শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুন, ২০২১ ২৩:৩৮

ভারতে তৃতীয় ঢেউয়ে ডেল্টা প্লাস

ডেল্টা স্ট্রেনের চেয়েও পাঁচ থেকে ছয় গুণ শক্তিশালী নতুন এই সংস্করণ - তিনটি রাজ্যকে সতর্কতামূলক চিঠি

ভারতে তৃতীয় ঢেউয়ে ডেল্টা প্লাস
Google News

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট মিলেছে ভারতে। যাকে বলা হচ্ছে ডেল্টা প্লাস সংস্করণ। তৃতীয় ঢেউ অবশ্যম্ভাবী, বলছেন বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যে ভারতের তিনটি রাজ্যে ২২ জনের শরীরে ‘ডেল্টা প্লাস’ ধরনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটিকে ‘উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান সার্স-কোভ-২ কনসর্টিয়াম অন জিনোমিক্স জানিয়েছে যে ডেল্টা প্লাস আপাতত ‘উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্ট (প্রজাতি)’ হিসেবে আছে। যে প্রজাতির করোনাভাইরাস আরও বেশি সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। সেই প্রজাতির করোনার ফলে মনোকোনাল অ্যান্টিবডির (এক ধরনের অ্যান্টিবডি) প্রতিক্রিয়াও সম্ভবত কম হয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান সার্স-কোভ-২ কনসোর্টিয়াম অন জিনোমিক্সের ২৮টি গবেষণাগার আছে। সেখানে ৪৫ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে ২২টি নমুনায় ডেল্টা প্লাস প্রজাতির করোনার অস্তিত্ব মিলেছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ চেহারা নিয়েছিল ভারতে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন আক্রান্ত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। হাসপাতালে বেড পাওয়া যায়নি, অক্সিজেনের অভাবে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভাইরোলজিস্টরা কেন্দ্রকে জানিয়েছেন, তৃতীয় ঢেউ আরও ভয়ংকর চেহারা নিতে পারে। ফলে গোড়াতেই সতর্ক হওয়া দরকার। ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ডেল্টা সংস্করণের করোনা ছড়িয়েছিল। সাধারণ চেয়ে যা অনেক বেশি ছড়ায়। সে কারণেই দ্বিতীয় ঢেউয়ে এত পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, তৃতীয় ঢেউয়ে আরও শক্তিশালী ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়াতে শুরু করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ডেল্টা প্লাস।

তবে এই ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে এখনো খুব বেশি তথ্য নেই ভাইরোলজিস্টদের কাছে। তবে যে ২২ জনের দেহে ডেল্টা প্লাসের নমুনা মিলেছে, তাদের জিনোম সিকোয়েন্স করে নতুন সংস্করণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহারাষ্ট্রের রত্নগিরির জলগাঁও, কেরালার পলক্কড় এবং মধ্যপ্রদেশের ভোপাল ও শিবপুরীতে নতুন সংস্করণে আক্রান্ত রোগীর হদিস মিলেছে। তার পরই কেন্দ্র তিনটি রাজ্যকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে। এইমস-এর প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ একটু কমতেই মানুষ করোনা নিয়ম অগ্রাহ্য করতে শুরু করেছে। লকডাউনও শিথিল হতে শুরু করেছে। এভাবে চললে এক-দেড় মাসের মধ্যে তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।

টিকা নেওয়া থাকলে কি ভয় নেই : প্রশ্ন উঠছে, টিকা নেওয়া থাকলে কি এই স্ট্রেন থেকে বাঁচা সম্ভব? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য এখনো তাদের কাছে নেই। তবে সম্ভবত টিকার বাধাও মানবে না এই স্ট্রেন। তা সত্ত্বেও যে অঞ্চলগুলোতে ডেল্টা প্লাস স্ট্রেন ছড়িয়েছে, সেখানে দ্রুত টিকাকরণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।