শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪১

দুই বছরের মধ্যে রপ্তানি হবে দেশীয় মোটরসাইকেল

হাফিজুর রহমান খান চেয়ারম্যান, রানার গ্রুপ

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

দুই বছরের মধ্যে রপ্তানি হবে দেশীয় মোটরসাইকেল

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে তৈরি মোটরসাইকেল রপ্তানি হবে বিভিন্ন দেশে। এরই মধ্যে দেশীয় নকশায় ভালুকায় নিজস্ব কারখানাতে মোটরসাইকেল তৈরি করছে রানার গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত মোটরবাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউএম-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে নিজস্ব অটোমোবাইল ব্র্যান্ডকে বিশ্বমানে উন্নীত করে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, তৈরি পোশাকের পরই দেশে অটোমোবাইল শিল্পের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কারণ এটি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজভিত্তিক শিল্প। ছোট ছোট অনেক শিল্পই এর সঙ্গে জড়িত। সরকার গুরুত্ব দিলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দেশীয় মোটরসাইকেল রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

রানার গ্রুপ তাদের মোটরসাইকেল তৈরির ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ শতাংশ পার্টস দেশেই তৈরি করছে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশীয় অটোমোবাইল শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া এরই মধ্যে রানার মোটরসাইকেলে যেসব যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে তার বেশির ভাগই স্থানীয়ভাবে তৈরি। ভালুকায় আমাদের নিজস্ব কারখানা রয়েছে। সেখানে এখন মোটরসাইকেলের অনেক ধরনের যন্ত্র তৈরি হচ্ছে। ওই কারখানায় আমাদের মোটরসাইকেলের নিজস্ব নকশা তৈরিতে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা। নিজস্ব প্রযুক্তির উন্নত মানের মোটরসাইকেল তৈরিতে গবেষণা খাতেও আমরা প্রচুর বিনিয়োগ করেছি। আশা করছি, ২০১৮ সালের মধ্যে পুরো দেশে উৎপাদিত মোটরসাইকেল বাজারজাত ও রপ্তানি করতে পারব আমরা। হাফিজুর রহমান খান জানান, এরই মধ্যে অত্যাধুনিক নকশা ও উন্নত বিশ্বের প্রযুক্তির মিশেলে নিজস্ব ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এরই অংশ হিসেবে বিশ্বখ্যাত মার্কিন মোটরবাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউএম-এর সঙ্গে চুক্তিও করেছে রানার গ্রুপ। গত সেপ্টেম্বরে করা ওই চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ইউএম-রানার ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল তৈরি হবে রানার গ্রুপের কারখানায়। এ প্রসঙ্গে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান আরও জানান, ভারত, চীনের চেয়ে আমাদের দেশে মোটরসাইকেলের দাম অনেক বেশি। এর কারণ হচ্ছে এখানে মোটরসাইকেল তৈরি হয় না, আমদানি হয়। দেশে তৈরি হলেই দাম কমে আসবে। কারণ সেখানে শুল্ক থাকবে না। এ জন্য আমরা কম দামে ভোক্তার কাছে মোটরসাইকেল পৌঁছে দিতে দেশেই উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আর যদি দাম কমাতে পারি তখন আমার পণ্য বেশি বিক্রি হবে। পণ্য বেশি বিক্রি হলে শিল্পের উৎপাদনও বেড়ে বাড়বে।

মোটরসাইকেল সংযোজন শিল্প সম্পর্কে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, যারা আমদানিকারক তারা দুটি আইটেম করেই বলতে চাইছেন এটা দেশেই তৈরি করছেন। এটা বন্ধ করার জন্য দ্রুত নীতিমালা দরকার। শিল্প মন্ত্রণালয় অবশ্য দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নে কমিটি গঠন করেছে। আমরা সরকারের এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এখন ওই কমিটি দেশে অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারের ব্যাপারে নীতিমালায় কতটা গুরুত্ব দেবে তার ওপর নির্ভর করছে দেশীয় অটোমোবাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ। কমিটির প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে, যারা যন্ত্রাংশ আমদানি (সিকেডি) করে মোটরসাইকেল সংযোজন করছে তাদের বাধ্য করতে হবে যাতে পার্টসগুলো তারা দেশেই তৈরি করে। এটাকে গুরুত্ব দিলে আমাদের ভোক্তারা কম দামে মোটরসাইকেল কিনতে পারবে। দেশে অটোমোবাইল শিল্পের ভিত্তি গড়ে উঠবে। তখন রপ্তানি সম্প্রসারণে নজর দেওয়া যাবে।


আপনার মন্তব্য