শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:১৩

কুষ্টিয়ায় দোকানি যখন শালিক পাখির বন্ধু

জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ায় দোকানি যখন শালিক পাখির বন্ধু

শালিক পাখির প্রতি ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার দুই দোকানি ইছাহক আলী ও আনন্দ দেবনাথ। ১৫ বছর ধরে অসংখ্য শালিক পাখিকে খাইয়ে আসছেন তারা। এই খাবারের জন্য প্রতিদিন কয়েকশ শালিক পাখি মিরপুর পৌর শহরের ব্যস্ততম ঈগল চত্বরে ছুটে আসে। আর তা প্রত্যক্ষ করতে আসেন অসংখ্য উৎসুক মানুষ। সেখানে মিতালি হয় মানুষ আর পাখির।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার কিছুটা আগে মিরপুর পৌর শহরের ব্যস্ততম ঈগল চত্বরে উড়ে আসছে শত শত শালিক পাখি। বৈদ্যুতিক লাইনের তার বা দোকান ঘরের কার্নিশে সারি বেঁধে বসছে তারা। ধীরে ধীরে ঈগল চত্বরে দোকানিসহ নানা শ্রেণির মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। ঈগল চত্বর চিরে যাওয়া রাজপথও ব্যস্ত হয়ে উঠে যানবাহনে। এরই মধ্যে চা দোকানি ইছাহক আলী ও হোটেল মালিক আনন্দ দেবনাথ চানাচুর আর পরোটার টুকরো ছড়িয়ে দেন ব্যস্ত রাজপথে। মুহূর্তেই বিদ্যুতের তার আর দোকানের কার্নিশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে শালিক নেমে মহাভোজে যোগ দেয়। এরই মাঝে থেকে থেকে ছুটে চলেছে গাড়ি-ঘোড়া। তবুও শালিকের ঝাঁক নির্ভয়ে খেয়ে চলেছে। মানুষের গলার শব্দ শুনলেই যে পাখিরা প্রাণভয়ে পালায় তারাই সেখানে মানুষের সঙ্গে মিশে যায়। এক পর্যায়ে ইছাহক আলী চানাচুর প্যাকেট নিয়ে দোকানে ঢুকে পড়েন, তখন পাখিগুলোও তার পিছু নেয়। গত ১৫ বছর ধরে এই দুই দোকানি এভাবে খাবার খাইয়ে পাখিগুলোর বন্ধু হয়ে উঠেছেন।

চা দোকানি ইছাহক আলী বলেন, ‘ভোরবেলা দোকান চালু করার আগে দুধের পাত্রে লেগে থাকা দুধের পোড়া অংশ চেঁছে তুলে রাস্তায় ছড়িয়ে দিতাম। তখন দু-একটি শালিক পাখি এসে সেগুলো খেয়ে যেত। রোজ সকালেই ঘটত এমনটি। দিন যত গড়ায় শালিকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তখন শালিকগুলোর প্রতি এক ধরনের টান তৈরি হয়। এরপর প্রতিদিন বড় এক প্যাকেট চানাচুর বরাদ্দ করলাম ওদের জন্য। এখন তো কয়েকশ শালিক আসে খাবার খেতে। দুটো পয়সা খরচা হলেও ওদের কলতানে যে কি আনন্দ তা বলে বোঝাতে পারব না। ইছাহকের দোকানের পাশে আনন্দ দেবনাথের খাবার হোটেল। আনন্দ দেবনাথ বলেন, পাখি বাঁচিয়ে রাখা দরকার। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক অবদান রয়েছে।’

স্থানীয় সংবাদকর্মী কুদরত-ই খোদা সবুজ বলেন, ভালোবাসা দিয়ে যে অনেক কিছু জয় করা যায় তা প্রমাণ করে দিয়েছেন ইছাহক আর আনন্দ দেবনাথ। ভালোবাসার বিনিময়ে পাখির সঙ্গে তাদের বন্ধন তৈরি হয়েছে। তারা বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এভাবে পাখিদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, শালিক ফসলবান্ধব পাখি। বিশেষ আমন মৌসুমে তারা ধানখেতে ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে থাকে। এতে কৃষকের কীটনাশক খরচা অনেকাংশে কমে যায়। এই কারণে শালিক পাখিদের বাঁচিয়ে রাখা দরকার। তিনি বলেন, শালিক পাখিদের খাবার খাইয়ে মিরপুরের দ্ইু দোকানি মহতী কাজ করছেন।


আপনার মন্তব্য