শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ আগস্ট, ২০২১ ২৩:৩১

পুলিশ ব্যারাকে লাশটি ছিল কবিরাজের

মির্জা মেহেদী তমাল

পুলিশ ব্যারাকে লাশটি ছিল কবিরাজের
Google News

রাজারবাগ ট্রাফিক পুলিশের ব্যারাক থেকে মস্তকবিহীন একটি লাশ উদ্ধার হয়। এ নিয়ে আতংক তখন ব্যারাকে। পুলিশকে ভাবিয়ে তোলে লাশ উদ্ধারের বিষয়টি। পুলিশ লাশের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হয়, লাশটি কোনো পুলিশ সদস্যের নয়। তবে কার? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পুলিশ মাঠে নামে। ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি রাজারবাগ ট্রাফিক পুলিশের ব্যারাকের ছাদ থেকে নান্নু কবিরাজের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের সুরক্ষিত জায়গায় রোমহর্ষক এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গঠন করা হয় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি।

পরদিন সংবাদমাধ্যমে খবর দেখে যশোর থেকে রাজারবাগে এসে স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেন। তার নাম আবদুল জলিল নান্নু। তিনি একজন কবিরাজ। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হয় ব্যারাকে থাকা কনস্টেবল শওকত হোসেনকে। পরে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে নিহত ব্যক্তির মাথা রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারির।  পল্টন থানা পুলিশ শওকতকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। বেরিয়ে আসে খুনের পেছনের কথা। পরে এ ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আটক পুলিশ কনস্টেবল শওকত। শওকত একাই আবদুল জলিল ওরফে নান্নু কবিরাজকে খুন করার কথা স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তার স্ত্রী আগে থেকেই অন্য পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। স্ত্রী যশোরে থাকতেন। শওকত থাকতেন ঢাকায়। স্ত্রীকে পরকীয়া মুক্ত করতে মানুষের কথায় তাকে যশোরের নান্নু কবিরাজের কাছে ঝাড়ফুঁক করার জন্য নিয়ে যান। এরপর শওকত ঢাকায় চলে আসলেও তার স্ত্রী নিয়মিত ঝাড়ফুঁক নিতে নান্নু কবিরাজের কাছে যেতেন। পরকীয়া ছাড়াতে গিয়ে নান্নু কবিরাজের সঙ্গেই ফের পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তার স্ত্রী। শওকত বিষয়টি টের পেয়ে এক দিন রাতে গোপনে যশোর গেলে নিজ বাসায় নান্নু কবিরাজের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন। কিছুদিন পর নান্নু কবিরাজ ঢাকায় এসে শওকতের সঙ্গে দেখা করে কবিরাজির ফিস (সম্মানী) চান। এতে শওকত ক্ষুব্ধ হয়ে রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাকের ছাদে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নান্নু কবিরাজ বেশ শক্তিশালী হওয়ায় শওকত তাকে ধাক্কা দিতে পারেননি। পরে আগে থেকেই কোমরে গুঁজে রাখা ছুরি বের করে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে নান্নু পড়ে যান। পরে শওকত নান্নু কবিরাজের মাথা কেটে ফেলেন।

এই বিভাগের আরও খবর