শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৭

সম্মেলন কাল

নেতৃত্বে চমক আসছে শ্রমিক লীগেও

রফিকুল ইসলাম রনি

নেতৃত্বে চমক আসছে শ্রমিক লীগেও

কৃষক লীগের মতো নেতৃত্বের চমক আসছে জাতীয় শ্রমিক লীগেও। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ পদে আসতে জোর দৌড়ঝাঁপ করছেন পদপ্রত্যাশীরা। তারা যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অফিস বা বাসা-বাড়িতে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে বিকালে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে করছেন শোডাউন। প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন তারা নানা মাধ্যমে। আগামীকাল বেলা ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতারা বলছেন, চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য, দক্ষ এবং পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মাঠের নেতা, বঞ্চিত পরিচ্ছন্ন নেতাদের শীর্ষ পদে বসানো হচ্ছে। কৃষক লীগের ন্যায় জাতীয় শ্রমিক লীগেও নতুন নেতৃত্ব আসছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। দেশের বৃহৎ শ্রমিক সংগঠনটির ৭৮টি জেলা ইউনিট ছাড়াও এর রয়েছে অনেক শাখা সংগঠন। রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ, বিএডিসি, ওয়াসা সিবিএ, বিসিআইসি, ঘাট শ্রমিক লীগ, চা-শ্রমিক লীগ, রিকশা-ভ্যান, মোটর-শ্রমিক, বাস পরিবহন, ট্রাক-লরি, ভূমিসহ আরও বেশকিছু শ্রমিক সংগঠন। এসব সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের নিয়ন্ত্রণে। সূত্রমতে, সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে। গত বছরে কোনো জেলায় সম্মেলন করে কমিটি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি হয়েছে, আবার ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এক জেলায় একাধিক কমিটিও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও শ্রমিক লীগের জাতীয় কমিটি হয়নি। সংগঠনকে শক্তিশালী না করা ও একই জেলা-উপজেলায় একাধিক কমিটি করার অভিযোগ আছে। সে কারণে সরে যেতে হতে পারে বর্তমান সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামকে। জানা গেছে, সভাপতি পদে জোর আলোচনায় আছেন হাবিবুর রহমান আকন্দ, ইসরাফিল আলম এমপি, ফজলুল হক মন্টু, মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, আমিনুল হক ফারুকসহ অনেকে।  সাধারণ সম্পাদক পদে জোর আলোচনায় হুমায়ুন কবির, মো. আলাউদ্দিন মিয়া, শাহাবুদ্দিন মিয়া, আহসান হাবীব মোল্লা, আবদুল হালিমসহ একাধিক শ্রমিক নেতা। সভাপতি পদপ্রত্যাশী হাবিবুর রহমান আকন্দ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ১/১১ এর সময় শেখ হাসিনার কারামুক্তি আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণসহ শ্রমিক প্রতিনিধি, সব শ্রমিক সংগঠনের নেতা হিসেবে বিবৃতি ও সংগঠিত করণে দায়িত্ব পালন করেছি। সভাপতি পদে আলোচনা থাকা ইসরাফিল আলম ইতিপূর্বে ১৬ বছর ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নেত্রী যদি আমাকে দায়িত্ব দেন তাহলে আমি পালন করব। সভাপতি পদপ্রত্যাশী আবদুল মতিন মাস্টার বলেন, নেত্রী আমাকে দায়িত্ব দিলে তা পালন করব। ফজলুল হক মন্টু শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি। একাধিকবার শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. আলাউদ্দিন মিয়া জাতীয় শ্রমিক লীগের শিক্ষা ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের মহাসচিব (কল্যাণ ও পুনর্বাসন) ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সেক্টরে শ্রমিকদের সংগঠিত করেছি। সংগঠনের অভিভাবক শেখ হাসিনা আমাকে পদে বসালে অর্পিত দায়িত্ব পালন করব। পদের দৌড়ে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লা। তিনি বলেন, ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আমি। নেত্রী যে পদে দেবেন সেখানেই কাজ করতে চাই। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদকে সভাপতি ও শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়।


আপনার মন্তব্য