শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৮

জাগছে ডুবোচর মরছে নদী

নদীর কান্না

রাহাত খান, বরিশাল

জাগছে ডুবোচর মরছে নদী
চর পড়ে যাচ্ছে বরিশাল-ভোলা নৌরুটের সাহেবের হাট চ্যানেলে -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বরিশাল থেকে দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জ এবং ভোলা ও পটুয়াখালীর ১০ উপজেলায় কম সময়ে নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সাহেবের হাট’ চ্যানেলটি মরে যাচ্ছে। কীর্তনখোলা নদী থেকে পুবে আড়িয়াল খাঁ নদের লাহার হাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ চ্যানেলটির বাঁকে বাঁকে ডুবোচর জেগেছে। কয়েকটি পয়েন্টে পলি জমে নাব্যসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ কারণে ভাটার সময়ও সমস্যা হচ্ছে নৌ চলাচলে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাহেবের হাট চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেলে বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীর ১০ উপজেলায় নৌপথে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনে ভোগান্তির পাশাপাশি নৌপরিবহন ব্যয়ও বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়বে চ্যানেলটির দুই তীরের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি। বিআইডব্লিউটিএর তালিকাভুক্ত নৌপথ হলেও সাহেবের হাট চ্যানেল সচল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই কর্তৃপক্ষের। বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, দুই বছর আগে চ্যানেলটির বিভিন্ন অংশ ড্রেজিং করা হয়েছিল। নৌযান মালিকরা খননের জন্য চাহিদাপত্র না দিলে বিআইডব্লিউটিএ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ড্রেজিংয়ের জন্য চাহিদাপত্র পাঠাতে পারে না। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (যাত্রী) বরিশাল শাখার সদস্য, সুরভী নেভিগেশনের পরিচালক রিয়াজ উল কবির বলেন, ‘একসময় সাহেবের হাট চ্যানেল দিয়ে প্রতিদিন অর্ধশত যাত্রীবাহী লঞ্চ ও শত শত পণ্যবাহী নৌযান চলত। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পরও এখন দিনে ২০-২৫টি যাত্রীবাহী ও শতাধিক পণ্যবাহী নৌযান যাতায়াত করে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেলটি পলি পড়ে নাব্যসংকটে পড়লেও বিআইডব্লিউটিএ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’ সংস্থার বরিশাল শাখার সাবেক সভাপতি আজিজুল হক আক্কাস বলেন, ‘চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেলে হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ এবং ভোলা ও পটুয়াখালীর ১০ উপজেলার সঙ্গে নৌপথে সহজ যোগাযোগ বিঘিœত হবে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ ও ব্যয় বাড়বে।’ বরিশাল-ভোলা রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি সঞ্চিতার সুকানি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আগে সাহেবের হাট খাড়ি (নদী) অনেক গভীর ছিল। এখন বিভিন্ন বাঁকে নদী মরে গেছে।’ সাহেবের হাট চ্যানেল ঘুরে দেখা গেছে কীর্তনখোলার বিশ্বাসের হাট পয়েন্ট দিয়ে ঢুকতেই দুই তীরে চর জেগে সরু হয়ে গেছে চ্যানেলটি। একই অবস্থা সাহেবের হাট, টুঙ্গিবাড়িয়া মোড়, চরকেউটিয়া ও মিয়ার হাট পয়েন্টে। টুঙ্গিবাড়িয়া-চরকেউটিয়া পয়েন্টের খেয়ামাঝি বশিরুল হক বলেন, ‘ভাটার সময় মিয়ার হাট, টুঙ্গিবাড়িয়া ও বুখাইনগর পয়েন্টে বাঁশ দিয়ে পানি মেপে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পণ্যবাহী জাহাজ চালানো হয়। পানি বেশি কমলে অনেক সময় খেয়ানৌকাও ডুবোচরে আটকে যায়।’ বরিশাল নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্যসচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘সাহেবের হাট চ্যানেলটি কীর্তনখোলা ও আড়িয়াল খাঁর মধ্যে সহজ সংযোগ স্থাপন করেছে। এ চ্যানেলটি দিয়ে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়। চ্যানেলটি বন্ধ হলে বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌপথে বিপর্যয় নেমে আসবে।’ বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর যুগ্মপরিচালক (নৌপথ সংরক্ষণ ও পরিচালন) এস এম আজগর আলী বলেন, ‘সাহেবের হাট চ্যানেলটি সর্বশেষ ২০১৭ সালে খনন করা হয়েছিল। চ্যানেলটি অনেক চাপা (সরু)। নৌযানগুলো মূল খাড়িতে (গভীর জায়গা) না চলে পাশ দিয়ে চলাচল করলে ভাটার সময় কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তবে সমস্যা অতটা গুরুতর নয়।’ তার পরও তিনি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নৌযান পাইলটদের সঙ্গে কথা বলে ড্রেজিং বিভাগ থেকে সার্ভে করিয়ে চ্যানেলটির বর্তমান অবস্থা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর