Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:২৬

৫০ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানির হাতছানি

ফতুল্লা বিসিক

রোমান চৌধুরী সুমন, নারায়ণগঞ্জ

৫০ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানির হাতছানি

নিটওয়্যার পণ্য (গেঞ্জি ও টিশার্ট) রপ্তানিতে দেশের সিংহভাগ স্থান দখল করে আছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটি বিসিক। বছরে অন্তত বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয় এখান থেকে। এখানে নিটপণ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ডাইং ফ্যাক্টরি, রং কারখানা, কেমিক্যাল সুতা, বোতাম ও কার্টুনের নানা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, ওভেন আইটেমের পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতারা অন্যান্য সামগ্রীর ৬৫-৭০ ভাগ বিদেশ থেকেই  পাঠিয়ে দেন। আর নিটপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৮০ ভাগ অন্যান্য সামগ্রী উৎপাদিত হয় দেশেই। এতে দেশীয় অ্যাকসেসরিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো চলছে দেদার। বাড়ছে কর্মসংস্থান। এ ছাড়া পঞ্চবটি বিসিকে প্রায় ৫০০ নিট কারখানায় চাকরি করছেন ৩-৪ লাখ শ্রমিক। বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পঞ্চবটি বিসিকের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ খাতটির প্রতি অযত্ন-অবহেলার যেন শেষ নেই। সমস্যারও অন্ত নেই। শিল্পোদ্যোক্তাদের আশাবাদ, এ খাতটির প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা সমাধানে সরকার উদ্যোগ নিলে শুধু পঞ্চবটি বিসিক থেকেই বছরে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা দেখা দেবে। দেখা দেবে সম্ভাবনার হাতছানি। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীর যোগাযোগব্যবস্থায় রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। পণ্য বহনের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মোক্তারপুর-মুন্সীগঞ্জ মূল সড়কটি বিসিক এলাকায় মাত্র ১৮ ফিট প্রশস্ত। উঁচু-নিচু ভগ্ন রাস্তা যেন ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার ফাঁদ। প্রায় সময় পণ্যবাহী যানের ম্প্রিং ভেঙে বিকল হয়ে পড়ে থাকে। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। পুরো বিসিকের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অলিগলির যত্রতত্র পড়ে আছে বর্জ্য। নেই কোনো নির্দিষ্ট ডাস্টবিন। বৃষ্টির দিন কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে নোংরা এক পরিবেশ। উৎপাদন ক্ষেত্রে অপরিহার্য গ্যাসে রয়েছে তীব্র সংকট। গ্যাসের চাহিদামতো প্রেসার না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। ডাইংগুলোয় ওয়াসা চাহিদার ১৫ ভাগ পানি সরবরাহ করতে পারলেও নিচ্ছে পানির বিল। নিচ্ছে ডিপ বসানোর ট্যাক্স। রয়েছে প্রভাবশালীদের ওয়েস্টেজ ব্যবসার অজুহাতে জিম্মি করে শিল্পে চাঁদাবাজি। বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ওয়েস্টেজ না দিলেই নির্দিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ধেয়ে আসে শ্রমিক অসন্তোষ। বেশ কয়েকজন শ্রমিকনেতা নেপথ্যে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করেন এ সেক্টর। জানা যায়, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) পরিসখ্যানে রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পের সংখ্যা দেড় হাজার। এর ৬০ ভাগই নারায়ণগঞ্জে, বাকিগুলো গাজীপুর ও চট্টগ্রামে অবস্থিত। বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি আসলাম সানী জানান, পঞ্চবটি বিসিকটি থেকে বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করছে নিটশিল্প। কিন্তু সেই বিসিকের পণ্য বহনের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মোক্তারপুর-মুন্সীগঞ্জ সড়কটি বিসিক এলাকায় মাত্র ১৮ ফিট প্রশস্ত। এখানে প্রয়োজন অন্তত ৪০ ফিট রাস্তা। এখানে যানজট লেগেই থাকে। এর মধ্যে রাস্তা ভাঙা। তিনি বলেন, একটি চক্র এখানে শত কোটি টাকার ওয়েস্টেজ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে প্রায় কৃত্রিম শ্রমিক আন্দোলন সৃষ্টি করে থাকে। এরা কম মূল্যে ব্যবসা করতে না পারলেই শ্রমিক আন্দোলন লাগিয়ে দেয়। পরে রফাদফার নাম করে শিল্পকারখানা থেকে মোটা অঙ্কের ম্যানেজ মানি নিয়ে থাকে বলে চাউর আছে। এ বিষয়ে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, এখানে প্রায় ৫০০ নিট কারখানা রয়েছে; যা সারা দেশের মোট নিট কারখানার এক-তৃতীয়াংশ। এর বাইরে ওভেন গার্মেন্ট, নিটিং শিল্প আছে। এখান থেকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। কিন্তু সমস্যার কথা বললে শুরু হবে তো শেষ হবে না। ভাঙা সরু রাস্তা, পানি না দিয়ে ওয়াসার বিল নেওয়া, পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকা, ময়লা ফেলার জায়গা না থাকা; এ ছাড়া রয়েছে নীরব চাঁদাবাজি। অবকাঠামোগত সমস্যাও ব্যাপক। তিনি জানান, এত সমস্যা দেখলে বিদেশি ক্রেতারা ফিরে যাবে। এ কারণে বেশ কয়েকটি নিট কারখানা বিদেশি ক্রেতাদের হেলিকপ্টারে বহন করে ছাদে থাকা হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। আবার সেখান থেকেই নিয়ে যায়। কারণ এ পরিবেশ দেখলে অর্ডার প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। কিন্তু এ সামর্থ্য সবার নেই। নিট খাতের সব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে পঞ্চবটি বিসিক থেকে বর্তমানে ৩২ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। সমাধান হলে এ রপ্তানি ৫০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব বলে আমি নিশ্চিত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর