শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩৮

পাঁচ ধাপের পৌরসভা নির্বাচন

আওয়ামী লীগ ১৮৫ বিএনপি ১১ স্বতন্ত্র ৩২

গড়ে ভোট পড়েছে ৬৪.৬৬ শতাংশ, পঞ্চম ধাপে ৫৮.৬৭

গোলাম রাব্বানী

আওয়ামী লীগ ১৮৫ বিএনপি ১১ স্বতন্ত্র ৩২

পাঁচ বছর আগে প্রথম দলীয় প্রতীকের পৌরসভা নির্বাচনে ৭৩.৯২ ভাগ ভোট পড়েছিল। এবার পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে গড়ে ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ ধাপে এ নির্বাচন হয়। তিন শতাধিক পৌরসভার মধ্যে পাঁচ ধাপে ২৩০টির বেশি পৌরসভার ভোট হয়েছে। দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ায় অন্তত এক ডজন দলের প্রার্থী মেয়র পদে লড়েছে। মূল লড়াই হয়েছে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে। এ দুটি দলের মনোনয়ন বঞ্চিতদের অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল। ২৩০ পৌরসভার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয় পেয়েছেন ১৮৫ পৌরসভায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৩২ পৌরসভায়। বিএনপির ধানের শীষের ১১ জন প্রার্থী, জাতীয় পার্টির একজন ও জাসদের একজন প্রার্থী বিজয়ী হন। ইভিএম ও ব্যালট পেপারে ভোট হয় এবার। গোলযোগ-সহিংসতা ও দখলের অভিযোগের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবরই দাবি করে এসেছে, সুষ্ঠু ও ভালো ভোট হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, ২৮ ডিসেম্বরের প্রথম ধাপে ভোট পড়ে ৬৫.২৫ ভাগ; ১৬ জানুয়ারির দ্বিতীয় ধাপে পড়ে ৬৩.৬৭ ভাগ; ৩০ জানুয়ারির তৃতীয় ধাপে ৭০.৪২ ভাগ; ১৪ ফেব্রুয়ারির চতুর্থ ধাপে ৬৫.৩৩ ভাগ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির পঞ্চম ধাপে ৫৮.৬৭ ভাগ ভোট পড়েছে। ১১ এপ্রিল ষষ্ঠধাপে ৯ পৌরসভার ভোট রয়েছে।

পাঁচ বছর আগে কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ নেতৃত্বাধীন এক দিনে পৌরসভায় যে ভোট হয় তাতে দলীয় প্রতীকে মেয়র পদের নির্বাচনে ৭৩.৯২% ভোট পড়ে। ২০১১ সালে এ টি এম শামসুল হুদা কমিশনের অধীনে গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ ভোট পড়ে। কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির অধীনে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম হওয়া নিয়ে বরাবরই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে গোলযোগ ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সমালোচনা করেছেন। তবে গড় উপস্থিতি বাড়ায় সন্তুষ্টিও ছিল।

পঞ্চম ধাপে ৫৯ ভাগ : রবিবার পঞ্চম ধাপের পৌরসভার নির্বাচন হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ২৮ জন, বিএনপির একজন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দুজন জয় পান। ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মিজানুর রহমান জানান, এ নির্বাচনে মেয়র পদে ভোট পড়েছে ৫৮.৬৭ ভাগ। এ ধাপে ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮২০ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৩ জন। এ ধাপে ইভিএমে সর্বোচ্চ ভোট পড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ৮১.৫৪ ভাগ ও সর্বনিম্ন ভোট পড়ে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৪৩.৭৬ ভাগ।

আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয় : ইসি কর্মকর্তারা জানান, তিন শতাধিক পৌরসভার মধ্যে পাঁচ ধাপে ২৩০টির বেশি পৌরসভার ভোট হয়েছে। দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ায় অন্তত এক ডজন দলের প্রার্থী মেয়র পদে লড়েছে। মূল লড়াই হয়েছে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে। এ দুটি দলের মনোনয়ন বঞ্চিতদের অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল। ২৩০ পৌরসভার চূড়ান্ত ফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, নৌকা প্রতীকের ১৮৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩২ জন, বিএনপির ১১ জন, জাতীয় পার্টির একজন ও জাসদের একজন প্রার্থী জয় পেয়ছেন। প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে ১৯ জন, বিএনপির ধানের শীষের দুজন এবং তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হন। দ্বিতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের ৪৬ জন, বিএনপির চারজন, জাতীয় পার্টির একজন, জাসদের একজন ও আটজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হন। তৃতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের ৪৬ জন, বিএনপির তিনজন ও স্বতন্ত্র ১৪ জন বিজয়ী হন। চতুর্থ ধাপে আওয়ামী লীগের ৪৬ জন, বিএনপির একজন ও পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। সবশেষ পঞ্চম ধাপে আওয়ামী লীগের ২৮ জন, বিএনপির একজন ও স্বতন্ত্র দুজন জয় পান। এবার পৌর নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, এখন নির্বাচনগুলো ‘এককেন্দ্রিক’ হয়ে যাচ্ছে। এককেন্দ্রিক নির্বাচন বহুদলীয় গণতন্ত্রের উপাদান হতে পারে না। ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার পৌর নির্বাচন উৎসবমুখর হয়েছে বলে জানান। পৌরসভা নির্বাচনেও ইসি সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে রবিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তার দল আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবে না। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন সব সময় চায়, প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আমাদের কাছে যে সহযোগিতা চাইবেন, নির্বাচন কমিশন সে বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করবে। ৩ মার্চ ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। পাঁচ বছর আগে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে মনোনয়নে ভোটে আওয়ামী লীগ পায় ১৭৭টি, আর বিএনপির প্রার্থীরা ২২টিতে জয় পেয়েছে। ২০১১ সালে ভোটে ৯৬টিতে জয় পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা। সে সময় বিরোধী দল বিএনপির প্রার্থীরা জয় পায় ৯৪টিতে।


আপনার মন্তব্য