শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৬:০৮

নেতা মন্ত্রীদের কাছে দল এখন গৌণ বিষয়

হাসিনা আকতার নিগার

নেতা মন্ত্রীদের কাছে দল এখন গৌণ বিষয়

'ক্ষমতা' শব্দটার ভার সইবার শক্তি আছে কিনা তা প্রমাণ করে সময়। তাই কাজ ও  সময়ের সদ্ব্যবহার না হলে 'ক্ষমতা' শব্দটি বিপজ্জনক হয় মানুষের জন্য। রাজনৈতিকভাবে এখন দেশের অবস্থা 'বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়' পরিস্থিতি। সরকার দলের নেতা আর কর্মীর অভাব নেই সারা দেশ জুড়ে। কারণ সবাই এখন আওয়ামী লীগের লেবাস পরে আছে।  আর পাড়া মহল্লার উঠতি যুবক শ্রেণি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও বেশি ক্ষমতাধর। আর নেতা মন্ত্রীরারো তাদের নিকটজন। কেউ মন্ত্রীর ডান হাত তো কেউ কেন্দ্রীয় নেতার বাম হাত। তাদের কথায় নেতা মন্ত্রীরা সব কিছু করে ফেলে।

কদিন আগে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার স্বীকার হয়ে দেখেছি দেশে টাইটেলধারী 'মাস্তান-সন্ত্রাসী'রা কী করে মন্ত্রী নেতাদের ব্যবহার করছে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে 'মুরগি মিলন', 'সুইডেন আসলাম'সহ অনেকের নাম শোনা যেত। আর ঠিক এমন উপাধি দিয়ে যখন বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার পদাধিকার ব্যবহার করা সন্ত্রাসী সাধারণ মানুষকে হুমিকের মুখে ফেলে দেয়; তখন বদনামটা হয় রাজনৈতিক দলের। অথচ এসব অসাধু ব্যক্তিরা দলের ভেতর কী করে স্থান পায় তার উত্তর কারো জানা নেই। 

বিগত সময়ে দেখা গেছে যখনই কোন ব্যক্তির অন্যায় বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসে, তখনই বলা হয় সে দলের কেউ না। কিন্তু তার পরিচয়ে দেখা যায় দলের পদ পদবি। রাজনীতি এখন বিস্তার লাভ করেছ ভিন্ন কায়দায়। দলের পদ পদবি ধারণ করে ব্যবসায়ী কিংবা সমাজের বিশেষ শ্রেণি। আর ত্যাগী নেতা-কর্মীরা  উচ্ছিষ্ট হয়ে পড়ে আছে নিরবে নিভৃতে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের মনের ভাবনাকে যাচাই করার প্র‍য়োজন কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীদের। তৃণমূলের রাজনীতি থেকে এখন আর কর্মী নেতা তৈরি হচ্ছে না। হুজুগের রাজনীতি যারা করছে তারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আর্দশ নয়, ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করছে দলের আর নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে। তাই অন্যায়কারীকে মুহূর্তে দলের কেউ না বলাটা সাধারণ মানুষ আর মানতে চায় না এখন।        

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনীতির  মাঠে আওয়ামী লীগ ছাড়া বলতে গেলে কোন দল নেই। তাহলে কারা বা কেন দলের নামে অসাধু সন্ত্রাসী ব্যক্তিকে দলে আশ্রয় দিচ্ছে তা জানা প্রয়োজন দলের আগামী দিনের স্বার্থে। ভুলে গেলে চলবে না সন্ত্রাসী বা অসাধু ব্যক্তিদের কোন দল হয় না। এরা সময় বুঝে দল বদল করে কেবল।

যদিও এসব নিয়ে চিন্তা করার জন্য নেতা বা মন্ত্রীদের এখন সময়ের বড় অভাব। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক কাজের বাইরে দলের জন্য সময় দেয়াকে উনারা হয়তোবা  গৌণ মনে করেন। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না সাধারণ মানুষের সঠিক মত দেয়ার সুযোগ হলে তারা বুঝিয়ে দিবে ক্ষমতার পাল্লা কার ভারী। এলাকার একজন সন্ত্রাসীর কারণেই দলের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করবে এলাকার মানুষ। 
  
দেশের একমাত্র ব্যক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থা আর ভরসা করেই এখনো আশার আলো দেখে জনগণ। কারণ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর বিষয়কে তিনি অতি গুরুত্বের সাথে দেখেন। অথচ দুর্নীতি অনিয়ম করে তার দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে ব্যহত করেছে কিছু বিবেকহীন ব্যক্তি। এরা দল ও প্রশাসনের ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে নানাভাবে।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে দলের নেতা মন্ত্রীদের কেবল মুখের বাণী নয় বাস্তবে কাজ করতে হবে। দলের ভেতর আগাছাদের আর গজিয়ে উঠতে না দেয়াই উচিত। বরং সময়ের সাথে হারিয়ে যেতে না দিয়ে ত্যাগী নেতা কর্মীদের কাজের সুযোগ করে দেয়া এখন সময়ের দাবি।

লেখক: কলামিস্ট 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর