শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল, ২০২১ ১০:১৪
প্রিন্ট করুন printer

সময়ের নিয়ন্তা মহান আল্লাহ

মুহাম্মদ আশরাফ আলী

সময়ের নিয়ন্তা মহান আল্লাহ
Google News

পবিত্র মাহে রমজান ও বাংলা সনের পয়লা বৈশাখ আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে একই দিনে। করোনাকালে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানরা বরণ করে নিচ্ছে নতুন বছরকে। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। মুসলমানরাই বাংলা সনের প্রবর্তক। সব ধর্মের মানুষের কাছে এ সন অনুসরণীয় হলেও সৌরবর্ষীয় বাংলা সন চান্দ্র আরবি হিজরি সনের উত্তরাধিকার। মুঘল আমলে ফসলি সন হিসেবে বাংলা দিনপঞ্জি তৈরি করা হয় সৌরবর্ষ সামনে রেখে। চন্দ্র-সূর্য সবকিছুই যেমন আল্লাহর সৃষ্টি তেমন চান্দ্রবর্ষ বা সৌরবর্ষ যেভাবেই সময়কে ভাগ করা হোক না কেন সবকিছুর নিয়ন্তা মহান আল্লাহ। সুরা আম্বিয়ার ৩৩ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘(আল্লাহ হচ্ছেন) তিনিই যিনি সৃষ্টি করেছেন রাত, দিন, চন্দ্র ও সূর্য। এর প্রতিটিই পরিভ্রমণে নিয়োজিত রয়েছে নিজ নিজ কক্ষপথে, নিজস্ব গতিবেগসহকারে।’ এ বিষয়ে সুরা ইয়াসিনের ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘সূর্য কখনোই চন্দ্রকে ধরতে পারবে না কিংবা রাত কখনো অতিক্রম করতে পারবে না দিনকে। প্রত্যেকেই পরিভ্রমণে নিয়োজিত নিজ নিজ কক্ষপথে, নিজস্ব গতিবেগসহকারে।’ আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে তাঁর খলিফার মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর হাবিবকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের মধ্য থেকে। মানুষের উচিত আল্লাহ-প্রদত্ত সময় অর্থাৎ দিন, রাত ও বছরকে তাঁর নির্দেশিত পথে অতিবাহিত করা। এ বিষয়ে গাইডলাইন রয়েছে কোরআনের বিভিন্ন সুরায়। সুরা ফাতিহায় সরল পথ পাওয়ার জন্য এবং বিপথগামীদের পথ থেকে রক্ষা পাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সুরার ৫-৭ আয়াতে আছে, ‘তুমি আমাদের সরল পথ দেখাও, তাদের পথ যাদের তুমি অনুগ্রহ দান করেছ, তাদের পথ নয় যারা ক্রোধে নিপতিত ও পথভ্রষ্ট।’ মানব জাতির সবারই আল্লাহর রহমত যে পথে সে পথ অনুসরণ করা উচিত। সুরা বাকারার তৃতীয় আয়াতে রয়েছে, ‘সৎ জীবিকা থেকে ব্যয় করার আদেশ সৃষ্টিকর্তার।’ এ ব্যাপারটি প্রত্যেক মানুষ মেনে চললে পৃথিবীতে একটি সুষম সমাজ গড়ে উঠবে। সম্পদ বণ্টনে ভারসাম্য হবে। অসৎ উপার্জন থেকে মানুষ বিরত থাকলে পৃথিবীতে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। ৪২ নম্বর আয়াতে রয়েছে, ‘মিথ্যার সঙ্গে সত্য না মিশিয়ে ফেলার আদেশ এবং জেনেশুনে সত্য না গোপন করার কথা।’ আল কোরআনের এ ঐশী শিক্ষার সফল বাস্তবায়ন ও চর্চা মানুষকে সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করবে এমনটি কাক্সিক্ষত। ৬০ নম্বর আয়াতেই রয়েছে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি না করার উপদেশ। আজকের এ সময়ে যে নির্দেশনার অনুসরণ আমাদের অবশ্যকর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। আল কোরআনে সর্বশক্তিমান আল্লাহ মানুষকে যেভাবে চলার উপদেশ দিয়েছেন সেভাবে চলার মধ্যে রয়েছে সত্যিকারের জাগতিক ও আখিরাতের শান্তি। আল্লাহ আমাদের নতুন বছরের প্রতিটি দিন তাঁর নির্দেশিত পথে চলার তৌফিক দান করুন। করোনা আঘাতে বিদায়ী বছরটি দেশের বেশির ভাগ মানুষের কাছে ছিল উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানের সঙ্গে এ বছর যে বাংলা নববর্ষ হাজির হয়েছে নতুন বছরটি যাতে করোনামুক্তির বছর হয়ে ওঠে সেজন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আমরা রমজানজুড়ে বেশি বেশি করে দোয়া করব। আল্লাহ আমাদের সবার জীবন-জীবিকার হেফাজত করুন।

 

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।