শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০২

শহীদদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি

-আমান উল্লাহ আমান

শহীদদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি

নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও ছাত্রদলের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে গণতন্ত্র আমরা পেয়েছিলাম, তা ধরে রাখতে পারিনি। শহীদদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ। তা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণতন্ত্র আজ ভূলুণ্ঠিত। মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গতকাল বিকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, আজ দেশে জনগণের ভোটাধিকার নেই, গণতান্ত্রিক ও মানুষের মৌলিক অধিকার নেই। সাংবাদিকদের লেখনীর স্বাধীনতা নেই। সাগর-রুনির হত্যার বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। এখন অঘোষিত একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান প্রয়োজন। এর মধ্য দিয়ে নতুন স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা হলেই শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান বলেন, সংবিধান স্থগিত করে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এইচ এম এরশাদ ক্ষমতায় আসেন। ওই সময়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদ শুরু করে। কিন্তু তাকে বৈধতা দেন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলে ফেলেন আই অ্যাম নট আন হ্যাপি। যখনই এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে তখনই আওয়ামী লীগ নেত্রী তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ’৮৬-এর নির্বাচনে কোনো দল যখন না যাওয়ার ঘোষণা দেয়, ১৫ দল আন্দোলন গড়ে তোলে; হঠাৎ করে শেখ হাসিনা ভোটে অংশ নেন। ভেঙে যায় ১৫ দল। সাত দল আর আট দল হয়ে যায়। এ জন্য তার পতন একটু দীর্ঘায়িত হয়। এ জন্য অনেককে রক্ত দিতে হয়। তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। সচিবালয় ঘেরাও করে। আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ছাত্র-জনতা সেদিন সচিবালয়ের ইট খুলে নেয়, ওয়াল ভেঙে ফেলে। একপর্যায়ে এরশাদ সরকার কারফিউ জারি করে।

সাবেক ছাত্রনেতা আমান উল্লাহ আমান বলেন, এরশাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ছাত্রনেতা জেহাদও শহীদ হন। এরপর ১০ মিনিটের মধ্যে ডাকসু ভবনে বসে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। আবারও আন্দোলন ত্বরান্বিত হয়। সেদিন ডাকসু ভিপি হিসেবে আমি নিজেই শপথ পড়িয়েছিলাম। শপথের মধ্য দিয়েই সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ’৯০ সালের ১০ অক্টোবর জেহাদ শহীন হন। পরে আমরাও আহত হলাম, হাসপাতালে গেলাম। এ প্রেক্ষাপটে ২৭ নভেম্বর ডা. মিলন শহীন হন। একপর্যায়ে চিকিৎসকসহ সব পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী আন্দোলনে শরিক হন। এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর