শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ জুলাই, ২০২০ ১৩:২৩

করোনার কারণে কলকাতার পশুর হাটগুলো ফাঁকা

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

করোনার কারণে কলকাতার পশুর হাটগুলো ফাঁকা

কোরবানির ঈদের সময় প্রতি বছর কলকাতার খিদিরপুরের পশু হাটে তিল ধারনের জায়গা থাকে না। বিক্রেতা ও ক্রেতাদের উপস্থিতিতে সকাল থেকে গমগম করে পশু হাট। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে কলকাতার অন্যতম এই পশু হাটটি এখন খাঁ খাঁ করছে। কেউ মাঠের মধ্যেই ঘোড়ার পিঠে চড়ছেন, কেউ আবার খেলে বেড়াচ্ছেন। শুধু খিদিরপুরই নয়, করোনা মহামারীর কারণে রাজাবাজার, মেটিয়াব্রুজ, গার্ডেনরিচসহ কলকাতা শহরের প্রায় সবকয়টি অস্থায়ী পশু হাটের চেহারা একরকম।

একমাত্র মধ্য কলকাতার জাকারিয়া স্ট্রিটের অস্থায়ী পশুহাটটিতে দেখা গেল হাতে গোনা কয়েকজন বিক্রেতা কয়েকটি ছাগল ও দুম্বা নিয়ে হাজির হয়েছেন। তার পরও ক্রেতার অভাবে কার্যত মাছি তাড়াচ্ছেন এই বিক্রেতারা।

ঈদুল আজহার নামাজ শেষে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ যে যার সাধ্য মতো পশু কোরবানি দেন। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এই মহামারীর কারণে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেরই মাথায় হাত।

জাকারিয়া স্ট্রিটের বিক্রেতা ইকবাল জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ক্রেতার সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কম। তাছাড়া লকডাউনের কারণে গণপরিবহন ব্যবস্থা পুরোদমে চালু না হওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকেও পশু বিক্রেতা ও ক্রেতারা আসতে পারছেন না।

একদিকে করোনা অন্যদিকে আর্থিক মন্দা-এই দুইয়ের কারণে অনেক মুসলিম পরিবারই এবারের ঈদে পশু কোরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। দীর্ঘ প্রায় চার মাস ধরে লকডাউন ও করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে তারা সকলেই চাইছেন খরচ কমাতে।

কলকাতার বেগবাগানের বাসিন্দা পোশাক ব্যবসায়ী মহম্মদ ইরফান জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের পারিবারিক রীতি ভেঙে চলতি বছর আমাদের পরিবার ঈদে পশু কোরবানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসাতেও মন্দা চলছে। কোভিডের ভ্যাকসিন না বের হওয়া পর্যন্ত এই মন্দা কাটিয়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনা নেই। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর