শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০২:০১

নুসরাত হত্যায় মাদ্রাসা পর্ষদের ভূমিকায় প্রশ্ন

সুবর্ণচরের ঘটনায় ধর্ষণের মামলা হয়নি কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নুসরাত হত্যায় মাদ্রাসা পর্ষদের ভূমিকায় প্রশ্ন

নুসরাত হত্যায় মাদ্রাসা পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্ট। একটি রিটের শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বাশার ফেনীর নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘সোনাগাজী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যে নৈতিক শিক্ষা শিখবেন, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেই তো যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এসেছে।’ বিচারক তখন বলেন, ‘গভর্নিং বডিতে অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি থাকেন। এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ এসেছে। তখন গভর্নিং বডির দায়িত্বশীল সদস্যরা যদি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, তাহলে নুসরাতের এই করুণ পরিণতি হতো না।’ এর আগে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ‘ধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূ ‘বিষপানে আত্মহত্যার’ ঘটনায় আইনগত যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করে হাই কোর্টের ওই বেঞ্চ।

ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের ‘নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না’ এবং ধর্ষণের মতো অপরাধ মীমাংসার নামে তথাকথিত সালিশি বৈঠক কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

এলজিআরডি সচিব, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক, সুবর্ণচর থানার ওসি, ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ রুল জারি করে।

সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর মাকসুমুল গ্রামের ইউসুফ সোহাগের স্ত্রী পলি আক্তার (২২) ‘বিষপান করে আত্মহত্যা’ করেছেন বলে ২ মার্চ তার শ্বশুরবাড়ির তরফ থেকে জানানো হয়। পলির শ্বশুর নূর করিম সেদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগের রাতে বাড়িতে কেউ না থাকায় ওই এলাকার আলাউদ্দিন সুযোগ বুঝে ঘরে ঢুকে পলিকে ধর্ষণ করে। পলির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন আলাউদ্দিনকে আটক করে। রাতেই সালিশ বৈঠকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপমান সইতে না পেরে পলি বিষপান করে।’

এ ঘটনায় ধর্ষণের মামলা না হয়ে কেন আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হলো, তা হাই কোর্ট জানতে চায়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর