শিরোনাম
বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চার কোর্স নিয়ে অনিশ্চয়তা

♦ ভর্তি বন্ধ করতে বলেছে ইউজিসি ♦ কার্যক্রম চলমান রেখেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

আকতারুজ্জামান

গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামে চারটি বিষয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হয় গত বছরের জুলাইয়ে। এগুলো হলো- এলএলবি, বিবিএ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘মূল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করতে বলেছিল। আর ‘আইন মেনেই ভর্তি কার্যক্রম করা হচ্ছে’ জবাব দিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি চলতি ফেব্রুয়ারিতে ফের শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এবার এসব প্রোগ্রামের ব্যাপারে নির্দেশনা চেয়ে ইউজিসি চিঠি পাঠিয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর তথা রাষ্ট্রপতি বরাবর।

রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা আসার ওপর এখন নির্ভর করছে এই চার প্রোগ্রাম চলবে, কি চলবে না। আর ইউজিসি চেয়ারম্যান বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে চলা এই প্রোগ্রামগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

তথ্যমতে, এই চার প্রোগ্রামে গত বছর প্রথমবারের মতো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে। আর এই ‘ভর্তি আইনের লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে গাজীপুর মূল ক্যাম্পাসে কেন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে, এ মর্মে গত সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়টির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল ইউজিসি। ওই ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বিশ্ববিদ্যালয়টির মূল ক্যাম্পাসে স্নাতক প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এসব প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করতেও নির্দেশনা দেয় ইউজিসি। তবে ইউজিসিকে দেওয়া ব্যাখ্যায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল ‘গাজীপুরের মূল ক্যাম্পাসে স্নাতকে শিক্ষার্থী ভর্তির গৃহীত সিদ্ধান্ত আইনসংগত ও যথার্থ।’ গত বছর প্রথমবারের মতো চারটি বিষয়ে স্নাতক প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির পর চলতি মাসে ফের ছাত্র ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ফের সব ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতির কাছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চালু করা এই চার প্রোগ্রাম নিয়ে নির্দেশনা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ইউজিসি। চলতি মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়ে আচার্য তথা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানানো হয় রেজিস্ট্রারকে। এখন পর্যন্ত এ সম্পর্কিত রাষ্ট্রপতির কোনো নির্দেশনা পায়নি ইউজিসি। ইউজিসি সূত্র বলছে, কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে মূল ক্যাম্পাসে স্নাতক প্রোগ্রামে এরই মধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। চলমান ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষেও শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও সংবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা আইনি জটিলতার শিকার হবেন। এটি হবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কষ্টের কারণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এসব কোর্স বন্ধ করতে ইউজিসি যেসব বিধি-বিধান তুলে ধরেছে, সেক্ষেত্রে তারা কিছু খতিয়ে দেখেছে বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাদের যে বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি সেটি কাক্সিক্ষত নয়। শিক্ষার অভিভাবক হিসেবে তাদের উচিত শিক্ষার বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখা। আমরা যা করেছি শিক্ষার বিস্তারের জন্যই করেছি।’ উপাচার্য বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি এসব প্রোগ্রাম বন্ধ করতে বললে অবশ্যই আমরা বন্ধ রাখব। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অভিন্ন ভর্তি চালু ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের জন্য তো রাষ্ট্রপতি আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু সেগুলো তো তারা নিশ্চিত করতে পারেননি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব কোর্স বন্ধের জন্য ইউজিসির বক্তব্য শিক্ষার সম্প্রসারণ নীতির বিরোধী। এমনটি প্রত্যাশা করি না।’ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে স্নাতক কোর্স চলছে আইন লঙ্ঘন করে। এই কোর্সগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই চ্যান্সেলরের নির্দেশনা আসার আগ পর্যন্ত এসব কোর্সে ভর্তি বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’

সর্বশেষ খবর