শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মার্চ, ২০১৯ ২৩:০৫

গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে মনিটরিং সেল নামছে

শফিকুল ইসলাম সোহাগ ও মাহবুব মমতাজী

গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে মনিটরিং সেল নামছে

ঈদুল ফিতরের এখনো বাকি দুই মাসের বেশি। তাই একটু আগেভাগে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। তবে এবার গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্যরোধ ও যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণে মাঠে নামছে বিশেষ মনিটরিং সেল। রাজধানীতে এই মনিটরিং সেল নামাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। পরে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ মনিটরিং জোরদার করা হবে। সরেজমিন এবং সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগে এই দুভাবে মনিটরিং করবে সংস্থাটি। আর ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সারা দেশে থাকবে বাড়তি নজরদারি। তদারকির সময় অনিয়ম পেলেই পরিবহন মালিক, চালক ও হেলপারকে ভোক্তা আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া হবে। আজ রবিবার এ সেলের মাঠে নামার কথা। সপ্তাহের পাঁচ দিন সেলের সদস্যরা রাজধানীর প্রত্যেকটি পয়েন্টে তদারকি করবেন। তারা পরিচয় না দিয়ে সাধারণ যাত্রী হিসেবে গণপরিবহনে ভ্রমণ করবেন। এ সময় ভাড়া ও যাত্রীসেবা নিয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা কোনো ধরনের নৈরাজ্য করলেই মালিক থেকে শুরু করে চালক ও হেলপার পর্যন্ত সবার বিরুদ্ধে ভোক্তা আইনে মামলা করে শাস্তির আওতায় আনবেন। রাজধানী ছাড়াও সারা দেশের বাস ও রেলস্টেশন এবং নদীবন্দরে থাকবে বাড়তি নজরদারি।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গণপরিবহনের (বাসের) ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রীসেবা নিশ্চিতে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। অধিদফতর সব সময় ভোক্তার অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। বর্তমানে পরিবহন সেক্টর ত্রাসে পরিণত হয়েছে। যার কাছে যেভাবে পারছে ভাড়া আদায় করছে। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে না নির্ধারিত যাত্রীসেবা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের দেওয়া ভাড়ার মূল্য তালিকা মানে না পরিবহন কোম্পানিগুলো। অনেক সময় তারা যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। সব মিলিয়ে একজন ভোক্তা পরিবহন খাতে সেবা নিতে গিয়ে অনেকভাবে প্রতারিত হয়ে থাকেন। এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ইচ্ছেমতো বাড়ানো হয় যাত্রী পরিবহন ভাড়া। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ-তিনগুণ করা হয়। সিটিং সার্ভিস, গেটলক, সময় নিয়ন্ত্রণ, স্পেশাল সার্ভিসসহ নানা নামে যাত্রীদের ধোঁকা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে মানা হয় না বিআরটিএর ভাড়ার তালিকা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৭০ পয়সা আর সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা বেঁধে দিলেও তা মানছে না কেউই। সিটিং ও গেটলক সার্ভিসের নামে তারা সর্বনিম্ন ভাড়া আদায় করছে ১০-২৫ টাকা। অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বাসে যাত্রীর সেবা নিশ্চিত ও অসাধুদের শাস্তি দিতে একটি রোডম্যাপ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- চালকরা অসুস্থ প্রতিযোগিতা করলে, পরিবহনে অতিরিক্ত বা দাঁড়ানো যাত্রী নিলে, নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানো বা নামানোর মাধ্যমে যাত্রী হয়রানি করলে, নারী যাত্রীদের আসন সেবা সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত না করলে, সিটিং সার্ভিসের নামে বেশি ভাড়া নিলে, সিটিং সার্ভিসে একজন যাত্রী নির্ধারিত স্থানে নেমে গেলে তার সিট নতুন করে অন্য যাত্রীর কাছে বিক্রি করলে ভোক্তা আইনে শাস্তি দেওয়া হবে। জানা গেছে, মহাখালী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৮ টাকা। এই রুটে বিভিন্ন পরিবহন ভাড়া আদায় করে থাকে ২০ টাকার বেশি। রাজধানীর নতুনবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে খিলক্ষেতের দূরত্ব ৫ কিলোমিটারের কম। তবুও এর জন্য যাত্রীদের গুনতে হয় সর্বনিম্ন ভাড়া ১৫ টাকা। মিরপুরের কালশী সড়কের মাটিকাটা অংশে ইসিবি চত্বর থেকে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের দূরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার। অথচ গণপরিবহনগুলো এর ভাড়া আদায় করে ২৫ টাকা করে। আবার শাহবাগ থেকে পল্টন মোড় দুই কিলোমিটার। এর জন্য ভাড়া আদায় করা হয় ১০ টাকা করে। সিটিং সার্ভিসের নামে এভাবেই যাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার পরও একজন যাত্রী তার নির্ধারিত সেবা পাচ্ছে না।


আপনার মন্তব্য