শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২৫

টেক্সাসে ছয় লাশ

মা বাবা বোন নানির পাশে দুই ঘাতক ভাইকে ঠাঁই নিতে দিল না কবরের পানি

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

Google News

শেষ পর্যন্ত মা-বাবা-বোন আর নানির পাশে কবর হয়নি ঘাতক দুই ভাইয়ের। পরিকল্পনা অনুযায়ী পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়ার পর পঞ্চম ও ষষ্ঠটি খোঁড়ার সময় পানিতে ভরে যায় এ দুটি। শত চেষ্টা করেও পানি সরানো সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় বেশ কিছু দূরে শুকনা কবরের জায়গা খুঁজে সেখানেই দাফন করা হয়েছে তানভির তৌহিদ (২১) এবং তার ছোট ভাই ফারহান তৌহিদকে (১৯)। গত ৮ এপ্রিল বিকালে টেক্সাস স্টেটের ডালাস সিটি সংলগ্ন এলেন সিটির অদূরে ডেন্টন মুসলিম গোরস্তানে এই কবর দেওয়ার সময় দুই সহস্রাধিক শোকার্ত মানুষ জড়ো হন। তাদের আহাজারিতে পুরো এলাকা থমকে যায়। শোকে স্তব্ধ কমিউনিটির সঙ্গে জানাজা এবং দাফনের সময় শত শত আমেরিকানও আসেন। এলেন ইসলামিক সেন্টারে ৬ জনের জানাজা শেষে কফিনবাহী গাড়িকে স্কর্ট করে গোরস্তান পর্যন্ত নিয়ে যায় এলেন সিটির পুলিশ। কফিনের মিছিল অনুসরণ করে দুই হাজার মানুষের হাজারখানেক গাড়ি। দাফনের পর কবরে ফুলগাছ লাগানো হয়। অনেকে শেষ বিদায়ের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশি আমেরিকান এই পরিবারের ৬ সদস্যের গুলিবিদ্ধ লাশের হদিস মেলে গত সোমবার ভোররাতে। এলেন সিটির ১৫১৭ পাইন ব্লাফ ড্রাইভের বাসায় তৌহিদুল ইসলাম (৫৪), তার স্ত্রী আইরিন ইসলাম (৫৬), কন্যা পারভিন তৌহিদ (১৯) শাশুড়ি আলফাতুন্নেসা, দুই পুত্র তানভির এবং ফারহানকে নিয়ে বাস করতেন। এদেরই লাশ উদ্ধারের পর ফারহানের ইন্সট্রগ্রামে পোস্টিংয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, মানসিক বিষণœতায় আক্রান্ত ফারহানের পরামর্শে বড়ভাই তানভির সম্মত হন পরিবারের সবাইকে হত্যার পর নিজেরাও আত্মহত্যা করবেন। এ ব্যাপারে ফারহান তার দীর্ঘ পোস্টিংয়ে উল্লেখ করেন, ‘আমি যদি আত্মহত্যা করি তাহলে পরিবারের সবাই সারাটি জীবন কষ্ট পাবেন। তাই সবাই যদি একসঙ্গে মরে যেতে পারি তাহলে দুঃখ পাবার কেউই থাকবে না।’ ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসক এবং পুলিশ জানান, দুই ভাই মা-বাবা-বোন-নানিকে দুই রাউন্ড করে গুলি চালিয়ে হত্যা করেন। আর আত্মহত্যায় ব্যবহার করা হয় দুজনের জন্য দুই রাউন্ড বুলেট। মোট ১০টি বুলেটে ৬টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে।

পুরান ঢাকার সন্তান তৌহিদ ডিভি লটারিতে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে এসে কয়েক বছর নিউইয়র্কে কাটিয়ে ৮ বছর আগে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন এলেন সিটিতে। সর্বশেষ পেশায় ছিলেন সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে। দুই পুত্র পড়ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে। একমাত্র কন্যাটি পড়ছিলেন ফুল স্কলারশিপে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে ধীর পায়ে এগুচ্ছিলেন তৌহিদ। কিন্তু মাঝপথে থামিয়ে দিল মানসিক বিকারগ্রস্ত দুই পুত্র।

এই বিভাগের আরও খবর