শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৫৪

মাটির নিচে পুরো ভবন উপরে সবুজের ছাউনি

গৌতমাশিস গুহ সরকার, গাইবান্ধা

মাটির নিচে পুরো ভবন উপরে সবুজের ছাউনি
গাইবান্ধা-বালাসী সড়কের পাশে ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ফ্রেন্ডশিপের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারজুড়ে সবুজের হাতছানি -বাংলাদেশ প্রতিদিন

দূর থেকে দেখলে মনে হয় সবুজে আচ্ছাদিত একটি ভবন। পুরো ভবনটি মাটির নিচে কিন্তু ছাদ সবুজে আচ্ছাদিত। স্থাপত্য শিল্পের এক অনবদ্য সৃষ্টি। দেশে এটিই একমাত্র ভবন, যা মাটির নিচে গড়ে তোলা হয়েছে। গাইবান্ধা শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে গাইবান্ধা-বালাসী সড়কের পাশে ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ফ্রেন্ডশিপের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার’। এ ভবন দেখতে অনেকটা প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের মতো। এর নির্মাণশৈলীর অনুপ্রেরণাও প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার থেকে নেওয়া। ভবনের ছাদ আর ভূপৃষ্ঠ প্রায় সমান্তরাল। ২০১১ সালে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ বিঘা এলাকায় ‘ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার’-এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। প্রায় দুই বছর সময় লাগে এটি নির্মাণে। ফ্রেন্ডশিপ এনজিও চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবাসহ মানুষের জন্য নানা রকম কাজ করে। তাই ব্রহ্মপুত্র নদের কাছাকাছি মদনের পাড়া গ্রামে তাদের এ সেন্টার গড়ে তোলেন তারা। তাদের মতে, স্থাপনাটি গ্রামে হওয়ার কারণে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ না করে গ্রামের পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এমনভাবে নকশা তৈরি করা হয়েছে, যা একটি বড় সবুজ মাঠের অংশ বলেই মনে হয়। জমি নিচু হওয়ায় পানি আটকাতে চারদিকে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। নিরিবিলি ও শান্ত পরিবেশ তৈরি এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভবনের ছাদ সবুজ ঘাসে ঢাকা ও কক্ষগুলো মাটির নিচে থাকায় প্রাকৃতিকভাবেই এখানে ঠা া পরিবেশ। পুরো সেন্টারে দুটি ব্লক রয়েছে। ‘ক’ ব্লকে অফিস, ট্রেনিং  সেন্টার ও লাইব্রেরি। ‘খ’ ব্লকে আবাসন। পুরো নির্মাণ এলাকা ২৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন- লাইব্রেরি, এডমিন রুম, রিসিপশন, পার্কিং ইত্যাদি। প্রতিটি ব্লকের উচ্চতা সমান। ভবন এলাকায় ৪টি জলাধার (ওয়াটার পুল) আছে। দৃষ্টিনন্দন গাছগুলো এর সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে। পুরো ভবনে স্থানীয়ভাবে তৈরি ইট আর সিমেন্টের গাঁথুনি, প্লাস্টার ব্যবহার হয়নি। ছাদে যেন পানি জমতে না পারে সেজন্য ছাদজুড়ে রয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এ ভবনের ভিতরে প্রবেশ করতে গেলে রাস্তার পাশে মূল গেট দিয়ে ঢুকে তারপর লাল ইটের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে  যেতে হয়। এখানে দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটিতে ২০০ জন প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। এ ছাড়া আবাসিক কক্ষ রয়েছে ২৪টি। যার ৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। কাঠের আসবাবে সাজানো একটি ডাইনিং হলে একসঙ্গে ৭০ জন খাবার খেতে পারেন। ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের ম্যানেজার লোকমান হোসেন জানান, সেন্টারটির স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরী। ২০১৬ সালে বিশ্বের সম্মানজনক আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার ‘আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার’ লাভ করে এই স্থাপনাটি। ইনস্টিটিউট অ্যান্ড কালচার ক্যাটাগরিতে সেরা স্থাপত্যকর্ম হিসেবে পুরস্কৃত হয় এটি। যে কাজে ব্যবহৃত হয় : এটিতে প্রধানত ফ্রেন্ডশিপ এনজিওর বিভিন্ন প্রকল্প যেমন- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গুড গভর্নেন্স, দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মী ও উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সভা, সেমিনার, কর্মশালার কাজও চলে। এর বাইরের অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠান এটি ভাড়া নিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সভা ইত্যাদি করতে পারে।

যেভাবে যেতে হয় : ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়া গ্রামে অবস্থিত। গাইবান্ধা-বালাসী সড়কপথে এখানে যেতে হয়। গাইবান্ধা শহর থেকে অটো বা সিএনজিচালিত রিকশায় ২০ টাকা ভাড়া পড়ে। এখানে বেশির ভাগ সময় প্রশিক্ষণের কারণে বিদেশিরা অবস্থান করেন। সে কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকে। তাই কেন্দ্রটি দেখতে চাইলে আগ্রহীরা আগে থেকেই সেন্টারের ম্যানেজার লোকমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিলে প্রবেশে কোনো ঝামেলা থাকে না। এ ছাড়া সরাসরি প্রবেশদ্বারে এসেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি চাওয়া যায়, তবে সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক অনুমতি সবসময় পাওয়া যায় না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর