শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০১৯ ১৫:১১
আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০১৯ ১৫:১২

লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে হবে ‘সিনেমাটিক’ যুদ্ধ

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে হবে ‘সিনেমাটিক’ যুদ্ধ
মুনমুন সেন

ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে এবার ‘সিনেমাটিক’ যুদ্ধ দেখতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল শহরবাসী। একদিকে গায়ক-নায়ক বুাবুল সুপ্রিয় অন্যদিকে একসময়ের বহু বাঙালি তরুণের হার্টথ্রব অভিনেত্রী মুনমুন সেন।

মঙ্গলবারই পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভার আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। এবারের প্রার্থী তালিকায় একাধিক চমক ছিল মমতার। যার মধ্যে অন্যতম পাঁচ চলচ্চিত্র তারকা-কে প্রার্থী করা।

দলের পুরনো মুখ টালিগঞ্জের অভিনেতা দেব (দীপক অধিকারী)-কে ঘাটাল এবং অভিনেত্রী শতাব্দী রায়-কে বীরভূম কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী যাদবপুর কেন্দ্রে এবং বসিরহাট কেন্দ্রে অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে প্রার্থী করা হয়েছে। আবার কেন্দ্র বদল করে বাঁকুড়া থেকে সরিয়ে আরেক তারকা মুনমুন সেনকে দাঁড় করানো হয়েছে আসানসোল কেন্দ্রে। আর এখানেই জল্পনা ছড়িয়েছে।

২০১৪ সালে বাঁকুড়া কেন্দ্রে সিপিআইএম হেভিওয়েট প্রার্থী ও এই কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের সাংসদ বাসুদেব আচারিয়াকে প্রায় এক লক্ষ ভোটে পরাজিত করে সংসদ হয়েছিলেন মুনমুন। অন্যদিকে আসানসোল থেকে বিজেপির টিকিট জিতে প্রথমে সংসদ এবং পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি হারিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী দোলা সেন ও সিপিআইএম-এর বংশগোপাল চৌধুরী-কে।

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা প্রয়াত সুচিত্রা সেনের কন্যা মুনমুন সেন। বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি, তামিল, তেলেগু, মারাঠি, কানাড়া ছবিতেও দাপটের সাথে অভিনয় করেছিলেন মুনমুন। আর ১৯৯০ সালে সঙ্গীতজীবন শুরু করেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। বাংলার পাশাপাশি একাধিক হিন্দি ছবিতেও প্লেব্যাক সিঙ্গারের কাজ করেছিলেন বাবুল।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে বাবুলের মতো এক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে কেন মুনমুন সেন-কে বেছে নিলেন মমতা?

যদিও বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কোন আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, বাবুল সুপ্রিয়-কে ফের একবার এই কেন্দ্র থেকেই দাঁড় করাতে চায় তার দল। আগামী ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ভোট।

বাবুল সুপ্রিয়

তবে আসানসোলে মুনমুনকে প্রার্থী করানোর পরই টুইট করে বাবুল সুপ্রিয় জানান, আসানসোলের নির্বাচনে মমতাজি আমাকে সব সময়ই আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বী উপহার দেন। ২০১৪ সালে দোলা সেন, ২০১৯ সালে মুনমুন সেন।

জানা গেছে আসানসোলে মুনমুনকে দাঁড় করানোর পিছনে কেবলমাত্র তার গ্ল্যামার-ই নয়, ঘটনার পিছনে রয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে থামানো। বাঁকুড়া জেলার এক তৃণমূল নেতা জানান, মুনমুন সেন অত্যন্ত জনপ্রিয় কিন্তু স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ যে মুনমুন সেনকে এলাকায় খুব কম পাওয়া যায় এতে তৃণমূলের জনপ্রিয়তাও হ্রাস পেয়েছে।

এমনও শোনা গেছে স্থানীয় এক নেতাই নাকি দলনেত্রী মমতাকে আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছেন, মুনমুন সেনকে ফের দাঁড় করালে ওই কেন্দ্রে জয় অনিশ্চিত। আর এরপরই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রার্থী বদলের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাঁকুড়াতে প্রার্থী করা হয় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বর্তমান পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জিকে।

মুনমুনকে আসানসোল দাঁড় করানোর পিছনে আরেকটি কারণ হল এখানে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলকে কিছুটা থামানো যাবে। কারণ এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই গত লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দোলা সেনকে ৭০ হাজার ভোটে হারতে হয়েছিল।

এদিকে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে ‘সিনেমাটিক’ ছোঁয়া দিতে নির্বাচন কমিশনও উদ্যোগ নিচ্ছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিত রায়ের ‘এক ডজন গল্প’-এর আদলেই ১২টি তথ্যচিত্র নির্মাণ করবে এবং উত্তর কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় তা প্রদর্শন করানো হবে। রাজ্যের অন্য জায়গার চেয়ে উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে ভোট দানের শতকরা হার অনেক কম তাই ভোটারদের মধ্যে ভোটদানের উৎসাহ বাড়াতেই কমিশনের এই উদ্যোগ।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য