শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মার্চ, ২০১৯ ২৩:০৭

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীর চিঠি

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীর চিঠি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক মন্ত্রী। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, যদি ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোকে দেশীয় শিল্পের মতো শুল্ক সুবিধা দেয় বাংলাদেশ, তবে যুক্তরাজ্য তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়াবে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শির কাছে এ চিঠিটি পাঠান যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী ড. লিয়াম ফক্স। যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের জন্য শুল্ক সুবিধা চেয়ে পাঠানো এ চিঠিতে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি খুশির খবর দিয়েছেন ড. লিয়াম ফক্স। তিনি নিশ্চিত করেছেন, ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে দেশটি বেরিয়ে গেলেও পণ্য রপ্তানিতে বর্তমানের মতোই শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা (জিএসপি) পাবে বাংলাদেশ। যুক্তরাজ্য সরকারের এ চিঠি নিয়ে সম্প্রতি একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই সভায় দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরতি চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যুক্তরাজ্য যখন ব্রেক্সিট কার্যকর করতে যাচ্ছে, ঠিক সে সময় তারা বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে যে চিঠি দিয়েছে সেটি আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা এটি জানতেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সভা করেছি। কারণ বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা ছিল। এখন দেশটির সরকারের একজন মন্ত্রীর চিঠিতে সেই ধোঁয়াশা কেটে গেল।

চিঠিতে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর শুল্ক সুবিধা সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীরা করপোরেট ট্যাক্স কমানোর আবেদন জানিয়েছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য করপোরেট ট্যাক্স কোথাও কোথাও বেশি আছে। তারা চাইছে স্থানীয় শিল্পের অনুরূপ শুল্ক সুবিধা। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তা। চীনের পর বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারী যুক্তরাজ্য এ তথ্য উল্লেখ করে ড. লিয়াম ফক্স চিঠিতে জানান, ২০১৮ সালে তার দেশ ৩৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশে। ‘কিন্তু আমি এই বিনিয়োগ আরও বাড়াতে চাই এবং বিনিয়োগকারী ও রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে উৎসাহিত করতে চাই,’-বলেন ড. লিয়াম। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরো বাণিজ্য বৈষম্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ অবস্থায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি আরও উন্নত করার অভিপ্রায় প্রকাশ করেন যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ স্থানীয় শিল্পকে যে করপোরেট শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে সেই একই সুবিধা ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোকেও দেওয়ার আবেদন জানিয়ে ড. লিয়াম বলেন, এটি করলে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

চিঠিতে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসীর কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এসব অভিবাসী দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করছে। তারা এখন বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যও শুরু করেছে। এ অবস্থায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ব্যবসায়ীদের রপ্তানি সহায়তার সীমা (এক্সপোর্ট ফিন্যান্স) ১৫০ মিলিয়ন ইউরো থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ মিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত করেছে বলেও জানানো হয় চিঠিতে।


আপনার মন্তব্য