শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:০০

৪২ নদীর ৬২৯ কি.মি ডুবোচর

অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে নদী। নদী বাঁচাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ২৯তম পর্ব আজ।

রাহাত খান, বরিশাল

৪২ নদীর ৬২৯ কি.মি ডুবোচর
Google News

বরিশাল বিভাগের ৪২ নদ-নদীর ৬২৯ কিলোমিটারই ডুবোচরে রূপ নিয়েছে। ড্রেজিং ও রক্ষণাবেক্ষণে কোনোরকম নজর না থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। যদিও সম্প্রতি নদ-নদীগুলোর নাব্য ফেরাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিণাঞ্চল জোনের প্রধান প্রকৌশলীর দফতর থেকে ড্রেজিংয়ের চাহিদাপত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, ওই চাহিদাপত্রে বরিশাল বিভাগের ৪৫টি নদ-নদীর বর্তমান অবস্থা উল্লেখ এবং পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া ৪২টি নদ-নদীর বিভিন্ন অংশের ৬২৯ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কথা বলা হয়েছে। ডুবোচরে রূপ নেওয়া অংশগুলোর মধ্যে রয়েছে বরিশাল জেলার তেঁতুলিয়া নদীর ৫.৬০, পাণ্ডব নদের ৩.৫, রাঙামাটি নদীর ১১.২০, কীর্তনখোলা নদীর ৮.৭৫, সুগন্ধা নদীর ৩.৩০, সন্ধ্যা নদীর ১৩, জয়ন্তী নদীর ৩.৫, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলা দিয়ে প্রবাহিত কালিজিরা নদীর ১৫, ঝালকাঠির মরা বিষখালী নদীর ১৮, নবগ্রাম নদের ১২, ধানসিঁড়ি নদীর ১৩, পিরোজপুরের মরা বলেশ্বর নদের ১৭, হলতা নদীর ১৪.৪৫, ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর ৯০, পটুয়াখালী জেলার পটুয়াখালী নদীর ৩, লোহালিয়া নদীর ৭৬, গোপালদীডন নদের ৮, বহালগাছিয়া নদীর ৬, কলাগাছিয়া নদীর ৮, মুরাদিয়াডন নদের ৫, ভূড়িয়া নদীর ৩, মহিপুর নদের (চ্যানেল) ১০, পাটুয়া নদীর ১০, লোন্দা নদীর ৪, সাপুরিয়া নদীর ১৩, টিয়াখালীডোন নদের ১০, রাঙাবালি নদীর ১৫, পাঙ্গাশিয়া নদীর ১০, ডিগ্রি নদীর ৪, রাবনাবাদ চ্যানেলের ১০, বরগুনার পায়রা নদীর ২৫, কুকুয়া নদীর ২০, টিয়াখালী নদীর ১৬, বাদুরা ও নেউলী নদীর ২০, নিশানবাড়িয়া ভারানী নদীর ৭, আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ২০, চাওড়া নদীর ১৫, চরদুয়ানী ভারানী নদীর ১০, হলতা নদীর ১৮.৫, খাকদোন নদের ১৫, বিষখালী নদীর ৩০ ও বলেশ্বর নদের ১০ কিলোমিটার। প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, নদ-নদীগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং তদারকির অভাবে বরিশালে আগের চেয়ে ধানের উৎপাদন কমেছে। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এবং দখল-দূষণের কারণে বেশির ভাগ খাল শুকিয়ে গেছে, কোনোটি ভরাট করে করা হয়েছে রাস্তা-ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থাপনায়। সম্প্রতি কিছু খাল খনন করা হলেও সেগুলোয় তেমন পানিপ্রবাহ পাওয়া যাচ্ছে না। আর অব্যাহতভাবে পলি পড়ে নদ-নদীগুলো হারিয়ে ফেলেছে নাব্য। খালি চোখে দেখলে মনে হয় বিশাল প্রশস্ত নদী, কিন্তু পানির ২-৩ ফুট নিচেই জেগেছে বিশাল বিশাল ডুবোচর। এ কারণে মাঝারি ও বড় সাইজের নৌযান প্রতিনিয়ত আটকে যাচ্ছে ডুবোচরে। এ ব্যাপারে লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সাইদুর রহমান রিণ্টু বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নিরাপদে তুলনামূলক কম খরচে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য সব নদ-নদীর নাব্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি। নদ-নদীগুলোর নাব্য রক্ষায় বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বিশিষ্ট পরিবেশবিজ্ঞানী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক বলেন, বরিশাল হচ্ছে ভাটি অঞ্চল। উত্তরের হিমালয় কিংবা উত্তর-পশ্চিমের বিভিন্ন নদ-নদীর বিশাল পলি এসে জমা হয় ভাটি অঞ্চলের নদ-নদীতে। এগুলো নিয়মিত ড্রেজিং করা হয়নি। ড্রেজিং উপেক্ষা করায় প্রবাহ নষ্ট হয়েছে। আবার অবৈধ দখলেও নদ-নদীগুলো নিজস্ব গতিপ্রবাহ হারিয়েছে। সামনে আরও দুরবস্থা অপেক্ষা করছে। নদ-নদীর দেশ বরিশালের বিভিন্ন নদ-নদীর ৬২৯ কিলোমিটার খননের প্রয়োজনীয়তার তথ্যে বিস্মিত ও ব্যথিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. ইমামুল হক। তিনি বলেন, এটি অবাক করে দেওয়ার মতো, হৃদয়ে রক্তক্ষরণের মতো তথ্য। জরুরি ভিত্তিতে খনন করা না হলে নদ-নদীগুলো নাব্য হারিয়ে ফেলবে।