শিরোনাম
শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

ভোটের মাঠে তিন নির্বাচন কমিশনার

আমরা কোনো চাপে বিশ্বাসী না : ইসি রাশেদা - বিএনপি ভোটে এলে তফসিল পেছানোর সুযোগ আছে : ইসি আনিছুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোটের মাঠে তিন নির্বাচন কমিশনার

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ দেখতে জেলায় জেলায় সফর করছেন নির্বাচন কমিশনাররা। এ সময় তারা রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। গতকাল নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান সিলেটে বলেছেন, একটি দল নির্বাচনে এলে নির্বাচনের তারিখ পেছানোর বিষয় বিবেচনা করা যাবে। পাশাপাশি চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ বিঘিœত হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা দিনাজপুরে বলেছেন, আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমরা কোনো চাপে বিশ্বাসী না। নির্বাচন কমিশন সংবিধান সমুন্নত রেখে নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনি পরিবেশ ভালো আছে।

এদিকে ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান চার দিনের সফরে জেলায় জেলায় যাচ্ছেন। চার দিনে তিনি ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও খুলনায় তিনি রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা সফর করবেন। তিনি রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

গতকাল তিনি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার রিটার্নিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা করেছেন। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান গতকাল সিলেট জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে মতবিনিময় করেছেন। ২৮ নভেম্বর তিনি কক্সবাজার জেলা সফর করবেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশন কোনো চাপে বিশ্বাসী না বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রাশেদা সুলতানা। গতকাল সকালে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাশেদা সুলতানা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে একটি অবাধ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। এখানে  বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমরা কোনো চাপে বিশ্বাসী না। নির্বাচন কমিশন সংবিধান সমুন্নত রেখে নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনি পরিবেশ ভালো আছে। আশা করি আরও ভালো হবে। তিনি বলেন, সভায় চার জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন সুন্দর নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবাই একজোটভাবে কাজ করবেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাংবাদিকরাও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আরও বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তাই করবে নির্বাচন কমিশন এবং সেই নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী বাড়ি, রাস্তা, কেন্দ্র থেকে শুরু করে যে কোনো স্থানে কেউ যদি ভোটারদের কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তাকেই শাস্তির আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এই আইন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে স্বাধীনভাবে ভোটদানে ভোটারদের কোনো বাধা থাকছে না। সব ধরনের সহিংসতা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। ‘একটি দল’ নির্বাচনে এলে নির্বাচনের তারিখ পেছানোর বিষয় বিবেচনা করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান। গতকাল সিলেট জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আনিছুর রহমান বলেন, ‘তারা নির্বাচনে এলে আমরা বিবেচনা করব। আমাদের সুযোগ আছে পেছানোর। কারণ পরে যথেষ্ট সময় আছে। তবে এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকে ওই রকম পাইনি।’ সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, র?্যাব, পুলিশ, বিজিবির দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনার বলেন, শতভাগ রাজনৈতিক দল কখনো নির্বাচনে আসেনি। যদি অধিকাংশ দল অংশ নেয় সেখানেই নির্বাচনি আমেজ থাকে। তবে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান আগেও ছিল, এখনো আছে। বিএনপি না এলে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কারও জন্য অপেক্ষা করবে না, হয়ে যাবে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য নির্বাচন করতে হবে।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শতভাগ দল নিয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শতভাগ কখনোই আসেনি। ইতিহাস বলে। অধিকাংশ দল নির্বাচন করে, সেটাই তখন নির্বাচনি আমেজ চলে আসে। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বরাবরই আহ্বান জানাচ্ছি, আমাদের নিবন্ধিত ৪৪টা দলের সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। নির্বাচনি পরিবেশ সম্পর্কে এই ইসি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ বিঘ্ন হওয়ার মতো কিছু দেখছি না। যেহেতু একটা চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচি আছে, সেটাকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঘটনা হয়েছে। সেটার সঙ্গে নির্বাচনকে মেলানো ঠিক হবে না। এটা নির্বাচনকে উপলক্ষ করেই হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনি পরিবেশ বিঘ্ন করছে, এমন কিছু পরিলক্ষিত হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর