শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুন, ২০২১ ২৩:২৬

বাইডেন-পুতিন আলোচনায় অগ্রগতি সামান্য

বাইডেন-পুতিন আলোচনায় অগ্রগতি সামান্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন হাত মেলালেও মনের দিক দিয়ে এখনো মেলেননি –এএফপি
Google News

অবশেষে দেখা হলো, কথা হলো। সমালোচনা, যুক্তি, অভিযোগ সবই হলো দুই প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মধ্যে। বৈঠকটি ঘণ্টা তিনেকের, যদিও হওয়ার কথা ছিল পাঁচ ঘণ্টার। পুতিন জানান, বৈঠক ছিল পুরোপুরি গঠনমূলক। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে দুই দেশই। বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শতাব্দীপ্রাচীন এক ভিলায় এই প্রথম মুখোমুখি হলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। জেনেভা হ্রদের কাছে সপ্তদশ শতকে নির্মিত ওই ভিলায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসার পর সাংবাদিকদের সামনে পাশাপাশি বসলেনও বাইডেন-পুতিন। সঙ্গে ছিলেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

ক্রমে সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা ও রাশিয়া। মার্কিন নির্বাচনে ‘হস্তক্ষেপ’ থেকে শুরু করে সাইবার হামলার মতো একাধিক ইস্যুতে মুখোমুখি দুই মহাশক্তি। এ পরিস্থিতিতে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন দুই নেতা।

সূত্রের খবর, কূটনৈতিক শলা মেনে বৈঠক নিয়ে ‘সন্তুষ্ট’ হওয়ার কথা বললেও বাইডেন ও পুতিনের মধ্যে পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, বৈঠকে দুই দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। আমেরিকার নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ, সাইবার হামলা, রাশিয়ার জেলবন্দী আলেক্সেই নাভালনির মুক্তি বিষয়ের পাশাপাশি মানবাধিকার, ইউক্রেন, বেলারুশ প্রভৃতি প্রসঙ্গ নিয়েও কথা হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। বৈঠকের শুরুতে একটু অস্বস্তিতেই ছিলেন বাইডেন। পুতিনও নির্বিকার ছিলেন। তবে পরের দিকে আবহ সহজ হয়ে আসে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাইডেন বলেন, মুখোমুখি দেখা করা বেশি ভালো নয় কি? আর বৈঠকে আসার জন্য বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান পুতিন।

দুই প্রেসিডেন্ট জেনেভায় তাদের আলোচনার প্রশংসা করেছেন। বৈঠক শেষে জো বাইডেন বলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য উঠে এলেও তেমন বড়সড় কিছু হয়নি। তিনি এও বলেন, রাশিয়া নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ চায় না। অন্যদিকে ভøাদিমির পুতিন বলেন, বাইডেন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং তারা দুজনই ‘একই সুরে কথা বলেছেন’। বাইডেন বলেছেন, তাদের কথা বলার জন্য বেশি সময় ব্যয় করার দরকার নেই এবং রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কোন্নয়নের প্রকৃত সম্ভাবনা রয়েছে। এ সাক্ষাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উপহার হিসেবে পুতিনকে একটি কাস্টম-মেইড এভিয়েটর সানগ্লাস দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রিয় স্টাইলের মধ্যে এ সানগ্লাসটি রয়েছে। সেই সঙ্গে পুতিনকে বাইসনের (বন্য ষাঁড়) একটি স্ফটিকের ভাস্কর্য উপহার দেওয়া হয়। তবে পুতিন বাইডেনকে কোনো উপহার দিয়েছেন কি না জানা যায়নি। যদিও বছর তিনেক আগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠকে বসেছিলেন ভøাদিমির পুতিন। ২০১৮ সালে ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে ওই বৈঠক শেষে ট্রাম্পকে একটি ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন পুতিন।

জানা গেছে, দুই পক্ষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছেন, তারা একে অন্যের রাজধানীতে রাষ্ট্রদূতদের ফিরিয়ে দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ আসার পর গত মার্চে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে সাইবার আক্রমণ ইস্যুতে পুতিন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার বেশির ভাগ সাইবার আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্র থেকেই হয়েছে। পানি বা জ্বালানি শক্তির মতো জটিল অবকাঠামোগুলোকে অবশ্যই হ্যাকিং বা অন্যান্য আক্রমণের বাইরে রাখতে হবে বলে পুতিনকে বলেছেন বাইডেন।

দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিবাদ করার অধিকারসহ মানবাধিকার ইস্যুতে তীব্র মতভেদ ছিল। পুতিন সম্প্রতি নাভালনি ইস্যুতে মার্কিন উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়েছেন, নাভালনির প্রসঙ্গ আসার পর পুতিন বলেছেন, রাশিয়া তার অঞ্চলে ক্যাপিটল হিল দাঙ্গা বা ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের মতো অশান্ত পরিস্থিতি চায় না। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার সম্পর্কে পুতিনের মন্তব্য ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বাইডেন বলেন, মানবাধিকার ‘সব সময় আলোচনার টেবিলে থাকবে’।

 

 রাশিয়া কেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চাইবে- জানতে চাইলে বাইডেন বলেন, ‘রাশিয়া এখন খুব, খুব কঠিন একটি জায়গায় আছে’। জেনেভা ত্যাগ করার আগে সাংবাদিকদের বাইডেন আরও বলেন, ‘চীন রাশিয়াকে পিষে ফেলেছে। তারা এখন বড় শক্তি হিসেবে থাকতে মরিয়া’। সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এক রিপোর্টার প্রশ্ন করেন তিনি পুতিনকে বিশ্বাস করেন কি না। এর জবাবে বাইডেন মাথা নাড়েন।

এদিকে বিবিসির মস্কোর সংবাদদাতা সারা রেইন্সফোর্ড বলেছেন, পুতিন একাধিকবার বোঝাতে চেয়েছেন রাশিয়া একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ, আমেরিকার তুলনায় তাদের অর্থনীতি ছোট হলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে রাশিয়ার যথেষ্ট গুরুত্ব থাকার কারণেই বাইডেন আলোচনায় এসেছেন।