শিরোনাম
শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৪ ০০:০০ টা

১৭৭ বিজিপি সদস্য ফেরতের অপেক্ষা

বান্দরবান ও কক্সবাজার প্রতিনিধি

মিয়ানমারের ভিতর থেকে গত কয়েক দিন ধরে ভেসে আসছে না গোলাগুলির ভারী শব্দ। হঠাৎ করেই যেন শান্ত হয়ে গেছে সীমান্ত এলাকা। এতে সীমান্তের এপারে বসবাসরত বাসিন্দদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে যে কোনো সময় পরিস্থিতি খারাপ হওয়া ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার রয়েছে। একই সঙ্গে ১১ মার্চ বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হামলার মুখে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের ১৭৭ জন বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি-সংলগ্ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে গতকাল কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে টানা চার দিন ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের জামছড়ি সীমান্তের এপার-ওপার শান্ত রয়েছে। স্বাভাবিক রয়েছে উপজেলাধীন ঘুমধুম-তমব্রু সীমান্ত। বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারে যুদ্ধাবস্থা পরিস্থিতিতে টিকতে না পেরে সম্প্রতি পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সেদেশের ১৭৭ জন বিজিপি সদস্যের তথ্য হালনাগাদ শেষ হয়েছে। তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তারা নাইক্ষ্যংছড়ির বিজিবির ১১ ব্যাটালিয়ন দফতরসংলগ্ন বিজিবি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন। এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে গত কয়েক দিন ধরে গোলাগুলি ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দ এপারে ভেসে আসছে না। গতকাল বিকাল পর্যন্ত টেকনাফের নাফ নদের পূর্ব পাশে অবস্থিত মিয়ানমারের মংডু শহরের আশপাশের গ্রামগুলোতে গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা যায়নি। এতে সীমান্তের এপারে বসবাসরত বাসিন্দারা স্বস্তিতে রয়েছেন।

সীমান্ত এলাকার লোকজন জানায়, গত কয়েক দিন ধরে টেকনাফ, উখিয়া উপজেলার সীমান্তে তেমন গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়ার জেলে নুর কামাল বলেন, কয়েক দিন ধরে মিয়ানমার থেকে গোলাগুলি ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছে না। তবে আমাদের নিরাপত্তার জন্য বিজিবি সদস্যরা নাফ নদে মাছ শিকার করতে যেতে দিচ্ছেন না। মাছ শিকার করতে না পারায় রমজান মাসেও জেলেদের জীবন চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। হোয়াইক্যং উলুবনিয়া সীমান্তের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েক দিন সীমান্তের লোকজন শান্তিতে আছেন। তবে নাফ নদের তীরবর্তী চিংড়ি ঘের ও লবণ ঘেরের লোকজন মাছ শিকার, নদীতীরের জমিতে চাষাবাদ, চিংড়ি ও কাঁকড়া উৎপাদন করতে পারছেন না। এতে স্বল্প আয়ের মানুষের সংসারে টানাপোড়েন বেড়েছে। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আনোয়ারী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে অনেকটা। এপারের বিপুলসংখ্যক মানুষ অর্থনৈতিকভাবে নেতিবাচক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। এখনো হচ্ছে। এই মানুষগুলোর সহযোগিতা দরকার। এখন পর্যন্ত তাদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, রমজান মাসের গেল কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে না। উভয় পক্ষ যুদ্ধ বিরতিতে আছে মনে হয়।

 

সর্বশেষ খবর