শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ জুন, ২০২১ ২১:২০
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২১ ২২:৪৫
প্রিন্ট করুন printer

‘নন্দীগ্রাম’ মামলার রায় স্থগিত রাখল কলকাতা হাইকোর্ট

দীপক দেবনাথ, কলকাতা:

‘নন্দীগ্রাম’ মামলার রায় স্থগিত রাখল কলকাতা হাইকোর্ট
Google News

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিধানসভা কেন্দ্র ‘নন্দীগ্রাম’এ ভোট পুনর্গনণা মামলার রায়দান স্থগিত রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি কৌশিক চন্দের সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলা শুনানি হয়। ভার্চুয়ালি এই মামলার বাদীপক্ষ তথা রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যোগ দেন। কিন্তু এই মামলা তিনি শুনবেন না কি ছেড়ে দেবেন সেবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে গ্রহণ করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি। 

উল্লেখ্য, কৌশিক চন্দের নিরাপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওই মামলা চন্দের বেঞ্চ থেকে অন্যত্র সরানোর আবেদন জানিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। কৌশিক চন্দের সাথে বিরোধী দল বিজেপির সম্পর্ক রয়েছে-এই অভিযোগ তুলে চন্দকে স্বেচ্ছায় ওই মামলা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধও জানিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু তার সেই আর্জি মঞ্জুর করা হয়নি।

এদিন শুনানি শুরুর পর মমতার আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভিকে কিছুটা ধমকের সুরেই এজলাস বদলের জন্য প্রশাসনিক পথে হাঁটার কারণ জানতে চাওয়া হয়। বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানান ‘১৬ জুন আপনারা এই মামলা অন্য এজলাসে পাঠানোর জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু গত ১৮ জুন শুনানির সময় এই মামলার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিচারপতিকে কেন জানানো হয় নি? আপনার যদি মনে হয় যে বিচারপতি সঠিক বিচার দিতে পারবে না তাহলে সেই প্রসঙ্গ মামলার প্রথম দিনেই উত্থাপন করতে পারতেন। নিয়ম অনুযায়ী আগে বিচারপতির কাছে আবেদন করতে হয়। কিন্তু তা না করে প্রশাসনিকভাবে প্রধান বিচার পতির কাছে বিচারপতি বদলের আবেদন করেছেন। সেই আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধানবিচারপতি রাজেশ বিন্দাল এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন নি। এখন আপনারা আবার আমার কাছে আবেদন করেছেন। সারা দেশের কাছে আপনারা কি দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন? আপনারা কি ডেকরাম জানতে না? বিচারপতি আরও জানান শুনানি করতে তাঁর কোন আপত্তি নেই, সেক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতর কাছে করা আবেদন প্রত্যাহার করতে হবে। দু’টো আবেদন একসাথে চলতে পারে না। 

মমতার আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জানান, এই মামলার বিচারপতি কৌশিক চন্দ এক সময় বিজেপির হয়ে একাধিক মামলায় অশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি একসময় বিজেপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাই তার প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই মামলা অন্য এজলাসে পাঠানোর আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। তার উত্তরে বিচারপতি চন্দ ফের জানান তিনি বিজেপির হয়ে মামলা লড়লেও কখনওই বিজেপির লিগাল সেলের কোনও পদে ছিলেন না। 
এরপর বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন ‘বিচারপতি বদলের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার বা বিবেচনা করার সম্পূর্ণ অধিকার আছে একজন আবেদনকারীর। তাই এ ব্যাপারে বিচারবিভাগীয় ভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন এই মামলাটি আদালতে ওঠার পর বিচারপতি জানান নির্বাচনী সম্পর্কিত মামলায় সাধারণত বাদী পক্ষ অর্থাৎ মমতা ব্যানার্জিকে থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে করোনার আবহে ভার্চুয়ালিও তিনি থাকতে পারবেন। এরপরই ২৪ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়। সেই মতো এদিন এই মামলার শুনানিতে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।

সম্প্রতি রাজ্যটির বিধানসভার নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়ে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসলেও নন্দীগ্রামে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে। ওই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মমতাকে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১,১০,৭৬৪, অন্যদিকে মমতার প্রাপ্ত ভোট ১,০৮,৮০৮। 

যদিও গত ২ মে ভোট গণনার দিন বিকালে ওই কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে যথেষ্ট বিভ্রান্তি ছড়ায়। বিকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা যায় ১২০০ ভোটে নন্দীগ্রামে জিতেছেন মমতা। যদিও আধা ঘণ্টার মধ্যেই শুভেন্দুকে জয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। 
স্বাভাবিক ভাবেই একবার জয়, পরক্ষণেই পরাজয় ঘোষণার ফল মানতে রাজি হয়নি তৃণমূল। ফল প্রকাশের পরই পুনর্গণনার দাবি জানায় তারা। কিন্তু কমিশন তাতে সম্মতি দেয় নি। 
এরপরই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতে যাবার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন তৃণমূল নেত্রী। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর