শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:৫০

অর্থনীতি সমিতির সম্মেলন

খেলাপি ঋণের ভয়াবহ ঝুঁকিতে অর্থনীতি

অর্থনীতিবিদরাও চান পৃথক ব্যাংক ♦ ‘ফারমার্স ব্যাংকের মরে যাওয়া উচিত’

নিজস্ব প্রতিবেদক

খেলাপি ঋণের ভয়াবহ ঝুঁকিতে অর্থনীতি

দেশের আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। তারা বলেছেন, খেলাপি ঋণের ভয়াবহ ঝুঁকিতে দেশের অর্থনীতি। প্রতিযোগী সব দেশের চেয়ে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বেশি। ব্যাংকে বাড়ছে প্রতারণা ও জালিয়াতি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে পুরো অর্থব্যবস্থায়। এসব বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা সরকারকে সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল অর্থনীতি সমিতির ২০তম সম্মেলনের সমাপনী দিনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্মেলনে অর্থনীতি সমিতির ২০১৮-১৯ সালের জন্য ড. আবুল বারকাত সভাপতি ও ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে (আইডিইবি) অর্থনীতি সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া। অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত। ধন্যবাদ জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ। এ সম্মেলনে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দেশের সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিন। সেমিনারগুলোয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মধ্যে লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন মো. কবির হোসেন, গুলজারে নবী, নির্মল চন্দ্র ভক্ত, খান এ মতিন, রুবানা হাসান, মো. গোলাম মাওলা, পার্থ সারথী ঘোষ, মো. তৌফিক হোসেন প্রমুখ। অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া তার বক্তব্যে বলেন, ‘অর্থনীতিতে যদি নৈতিকতা না থাকে তবে একটি দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যেতে পারে না। আমাদের অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। তবে আরও উন্নতির জন্য নৈতিকতা আরও বাড়াতে হবে। শুধু অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নয়, সব পেশাজীবীর মধ্যে নিজস্ব এথিকস বা নৈতিকতা থাকা প্রয়োজন।’ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, ‘সম্মেলনে এবার তিনটি বিষয় বেরিয়ে এসেছে। প্রথমত হলো, বর্তমানে মূলধারার অর্থনীতিতে নৈতিকতা শুধুই উপেক্ষিত হয়নি বরং অসঙ্গতিপূর্ণ, দ্বান্দ্বিক ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে আছে। অর্থনীতি মানুষের মঙ্গল ও সাম্যের জন্য কাজ করে। তাই অর্থনীতিতে নৈতিকতাকে গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রায়োগিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নৈতিকতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বাড়ছে। এ অবস্থায় প্রায়োগিক অর্থনীতির উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তৃতীয়ত, অর্থনীতি শিক্ষায় নৈতিকতা উপেক্ষিত। বর্তমানে অর্থনীতির ছাত্রদের চিন্তাভাবনাও অসাড় হয়। এ অবস্থায় শিক্ষায় নৈতিকতাকে যুক্ত করে পরিবর্তন আনতে হবে।’ ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ তার সমাপনী বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকারের কাছে অর্থনীতিবিদদের জন্য একটি পৃথক ব্যাংক চান। তিনি বলেন, অর্থনীতিবিদরা সবাই পেশাজীবী। তারা সবাই অল্প করে টাকা দিলেও মূলধনের ঘাটতি হবে না, দক্ষতারও অভাব হবে না। তাই তিনি পুলিশ, বিজিবির মতো অর্থনীতিবিদদের জন্যও একটি ব্যাংক দাবি করেন। এ সম্মেলনের একটি সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। যত কিছুই করা হোক না কেন, শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়া আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে একবার কেউ ব্যাংকের লাইসেন্স পেলে তা বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব সরকারের।’

সেমিনারে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতি বেড়েছে। এর অন্যতম হলো জাল নোট বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে অন্য একটি প্রবন্ধের উপস্থাপক নির্মল চন্দ্র ভক্ত বলেন, ‘জাল নোটের কারণে পুরো আর্থিক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

অর্থনীতি সমিতির নতুন কমিটি : এদিকে অর্থনীতি সমিতির ২০তম সম্মেলনের সমাপনী দিনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংগঠনটির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত। তিনি এর আগেও একাধিকবার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার সঙ্গে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ। কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান সরদার। এবার অর্থনীতি সমিতির সম্মেলনে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে গতকাল ২৫ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৩২ জন প্রার্থী। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ পর্ব চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর