়ার মনে করেন চলতি এই সংঘাতে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে হামাস। ড স্পায়ার বলেন, ‘এই দফার এই সংঘাতে যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তা হলো হামাস এই প্রথম ইসরায়েলের ভিতর আরব জনগোষ্ঠীকে খেপিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এটি এবার হামাসের বড় একটি কৌশলগত অর্জন এবং ইসরায়েলের বড় মাথাব্যথার কারণ।’

এদিকে প্রথমবারের মতো সোমবার গাজায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। গত ১০ই মে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২১২ ফিলিস্তিনি। এরমধ্যে অন্তত ৬১ জন শিশু এবং ৩৬ জন নারী। অপরদিকে হামাসের রকেট হামলায় ইসরাইলে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। এদিকে গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি যুদ্ধবিরতির আহ্‌বান জানিয়েছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত সেটিকে উপেক্ষিতই মনে হচ্ছে। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা হামাসের অবস্থান টার্গেট করে হামলা অব্যাহত রাখবে।

গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও চলছে সংঘাত। সেখানে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনিরা। ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গতকাল পশ্চিমতীরে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বন্দুক ও বিস্ফোরক নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করা হয়। একইসঙ্গে জর্ডান থেকে একটি ড্রোন ইসরাইলে প্রবেশ করার সময় সেটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এটি কাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল তা জানায়নি ইসরাইল।