শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৩

ভাষাসৈনিক আলী তাহের মজুমদার আর নেই

কুমিল্লা প্রতিনিধি

ভাষাসৈনিক আলী তাহের মজুমদার আর নেই

ভাষাসৈনিক আলী তাহের মজুমদার আর নেই। গতকাল সকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চানপুর গ্রামে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সনদ অনুযায়ী তাঁর বয়স ১০৬ বছর। গতকাল বিকালে রামপুর ছয়বাড়ী ঈদগায় জানাজা শেষে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পারিবারিক সূত্র জানান, আলী তাহের মজুমদার চাঁদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে কুমিল্লা জিলা স্কুলে ভর্তি হন। দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ছাত্রাবস্থায় ১৯৩৫ সালে কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ’৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অষ্টম পাঞ্জাব আর্মিতে যোগ দেন। সাত-আট মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ছুটিতে এসে আর ফিরে যাননি। তখন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শরৎচন্দ্র বোসের পরিকল্পিত বাংলা ভাষাভাষী এলাকা নিয়ে স্বাধীন সরকার গঠনের জন্য কাজও করেন আলী তাহের। দেশভাগের পর ’৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তোলেন কুমিল্লার গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। তখন দেশে ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আলী তাহের মজুমদার তখন আরএসপি (রেভল্যুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি) করতেন। ওই অফিসে বসে ভাষা আন্দোলনের লিফলেট-পোস্টার লিখে বিলি করতেন। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মিছিলে গুলি হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে কুমিল্লার মানুষ। বিক্ষোভ মিছিল করার অপরাধে আলী তাহের মজুমদার কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জে গ্রেফতার হন। পরদিন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগেও দুই দফা গ্রেফতার হন আলী তাহের মজুমদার। ১৯৫৩ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে যোগ দেন আওয়ামী মুসলিম লীগে। এ অপরাধে ’৫৪ সালে পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়ে তিন বছর কারাগারে ছিলেন। ’৫৬ সালে কারামুক্ত হন। কুমিল্লা সদর থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ’৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন ও ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন। ’৭১ সালের মার্চে চলে যান ভারতে। সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। পাকিস্তানিরা তাঁর বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। রাজনীতি করেই জীবন কেটেছে তাঁর। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছিষট্টির ছয় দফা হয়ে মুক্তিযুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন। দেশকে ভালোবাসতেন আলী তাহের মজুমদার। তবে সব ছাপিয়ে ভাষাসৈনিক পরিচয়ে স্বচ্ছন্দবোধ করতেন তিনি।


আপনার মন্তব্য