শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা
নতুন স্বাস্থ্যসেবা আইন

আইন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি সাত বছরেও

আরাফাত মুন্না

দেশের জনসাধারণের স্বাস্থ্য মান ও পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন, স্বল্প খরচে উন্নত কার্যকর চিকিৎসাসেবা লাভ এবং রোগী ও চিকিৎসকদের সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ‘স্বাস্থ্যসেবা আইন’ নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নের সুপারিশ করে আইন কমিশন। ওই সুপারিশে এই আইনের প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। তবে এরপর প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও ওই সুপারিশটি বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি স্বাস্থ্যসেবা আইন প্রণয়ন বিষয়ে পরিমার্জিত ও হালনাগাদ ধারণাপত্র, খসড়া আইন এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে নতুন করে ওই সুপারিশটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইন কমিশন সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব তথ্য জানিয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক এবং কমিশনের ওই সময়ের দুই সদস্য ড. এম শাহ আলম ও বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর স্বাক্ষরিত সুপারিশ ও খসড়া আইন ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের ওই খসড়ায় ১৪টি পরিচ্ছেদে মোট ৬৫টি ধারা সন্নিবেশিত করা হয়। তবে এত বছরেও ওই সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সম্প্রতি আবারও খসড়া আইন ও সুপারিশটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছে আইন কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রোগী ও ডাক্তার উভয়ের সুরক্ষা প্রদান সংক্রান্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি আইনের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হয়ে আসছে। স্টেক-হোল্ডারদের ধারাবাহিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ সম্পর্কিত একট পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের উদ্দেশে আমরা ২০১৪ সালে গবেষণা কর্যক্রম শুরু করি। তিনি বলেন, এরপর ২০১৭ সালে খসড়া আইনসহ এ সংক্রান্ত সুপারিশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। নানা কারণে তখন ওই সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিমার্জিত ও হালনাগাদ করে আমরা আবারও এটা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

খসড়া আইনটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীর অধিকার ও দায়-দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে। আইনের পাঁচ ধারায় যে কোনো স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীকে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র, মজুদ সাপেক্ষে বিনামূল্যে ওষুধ, বিনামূল্যে বা অনুমোদিত মূল্যে মানসম্মত খাবার ও পথ্য এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার বা আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা পাওয়ার অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ধারায় বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তিসহ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার বিধানাবলি, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিতকরণ ও তথ্য সংরক্ষণের বিষয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বিধান সন্নিবেশিত হয়েছে। খসড়া পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, আইনটির তৃতীয় পরিচ্ছেদে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি (চিকিৎসক), প্রতিষ্ঠান (হাসপাতাল, ক্লিনিক ইত্যাদি) এর অধিকার ও দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বিশদ আলোকপাত হয়েছে। বিশেষ করে আইনের ১২ ধারায় চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট দায়িত্বসমূহের উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে আইনের ১৩ ধারায় নার্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়ক কর্মচারী এবং ১৪ ধারায় চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের দায়দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে। আইনটির চতুর্থ পরিচ্ছেদে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ যে কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে রোগীর অধিকার সংরক্ষণের দায়দায়িত্ব নিরূপণ ও তার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বিধৃত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে রোগীর অধিকার সংরক্ষণের দায়দায়িত্ব নিরূপণ ও তার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বিধৃত হয়েছে।

খসড়া পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আইনটির নবম পরিচ্ছেদে চিকিৎসক, চিকিৎসা সহায়ক কর্মচারী ও চিকিৎসা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংঘটিত বিভিন্ন প্রকারের অবহেলা ও তার ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট ক্ষতিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই বিস্তারিত সংজ্ঞাসমূহ চিকিৎসা অবহেলার মতো একটি টেকনিক্যাল বিষয়কে স্পষ্টরূপে আইনি কাঠামোতে প্রতিষ্ঠা করেছে।

স্বাস্থ্যসেবা আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের উদ্দেশ্যে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান ও আইনে বর্ণিত অন্যান্য কার‌্যাবলি সম্পাদনের জন্য ‘জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কমিশন’ গঠন এর বিধান আইনটির দশম পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ গ্রহণের পাশাপাশি দেশের কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করার ক্ষমতা উক্ত কমিশনের রয়েছে। এ ছাড়া আইনটির একাদশ পরিচ্ছেদে এ আইনের লঙ্ঘনের ফলে সংঘটিত চিকিৎসা অবহেলা এবং তার ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নিরূপণ ও তার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়ের লক্ষ্যে দেশে এক বা একাধিক ‘স্বাস্থ্যসেবা বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনাল’ এর গঠনসহ উক্ত ট্রাইব্যুনালসমূহের কার্যপ্রণালি, তথা স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত অভিযোগ, তদন্ত, আপিল প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান সন্নিবেশিত হয়েছে। খসড়ায় আরও দেখা গেছে, এ আইনে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে বৈষম্যকরণ ও তার শাস্তি, রোগীর গোপনীয়তা নিশ্চিতকরণ, প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ফি নির্ধারণ, হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক বিধিবিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর