শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৩২
প্রিন্ট করুন printer

অ্যাসাইনমেন্ট

নাইম আবদুল্লাহ

অ্যাসাইনমেন্ট
প্রতীকী ছবি

সাইদুরের মন আজ সকাল থেকেই বিগড়ে আছে। গ্যারেজের মালিক তাকে একটি প্রায় অচল ইজি বাইক ধরিয়ে দিয়েছে। প্লাগে কি যেন সমস্যা আছে। স্টার্ট নিতে খুব ঝামেলা করে। গারেজে আর কোন ইজি বাইক নাই। মনে মনে সে নিজেকে ধিক্কার দিয়ে বলে শালার যেখানে যাই সেখানেই কপাল পোড়া। তার উপর ঢাকায় ছোট বোনের ভার্সিটির হোস্টেল খরচের টাকা পাঠাতে হবে। 

সন্ধ্যায় খুলনার ডাক বাংলোর মোড় থেকে ফুলতলায় সব যাত্রী নামিয়ে নুতন যাত্রী উঠানোর সময় একজন তার হাতে একটি ফোল্ডার ধরিয়ে দিলো। কোন যাত্রী নামার সময় ভুলে ফেলে গেছে। সাইদুর ডাক বাংলোয় ফিরে সব যাত্রী নামিয়ে দিয়ে আবার যাত্রী উঠাতে যাবে এমন সময় কাগজের ফোল্ডারটি চোখে পড়লো। একবার ভাবল পাশের ডাস্টবিনে ফেলে দিবে। আবার কি ভেবে ফোল্ডারটি হাতে নিয়ে ভেতরটায় চোখ বুলালো। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যায় তৃতীয় বর্ষে অনার্স পড়ুয়া একটি মেয়ের ক্লাসের ফোল্ডার। তার একটা অ্যাসাইনমেন্টের উপর সাইদুরের চোখ পড়লো। আগামীকাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ায় শেষ দিন। সাইদুর মেয়েটার নাম ছাড়া আর কোন যোগাযোগের ঠিকানা খুঁজে পেল না। 
সাইদুর গত দুই বছর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিদ্যায় মাস্টার্স শেষ করেছে। সে দুইটি চাকুরী পেয়েছিলো। কিন্তু সে কোনটাই করতে পারেনি। বিবেক তাকে কোনভাবেই সায় দেয়নি। তারপর আর নুতনভাবে চাকুরী খুঁজতে ইচ্ছে করেনি। বাবা নেই। ইজি বাইক চালিয়ে মা আর দুই ভাই বোনের সংসারে হাল ধরেছে। 

সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে সে অ্যাসাইনমেন্টটা নিয়ে বসলো। অনলাইনে বিভিন্ন বই আর রেফারেন্সে পড়ে সে গভীর রাতে অ্যাসাইনমেন্টটা শেষ করলো। সকালে সে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যা ডিপার্টমেন্টে গিয়ে হাজির হল। অনেক খুঁজে পেতে সাইদুর অনার্স তৃতীয় বর্ষের ক্লাসরুম খুঁজে বের করলো। তখন ক্লাস চলছিল। স্যারকে অনুরোধ করতেই সে মেয়েটিকে ডেকে দিলো। সাইদুর তার হাতে অ্যাসাইনমেন্ট করা ফোল্ডারটা ধরিয়ে দিলো। 

মেয়েটি ফোল্ডার খুলে অবাক বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। সাইদুর তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে করিডোর দিয়ে বেরিয়ে এলো। কোনকিছুই এখন আর তাকে নাড়া দিতে পারে না। 

লেখক: সিডনি প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর