শিরোনাম
প্রকাশ: ১৪:৫২, সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০ আপডেট:

“রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ: আদৌ সম্ভব?

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ
অনলাইন ভার্সন
“রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ: আদৌ সম্ভব?

গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দিয়ে “ধর্মনিরপেক্ষতা” লেখার দাবিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিএনপি মহাসচিব, জাতীয় পার্টির মহাসচিব, গণফোরামের ড. কামাল হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননকে বিবাদী করে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন বাংলাদেশ মাইনোরিটি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অশোক কুমার সাহা। দাবি জানানো হয়, লিগ্যাল নোটিশটি পাওয়ার দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে “ধর্মনিরপেক্ষতা” লেখা শুরু করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক জনগণের পক্ষে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।

প্রথমেই প্রশ্ন হোল, ইচ্ছেমত কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে দিয়ে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”কে সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে “ধর্মনিরপেক্ষতা” লেখা শুরু করা কি সম্ভব? মানে, একটা নোটিশ এর মাধ্যমে কি সংবিধান বা তাঁর যে কোন অংশ “সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধন” করতে পারা যায়? আইন কি তা বলে? মোটেও না। তাহলে এই অর্বাচীনের মত কর্মকাণ্ডের অর্থ কি?

দ্বিতীয় প্রশ্ন হোল, প্রেরিত লিগ্যাল নোটিশ অনুযায়ী সংবিধান পরিবর্তন না করা হলে, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক জনগণের পক্ষে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করার ইচ্ছে প্রকাশ করা হয়েছে। তাহলে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, ১০২(২)(ক)(অ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নোটিশ প্রদানকারিকে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আর তার জন্য আইনি নোটিশ পাঠানোর কোন প্রয়োজন পড়ে না, সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে মামলা করতে হয়। তো, তা-ই যদি করতে হয় তবে আগে মামলা না করে, ঢাকঢোল পিটিয়ে লিগাল নোটিশ পাঠানোর মানে কি? অনেকটা বাদর নাচ শুরু করার আগে ডুগডুগি বাজানোর মতো হাস্যকর ব্যাপার নয় কি?  

আর এদিকে এই নোটিশের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া মাত্রই দেশজুড়ে তর্ক-বিতর্কের ঝড় শুরু হয়ে গেল। করোনা ক্রান্তি লগ্নে কড়া বাদ-বিবাদে মুখর হয়ে উঠলো গণমাধ্যম থেকে সোশ্যাল মিডিয়া। রাজপথে বাংলাদেশের কট্টর ইসলামপন্থী জনগণ শুরু করে দিল প্রতিবাদ কর্মসূচি। মিছিলে মিছিলে শ্লোগান তোলা হোল, “রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, বহাল চাই, বহাল চাই” অথবা “রক্ত দিয়ে লিখবো নাম, রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম”। তো এই ডামাডোলে নোটিশ দেয়ার মাত্র দু’দিন পরই গত ১৯ আগস্ট তারিখে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি জানিয়ে পাঠানো আইনি নোটিশটি প্রত্যাহার করে নেয়া হোল।

কি কারণে নোটিশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে জানতে চাইলে নোটিশকারি বাংলাদেশ মাইনোরিটি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অশোক কুমার সাহা জানালেন, নোটিশ দেওয়ার পর বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্ত, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠন থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তিনি আরও জানান, অনেকের কাছ থেকে আমরা আশ্বাসও পেয়েছি। তারা বলেছেন, রাজনৈতিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে একটি সমঝোতায় আসা সম্ভব। এক্ষেত্রে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই বিষয়টি সমাধান হবে বলেও অনেকে জানিয়েছেন। সেই কারণে নোটিশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আমি আমার এই লেখায় মোটেও এই আলোচনা করতে চাই না যে বাংলাদেশের সংবিধানে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” থাকা উচিত কিত উচিত না। এই তাত্ত্বিক আলোচনা আমি অন্য জায়গায় এবং লেখনীতে বহুবার করেছি। আমি মনে করি, সংবিধান থেকে এই মুহূর্তে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়ার ব্যাপারে প্রাসঙ্গিক বিষয় মাত্র তিনটি:
 
এক, রাজনৈতিক সমঝোতায় সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” কি বাদ দেয়া সম্ভব?

দুই, আদালত কর্তৃক সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” কি বাদ দেয়া সম্ভব?

তিন, জাতীয় সংসদ কর্তৃক সংবিধান সংশোধন করে সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” কি বাদ দেয়া সম্ভব?   

রাজনৈতিক সমঝোতায় সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” কি বাদ দেয়া সম্ভব?

প্রথমেই আসি রাজনৈতিক সমঝোতায় সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়ার বিষয়টিতে। প্রায়ই তর্ক তোলা হয়, কোন্ রাজনৈতিক দল ইসলামপন্থী আর কোন্ রাজনৈতিক দল ধর্মনিরপক্ষেতায় বা অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী। আমি মনে করি, এই তর্ক অবান্তর। বাংলাদেশের যে কোন রাজনৈতিক দল, তা সে ধর্মনিরপেক্ষই হোক বা ধর্মভিত্তিক-ই হোক, নির্বিশেষে বাংলাদেশের সংবিধান মানতে বাধ্য। 

যদি বাংলাদেশের সংবিধান নিজেই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিতে অক্ষম হয়, তবে আর রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক ও দার্শনিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করার জায়গাটি কোথায়? এই সমালোচনায় সাত মণ ঘিও পুড়বে না, রাধাও নাচবে না! সংবিধানে যা বলা আছে, তা-ই প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে মেনে চলতে হবে, সেটা কারো ভাল লাগুক বা না লাগুক। তাহলে, বোঝা গেল, রাজনৈতিক সমঝোতায় সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়ার বিষয়টি সংবিধান মেনেই করতে হবে। 

তবে উল্লেখ্য যে, ১৯৮৮ সালে সামরিক শাসক এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করার পর তার প্রতিবাদ করেছিল আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং আশ্চর্যজনকভাবে, জামায়াতে ইসলামীও। বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, সংবিধানে “রাষ্ট্রধর্ম  ইসলাম” সংযোজন করার মানেই হল “ধর্মের নামে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা”। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “রাষ্ট্রধর্ম  ইসলাম” সংযোজন নিয়ে “সংবিধানের সংশোধনী জনগণ মানবে না”। জামায়াতে ইসলামী বিবৃতিতে বলেছিল, “সরকার তাহাদের গণবিরোধী কার্যকলাপ ঢাকা দেয়ার জন্য ইসলামের নাম ব্যবহার করছেন”। একই সাথে, ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করার প্রতিবাদে ১৯৮৮ সালের ১১ জুন দেশব্যাপী হরতাল পালন করেছিল রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু আজকের বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। ‘সেই রামও নেই! সেই অযোধ্যাও নেই।’ সেই রাজনৈতিক সময়ও আর নেই! নেই সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা! তো রাজনৈতিক সমঝোতায় সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়ার বিষয়টি আজকের বাস্তবতায় অনেকটা সোনার পাথরবাটি-ই বটে।

আদালত কর্তৃক সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” কি বাদ দেয়া সম্ভব?

এবার আসি আদালত কর্তৃক “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়ার বিষয়ে। আমরা জানি, বাংলাদেশের সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” সংযোজন করা হয়েছে। ২ক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,

                                                      “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন।”

এখন বাংলাদেশের আদালতের মাধ্যমে যদি সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দিতে হয় তাহলে সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদকে আদালতের মাধ্যমে অসাংবিধানিক ঘোষণা করাতে হবে। ইতিপূর্বে ১৯৮৮ সালে সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়ার জন্য সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদকে চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে মোট তিনটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। এগুলো হোল, শক্তি দাস কর্তৃক দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং ১১৭৭/১৯৮৮; নারী পক্ষ কর্তৃক দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং ১৩৩০/১৯৮৮; এবং বাংলাদেশের ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক কর্তৃক দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং ১৮৩৪/১৯৮৮ (সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ)।

সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদকে চ্যালেঞ্জ করে এই সব রিট পিটিশন মামলার মধ্যে মাত্র একটি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তাও আবার দীর্ঘ ২৮ বছর পর। ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ তারিখে বিচারপতি নাঈমা হায়দার, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক কর্তৃক দায়েরকৃত রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেয়। আদালতের রায় অনুযায়ী, “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” সংক্রান্ত রিটকারীদের আবেদনের ‘অধিকার’ (লোকাস স্টান্ডি) নেই বলে আদেশে উল্লেখ করেছেন আদালত। ফলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম বহাল থেকে যায়।

এখানে উল্লেখ্য যে, ২৮ বছর আগে (১৯৮৮ সালে) ১৫ বিশিষ্টজনের করা রিট আবেদনের ২৩ বছর পর (২০১১ সালে) রুল জারি করা হয়। আর রুল জারির প্রায় ৫ বছর পরে (২০১৬ সালে) রুল শুনানির দিন ধার্য  করা হয়। রুল শুনানির দিনই রিট আবেদনটি খারিজ করে দেয় আদালত। ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য, সাবেক বিচারপতি কেএম সোবহান, অধ্যাপক খান সরওয়ার মুর্শিদ, আইনজীবী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, কলিম শরাফী, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত, বদরুদ্দীন উমর, সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। যখন রিট পিটিশনটির রুল শুনানি হয় তখন উপরে উল্লিখিত আবেদনকারীদের মধ্যে প্রথম ১০ জনই মারা গেছেন। বেঁচে থাকা শেষ পাঁচজনের অন্যতম বদরুদ্দীন উমর রিট শুনানির ঠিক আগে আগে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে রিট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন।

২০১৬ সালে “রাষ্ট্রধর্ম” নিয়ে রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেয়া হলেও ২০০৫ সালে এম সালিম উল্লাহ বনাম বাংলাদেশ মামলাতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগ তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”কে পরিবর্তন করে “'সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস”কে প্রতিস্থাপন করার মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। এই মামলাটিতে পরোক্ষভাবে হলেও “রাষ্ট্রধর্ম” বিষয়টিকে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভের পরিপন্থী হিসেবে আদালত চিহ্নিত করেছে।

তারপরও দেখা যাচ্ছে সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আদালতের একটা অনীহা রয়েছে। মোট কথা “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” নিয়ে যে সংবিধান সংশোধনীসমূহ আনা হয়েছে তা সংবিধান পরিপন্থী কিনা সে ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের আদালত খুব একটা উৎসাহী নন। কারণটা কি? ২০০৫ সালে আদালত “ধর্ম-নিরপেক্ষতা”কে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করলেও “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”-এর বিষয়ে ১৯৮৮ সালে দায়েরকৃত এবং ২০১১ সালে ইস্যু কৃত রুলের শুনানি করে নিষ্পত্তি করতে মোট ২৮ বছর নিয়ে নিল? এদিকে মনে রাখা দরকার, ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতেও কিন্তু “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বহাল রাখা হোল।

১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেশবানন্দ ভারতী বনাম কেরালা সরকার মামলায় ঐতিহাসিক এক রায় দিয়েছিল, যা ভারতের বিচারবিভাগের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে গণ্য। ১৩ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ ৭-৬ ভোটে রায় দিয়েছিল, সংবিধানের মূল কাঠামো পরিবর্তনযোগ্য নয় এবং সংসদ তা বদল করতে পারবে না। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নেহরু-গান্ধী বনাম রাজ নারায়ণ (১৯৭৯), মিনার্ভা মিলস লিমিটেড বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (১৯৮০) এবং ওমান রাও বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (১৯৮০) মামলা সমূহে একই সিদ্ধান্তে উপনীত হন।
  
বাংলাদেশের আদালত ১৯৮৯ সালে আনোয়ার হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলাতে, যা অষ্টম সংশোধনী মামলা নামে পরিচিত, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বিষয়ে প্রথম রায় দেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের আদালত “ধর্ম-নিরপেক্ষতা”কে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিতও করে। কিন্তু ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭খ অনুচ্ছেদ সংযোজন করা হলে সংবিধানের কোন বিধানগুলো তার মৌলিক কাঠামো হিসেবে গণ্য হবে তা উল্লেখ করা হয়। অনুচ্ছেদ ৭খ অনুসারে নিম্নলিখিত বিধানগুলোকে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে:

(ক) সংবিধানের প্রস্তাবনা;

(খ) সংবিধানের প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ (অনুচ্ছেদ ১-৭খ);

(গ) সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ (অনুচ্ছেদ ৮-২৫);

(ঘ) সংবিধানের নবম-ক ভাগ (অনুচ্ছেদ ১৪১ক, অনুচ্ছেদ ১৪২খ ও 
      অনুচ্ছেদ ১৪২গ) সাপেক্ষে সংবিধানের তৃতীয় ভাগের সকল    
      অনুচ্ছেদ (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭ক);

(ঙ) সংবিধানের একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদ (সংবিধানের ৪র্থ, ৫ম, 
       ৬ষ্ঠ এবং ৭ম তফসিল)।

তাহলে, ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে কী? ২০১১ সালের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” যা নাকি আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২ক তে সন্নিবেশিত করা আছে, তা সংবিধানের প্রথম ভাগের অন্তর্গত হওয়ায় তাকে সংবিধানের ৭ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবে সুরক্ষিত করা হয়েছে। তাহলে, আদালত কোনভাবেই “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” সংশ্লিষ্ট ২ক অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক বলতে আর পারবে না। যতদিন আমাদের সংবিধানে অনুচ্ছেদ ৭ক জীবিত আছে, ততদিন আদালত “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”কে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো মানতে বাধ্য। অতএব, আদালতের মাধ্যমে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”কে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে বাদ দেয়া সম্ভব না। আর তাই, এই বিষয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে কোনই লাভ হবে না। 

জাতীয় সংসদ কর্তৃক সংবিধান সংশোধন করে সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” কি বাদ দেয়া সম্ভব?   

উপরের আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে রাজনৈতিক সমঝোতা অথবা আদালতের মাধ্যমে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”কে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে বাদ দেয়া সম্ভব না। তাহলে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ কি পারে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”কে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে বাদ দিতে? মানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ কি “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বিষয়ে কোন সাংবিধানিক সংশোধন কি আনতে পারে?

আমাদের সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
 
                                                        “(১) ‘জাতীয় সংসদ’ নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে…”

শুধু আইন প্রণয়ন-ই নয়, “জাতীয় সংসদ” সংবিধানের সংশোধনীও আনতে পারবে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী “জাতীয় সংসদ” বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতাও রাখে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:

                                                             “এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও- (ক) সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবে …”
 
তাহলে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বিষয়ে কোন সাংবিধানিক সংশোধন কি আনতে পারা যাবে? এই প্রশ্নের সোজা-সাপটা উত্তর হোল, “না”। তার কারণ, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যে ৭খ অনুচ্ছেদ সংযোজন করা হয়েছে সেখানে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে

                                                              “সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের ... প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ … সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।“

যেহেতু “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” সংবিধানের প্রথম ভাগের অন্তর্গত, সেহেতু সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদ তার কোন সংশোধনী আনতে পারবে না। সংবিধানের ৭খ অনুচ্ছেদ তাঁকে মৌলিক কাঠামোর অংশ বানিয়ে ফেলেছে। আর শুধু তা-ই নয়, যদি কেউ “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”কে বেআইনিভাবে পরিবর্তন করতে চায় তাহলে অনুচ্ছেদ ৭ক অনুসারে তিনি বা তারা শাস্তিযোগ্য হবেন। আর এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, যতদিন বাংলাদেশের সংবিধানে ৭খ অনুচ্ছেদ বহাল থাকবে ততদিন সংবিধান থেকে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়া অসম্ভব। রাজনৈতিক সমঝোতায় তা সম্ভব নয়, আদালতও “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে অক্ষম। এমন কি খোদ জাতীয় সংসদ চাইলেও “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বিষয়ে কোন সংশোধনী আনতে পারবে না। তাহলে আর “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়া  নিয়ে অযথা মিটিং, মিছিল, শ্লোগান, তর্ক-বিতর্ক করে সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না। সংবিধানে ৭খ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” বাদ দেয়ার দাবী তোলা আকাশ-কুসুম ভাবনা-ই বৈকি!

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
নির্বাচন হবে কী হবে না
নির্বাচন হবে কী হবে না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
সর্বশেষ খবর
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

১০ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো
আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো

১৩ মিনিট আগে | মাঠে ময়দানে

শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু
শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু

৩০ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই
কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই

৪৪ মিনিট আগে | জাতীয়

পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২
পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২

৫৭ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি
টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি

১ ঘণ্টা আগে | অর্থনীতি

নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

১ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা
জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা

১ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা
ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা

১ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি
বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি

১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স
খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের
আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের

১ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি
মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি

২ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন

গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের
গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের

২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইসলামী বিধানে সহজীকরণ নীতি ও নজির
ইসলামী বিধানে সহজীকরণ নীতি ও নজির

২ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন

একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৩০ আগস্ট)
একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৩০ আগস্ট)

২ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প
কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প

২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

পাঁচ বছরে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে: রেড ক্রস
পাঁচ বছরে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে: রেড ক্রস

২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটুন
সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটুন

৪ ঘণ্টা আগে | জীবন ধারা

শেষ ওভারে মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কার নাটকীয় জয়
শেষ ওভারে মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কার নাটকীয় জয়

৪ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ফেসবুকে বিরক্তিকর ফ্রেন্ড সাজেশন বন্ধ করবেন যেভাবে
ফেসবুকে বিরক্তিকর ফ্রেন্ড সাজেশন বন্ধ করবেন যেভাবে

৫ ঘণ্টা আগে | টেক ওয়ার্ল্ড

সিরাজগঞ্জে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫
সিরাজগঞ্জে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

৬ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য
দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য

৮ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ
শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ

৮ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব
নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব

৮ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি
নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি

৮ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ

৯ ঘণ্টা আগে | মুক্তমঞ্চ

পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন

৯ ঘণ্টা আগে | মুক্তমঞ্চ

গোপালগঞ্জে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ২ ভাই নিহত
গোপালগঞ্জে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ২ ভাই নিহত

৯ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

চলন্ত নাগরদোলা ভেঙে ছিটকে পড়ে ৩ শিশু-কিশোর আহত
চলন্ত নাগরদোলা ভেঙে ছিটকে পড়ে ৩ শিশু-কিশোর আহত

১০ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

সর্বাধিক পঠিত
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

১২ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান

১১ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’
‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’

১৬ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

‘দুই বাচ্চার মা’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শুভশ্রী, পাল্টা জবাব দেবকে
‘দুই বাচ্চার মা’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শুভশ্রী, পাল্টা জবাব দেবকে

২১ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি
নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি

২২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা
নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা

১৪ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ
মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ

১৬ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক
আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক

১৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি
ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি

১৯ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

২২ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব
নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব

৮ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে
ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে

১৯ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও
শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও

২১ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

১৬ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইরানের পাল হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি
ইরানের পাল হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি

১৫ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

কর্মকর্তার বিদায়ে হাউমাউ করে কাঁদলেন কর্মচারীরা
কর্মকর্তার বিদায়ে হাউমাউ করে কাঁদলেন কর্মচারীরা

২৩ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

অবসরে যাচ্ছেন মেসি?
অবসরে যাচ্ছেন মেসি?

১৮ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য
দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য

৮ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন
হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন

১৪ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ
ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ

১৬ ঘণ্টা আগে | পাঁচফোড়ন

‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো
‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো

১৭ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার
বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

২২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ইসলাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ: আরএসএস প্রধান
ইসলাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ: আরএসএস প্রধান

২২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত

২০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক
ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক

১৮ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি
নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি

৮ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ
শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ

৮ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক, পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্রাজিল
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক, পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্রাজিল

২২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

শ্রীপুরে পুলিশের ওপর কয়েক দফা হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা
শ্রীপুরে পুলিশের ওপর কয়েক দফা হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

২৩ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

১২ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

প্রিন্ট সর্বাধিক
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

প্রথম পৃষ্ঠা

কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল
কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল

প্রথম পৃষ্ঠা

শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ
শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ

পেছনের পৃষ্ঠা

দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা
দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা

পেছনের পৃষ্ঠা

আজকের ভাগ্যচক্র
আজকের ভাগ্যচক্র

আজকের রাশি

রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে
রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে

পেছনের পৃষ্ঠা

মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন
মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন

শনিবারের সকাল

বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই
বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই

প্রথম পৃষ্ঠা

বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত
বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত

নগর জীবন

বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির
বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির

নগর জীবন

পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ
পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ

নগর জীবন

সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে
সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে

নগর জীবন

চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি
চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি

শোবিজ

জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!
জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!

পেছনের পৃষ্ঠা

মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

প্রথম পৃষ্ঠা

অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের
অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের

প্রথম পৃষ্ঠা

ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ
ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য
শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য

পেছনের পৃষ্ঠা

নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স
নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স

মাঠে ময়দানে

থামছেই না নারী পাচার
থামছেই না নারী পাচার

পেছনের পৃষ্ঠা

বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রথম পৃষ্ঠা

হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭
হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

পেছনের পৃষ্ঠা

আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন
আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন

পেছনের পৃষ্ঠা

১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য
১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য

প্রথম পৃষ্ঠা

ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক
ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক

পেছনের পৃষ্ঠা

ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস
ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস

পেছনের পৃষ্ঠা

প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি
প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি

প্রথম পৃষ্ঠা

কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ
কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না
খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না

প্রথম পৃষ্ঠা

নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ

সম্পাদকীয়