শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪২

শেষ হলো লোকসংগীত উৎসব, মাতালেন শাফকাত আমানাত আলী

শুধু সুরের মায়াজাল

মোস্তফা মতিহার

শুধু সুরের মায়াজাল

উপমহাদেশের সুফি সংগীতের একনিষ্ঠ সাধক পাকিস্তানি পাটিয়ালা ঘরানার ক্লাসিক্যাল শিল্পী শাফকাত আমানাত আলী। শুদ্ধ সুরের সঙ্গে সুফি ঘরানার মিশেলে বিশ্বসংগীতের অঙ্গনে সমাদৃত এই সুফি শিল্পীর নাম। আধ্যাত্মিক চেতনার সঙ্গে লোকজ সুরের সংমিশ্রণে পাকিস্তানের ফোক সংগীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই শিল্পী। তাল, লয়, ছন্দ আর শাস্ত্রীয় ঢঙের শৈল্পিকতায় অনেক আগেই বিশ্বসংগীতের দিকপালদের তালিকায় নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এই সুরের জাদুকর। শুধু উৎসবের শেষ রাতের মূল আকর্ষণ নয়, তিন রাতের এ উৎসবেরও মূল আকর্ষণ ছিলেন তিনি। গতকাল উৎসবের শেষ রাতের শেষ পারফরমার হিসেবে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মঞ্চে এলেন এই শিল্পী। প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন শ্রোতাদের। আলো ঝলমলে মঞ্চ থেকে সংগীতের মূর্ছনার ঢেউ তুলে রাজধানীর সুরপিয়াসীদের হৃদয়ের তন্ত্রীতে সৃষ্টি করলেন সুরের অনুরণন। সুফি ঘরানার সঙ্গে শাস্ত্রীয় যোগে উৎসবের শেষ রাতের আসরে মায়াজাল ছড়িয়ে দেন এই শিল্পী। পাকিস্তানের খ্যাতিমান ওস্তাদ আমানাত আলী খানের ছেলে পাটিয়ালা ঘরানার নবম বংশধর এই শিল্পী  গায়কীতে চাচা ওস্তাদ ফতেহ আলী খানের প্রভাব তুলে ধরে সুরের মোহনীয়তায় ধ্যানমগ্ন করে তোলেন শ্রোতাদের। আর স্টেডিয়ামভর্তি অর্ধলক্ষাধিক শ্রোতাও তার সুরে মোহিত হয়ে ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’র মতো সুরের সমুদ্রে হারিয়ে যান। ‘মাওলা তুঁহি মেরা সাথ, লেটো মে হামার, হামলে মে রুঠে’, ‘মান মেরা অ্যায়সে গায়ি, বিন তেরে, তেরে ন্যায়না’, ‘ইয়ে আরজু ক্যায়সে রুকে, তেরি ঝুকি নজার’সহ বেশ কয়েকটি হিন্দুস্তানি ক্লাসিক পরিবেশন করে সুরের বৃষ্টি ঝরান পাকিস্তানের ‘প্রেসিডেন্ট প্রাইড অব পারফরম্যান্স’-এ ভূষিত শাফকাত আমানাত আলী। বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার প্রতি নিজের শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরে উপমহাদেশের জনপ্রিয় এই শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদীর গাওয়া বিখ্যাত গান ‘কেউ কোনো দিন আমারে তো কথা দিল না’ পরিবেশন করেন। জগদ্বিখ্যাত এই শিল্পীর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তিন রাতের লোকসংগীত উৎসবের পর্দা নামে।

এর আগে সন্ধ্যায় শেষ রাতের আসর শুরু হয় বাংলাদেশি গানের দল ‘নকশীকাঁথা’র পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। নাতিদীর্ঘ বন্দনাগীতি ‘এই দেশেরই মাটিতে সোনার ফসল ফলে’ গানটি দিয়ে শুরু করে একে একে তারা গেয়ে শোনান ‘ওকি ও বন্ধু কাজল ভোমরা রে’, ‘নয়া বাড়ি লইয়ারে বাইদা লাগাইল বাইগুন’, ‘কাইন্দো না কাইন্দো না কন্যা’ ইত্যাদি বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করে মাঠজুড়ে সুরের প্রতিধ্বনি তৈরি করে এই দল।

 দলটির পরিবেশনাজুড়ে মূর্ত ছিল দেশ, শিকড়, মাটি আর মানুষ। শেষ রাতের আসরের দ্বিতীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন বাউল কবির শাহ। বিচ্ছেদ, ভাবের গান, ভাটিয়ালি আর মুর্শিদির সুধায় শ্রোতাদের সিক্ত করে মঞ্চ ত্যাগ করেন এই বাউল। এরপর ছিল স্পেনের ব্যান্ড ‘লাস মিগাস’-এর পরিবেশনা। আসরের চতুর্থ পারফরমার হিসেবে মঞ্চে আসেন অর্ণব। ‘আমার হাড় কালা করলা রে’, ‘সোনা দিয়া বান্ধাইয়া ঘর’, ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই’ পরিবেশন করে দেশজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন অর্ণব।

মেরিল নিবেদিত এ উৎসবের আয়োজক ছিল সান ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে মাছরাঙা টেলিভিশন।

১৫ নভেম্বর রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে শুরু হয় তিন রাতের এ আসর। তিন রাতের এ আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ সাত দেশের ১৭৪ জন শিল্পী অংশ নেন।


আপনার মন্তব্য