শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০৯:৪৭
আপডেট : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ১১:১৪

পরিত্যক্ত দ্বীপের মালিক হতে ১০ দিনে জমা ৭০০০ আবেদনপত্র!

অনলাইন ডেস্ক

পরিত্যক্ত দ্বীপের মালিক হতে ১০ দিনে জমা ৭০০০ আবেদনপত্র!
ফাইল ছবি

আয়ারল্যান্ডের পশ্চিমাংশে ১১০০ একরের একটি দ্বীপ আছে যার নাম গ্রেট ব্ল্যাসকেট। ছবির মতো সুন্দর, অথচ পরিত্যক্ত। এমন সুন্দর জায়গা শুধুমাত্র বসতির অভাবে নষ্ট হয়ে যাবে, তা মানতে পারছে না আইরিশ প্রশাসন। রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই দ্বীপের জন্য নিরাপত্তারক্ষী এবং স্থায়ী বাসিন্দা চাইলেন। আরও অবাকের বিষয়, বিজ্ঞপ্তিতে সাড়া দিয়ে ১০ দিনেই জমা পড়ে গিয়েছে ৭ হাজার আবেদনপত্র।

জানা গেছে, এই দ্বীপকে প্রাণবন্ত করে তুলতে প্রশাসনের চেষ্টার ত্রুটি নেই। গ্রীষ্মে দ্বীপটিকে দেখাশোনার জন্য তারা এক দম্পতিকে চাইছে। সেই মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এপ্রিল থেকে অক্টোবর, গ্রীষ্মের এই ছ’মাস ওই দম্পতিদের থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। কাজ শুধু গ্রেট ব্ল্যাসকেট দ্বীপে থেকে তার একটু যত্ন করা।

১১০০ একরের মালিক যদি কেউ হতে চান, তাও হতে পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি নির্ভর জীবনযাপন এখানে পাবেন না। বিদ্যুৎ নেই, গোসল বা কাজকর্মের জন্য সারাক্ষণ গরম জল পাবেন না, দ্রুত মোবাইলের চার্জ করার উপায়ও নেই। তবে এসব ছাড়াই থাকতে হবে, তেমনটাও নয়। 

প্রশাসন বলছে, আটলান্টিকের ফুরফুরে হাওয়া আর মাঝেমধ্যেই ঝিরঝিরে বৃষ্টির ধারাকে কাজে লাগিয়ে টারবাইনের সাহায্যে বিদ্যুৎ তৈরি করে নেওয়া খুব একটা কঠিন কাজ নয়। তাতেই আপনার বাসভবনে আলো পাবেন, মোবাইল চার্জও করতে পারবেন।

গ্রীষ্মে ইউরোপ ঘুরতে গেলে আটলান্টিকের বুকে নৌভ্রমণে আয়ারল্যান্ডের এই দ্বীপের কাছ পর্যন্ত পৌঁছনো যায়। অনেকে সেভাবেই দেখে আসেন গ্রেট ব্ল্যাসকেটের রূপ। ২০১৯ সালে অবশ্য এক বছরের জন্য দ্বীপে ছিলেন এক দম্পতি- লেসলি কেহো ও গর্ডন বন্ড। ফিরে এসে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায়। 

তাঁদের বক্তব্য, বাইরে থেকে দেখলে এই দ্বীপ সম্পর্কে কিছু ধারণাই করা যায় না। কত সুন্দর গ্রেট ব্ল্যাসকেট, তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। প্রতিকূলতার কথাও জানিয়েছেন লেসলি। তিনি বলছেন, প্রথম দিকে গরম পানি তৈরির জন্য বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। বাধ্য হয়ে তখন ঠান্ডা পানিতেই সমস্ত কাজকর্ম করা অভ্যাস করতে হয়েছে।

আর এই কারণেই প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়ে দিচ্ছেন, দ্বীপের সর্বক্ষণের রক্ষী হতে গেলে প্রতিযোগিতা কিন্তু বেশ কঠিন। সেখানকার সকল প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে কে জিততে পারবে, তা বলা মুশকিল। তবে লেসলি-গর্ডনের পরামর্শ, দ্বীপটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে বিশ্বের দরবারে তাকে মুক্ত করে দিতে হবে। শিল্প গড়তে হবে। বাসস্থান গড়ে তুলতে হবে। তা নইলে একটা সময় দ্বীপটি চলে যাবে ইতিহাসের পাতায়।

 

বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ 


আপনার মন্তব্য