রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

জলঢাকায় তিন গম্বুজ দুই কাতার মসজিদ

আবদুল বারী, নীলফামারী

জলঢাকায় তিন গম্বুজ  দুই কাতার মসজিদ

শেওলা জমে আছে দেয়ালে। মসজিদের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। কোথাও সাদা রং কালচে রূপ ধারণ করেছে। তবে উপরিভাগের তিনটি গম্বুজ জানান দিচ্ছে এর উপস্থিতি। প্রাচীন ইসলামিক ঐতিহ্যের অনন্য এ নিদর্শনটির নাম দুই কাতারের মসজিদ যা বর্তমানে হাজীপাড়া শাহী মসজিদ নামে পরিচিত। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের অবস্থান। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট দুই কাতার এ মসজিদের ভিতরের আয়তন ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ। এতে এক সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন ইমামসহ অন্তত ৫০ জন। এ মসজিদে ৬০ ইঞ্চি ওয়াল গাঁথুনি, তিন ফুট দৈর্ঘ্য আর দুই ফুট প্রস্থের তিনটি দরজা ও আটটি মিনার রয়েছে। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি পাকা কক্ষ নির্মাণ করে পুরাতন ওই মসজিদের সঙ্গে যুক্ত করে মসজিদের মূল ভবন থেকে বারান্দা দিয়ে আরও ১০টি কাতারে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। তবে মসজিদটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এলাকাবাসী মসজিদটির সংস্কার ও মেরামত করাসহ প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিলে প্রত্নতত্ব বিভাগ খবর পেয়ে মসজিদটি প্রত্নতত্ব বিভাগ না ভাঙার নির্দেশ দেয়।

২৫০ বছর আগের এ মসজিদ মুসলিম ইতিহাস ও সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন ধর্মপাল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের  হাজীপাড়া শাহী মসজিদ। দুই কাতারের এ পুরাতন মসজিদটি ১২৮৮ খ্রিস্টাব্দে  নির্মাণ কাজ শুরু করেন ওই এলাকার বাসিন্দা হাজী তৈমুর বসুনিয়া এবং ১৩০১ সালের আগেই মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। মসজিদ নির্মাণ করার কিছুদিন পর ১৩১২ সালে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে ওই মসজিদের দক্ষিণ পাশে সমাহিত করা হয়।

এলাকাবাসী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রাচীন এ মসজিদটির অবকাঠামো ঠিক রেখে মসজিদটি পুণঃ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। যাতে এলাকাবাসীসহ দূর-দূরান্ত থেকে প্রাচীন মসজিদটি দেখতে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন।

এই বিভাগের আরও খবর