শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

আবার রাজ্য হবে কাশ্মীর প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী মোদির

আবার রাজ্য হবে কাশ্মীর প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী মোদির

কাশ্মীরের নেতাদের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে আবার রাজ্য করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন পর কাশ্মীরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

৩৭০ ধারা বিলোপের পর জম্মু ও কাশ্মীরকে একটি রাজ্য থেকে দুইটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার পর এই প্রথম বৈঠক। তাতে যোগ দেন আটটি দলের ১৪ জন নেতা। বৈঠকে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং লেফটন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহাও। সেই বৈঠকেই মোদি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে আবার রাজ্য করা হবে। তবে সেটা করা হবে উপযুক্ত সময়ে। সেই উপযুক্ত সময়ের কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

মোদি জানান, কাশ্মীরের সঙ্গে দিল বা মনের দূরত্ব এবং দিল্লির দূরত্ব ঘোচাতে হবে। তিনি কাশ্মীরে নির্বাচনের কথা বলেন। তার জন্য ডিলিমিটেশন বা নির্বাচনকেন্দ্রের সীমানার পুনর্বিন্যাসের কথাও বলেন। তার পরেই নির্বাচিত সরকার হবে। বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, তিনি সংসদেই জানিয়েছিলেন, জম্মু ও কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হবে। তার জন্য ডিলিমিটেশন দরকার, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়া দরকার। কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, ডিলিমিটেশন কেন শুধু কাশ্মীরেই হবে? তিনি জানিয়েছেন, অনেক নেতাই বলেছেন, জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দিতে হবে। দিল্লির মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে রেখে বিধানসভা নির্বাচন করালে হবে না। আর প্রশাসনে কাশ্মীর ক্যাডার আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। ওমর আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, কোনো দলই কাশ্মীরে ডিলিমিটেশন নিয়ে খুশি নয়। অন্য রাজ্যে ডিলিমিটেশন হবে ২০২৬ সালে। কাশ্মীরে এখনই করার কথা বলা হচ্ছে। প্রায় সব রাজনৈতিক দলই জানিয়ে দিয়েছে, কাশ্মীরে এখন ডিলিমিটেশন দরকার নেই। আগে কেন্দ্রীয় সরকার ও কাশ্মীরের মধ্যে আস্থা ফেরানো দরকার। কাশ্মীরের নেতাদের দাবি মেনে বৈঠকে ঠিক হয়েছে, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার দাবি খতিয়ে দেখতে একটা কমিটি করবেন লেফটন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। কমিটি বন্দীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বৈঠকে যাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাজ্যের চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি ও গুলাম নবী আজাদ।

২০১৮ সালের জুন মাসে বিজেপি-পিডিপি সরকারের পতনের পর তৎকালীন অবিভক্ত জম্মু-কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করা হয়েছিল। এক বছর পর ২০১৯ সালে ৫ আগস্ট রাজ্য দ্বিখি ত হয়। সেই সঙ্গে বাতিল করা হয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ, যা এই রাজ্যকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল। তারপর থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে আছে কাশ্মীর। থমথমে অবস্থাও আছে। দুই বছর ধরে রাজ্যের মানুষের ইন্টারনেটেও স্বাধীনতা নেই। সেই জম্মু-কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানোর চেষ্টা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উল্লেখ্য, মোদি যে নেতা ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করলেন, সেই নেতাদের কিছুদিন আগেও বন্দী করে রেখেছিলেন। আর গুপকর জোটকে ‘গুপকর গ্যাং’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তবে সাড়ে তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে সপ্তদলীয় জোট গুপকর অ্যালায়েন্সের নেতাদের পাশাপাশি বিজেপি, আপনি পার্টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও অংশ নেন। ‘গুপকর ঘোষণার’ অংশীদার হলেও কংগ্রেস এই বৈঠকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের দাবি জানায়নি। কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ বৈঠকের পর জানান, তাঁরা মোট পাঁচটি দাবি জোরের সঙ্গে পেশ করেছেন। এই দাবিগুলো হলো পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফেরত দেওয়া, বিধানসভার ভোট গ্রহণ, পুরোনো অভিবাসন নীতি বহাল রাখা, হিন্দু পি তদের ফিরিয়ে আনা ও সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তিদান।

তবে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি সরাসরি ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের বিরোধিতা করেছেন। বৈঠকের পর তিনি বলেন, আস্থা ও বিশ্বাস ফেরাতে গেলে ৩৭০ অনুচ্ছেদ ফেরাতেই হবে। মেহবুবা এ কথাও বলেন, চিরস্থায়ী শান্তির জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত সরকারের কথা বলা উচিত।