শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:৫৮

অব্যর্থ উপদেশ

রাসেল খান

তোকে অব্যর্থ একটি উপদেশ দেব যাতে কখনো আর বাইরে নাস্তা করতে না হয়। এই কৌশল অবলম্বন করলে টিউশনিতে তোকে প্রতিদিন নাস্তা দেবে...

মজনু ও মফিজ একই মেসে থাকে। মজনু দীর্ঘদিন ধরে টিউশনি করে। সম্প্রতি মফিজ একটি টিউশনি পেয়েছে। তবে টিউশনির অভিজ্ঞতা শূন্যের কাছাকাছি। অন্যদিকে মজনুর অভিজ্ঞতা অনেক বেশি।

সেদিন বিকালবেলা মফিজ টিউশনি শেষ করে মোড়ের দোকানে নাস্তা করছে। এমন সময় মজনু এসে হাজির। মজনু মফিজকে একটু জোর গলায় বলতে লাগল, কী ব্যাপার! নাস্তা করছিস ক্যান? মফিজ একটু হতভম্ব হয়ে বলল, বুঝলাম না, দোস্ত। কী বলতে চাচ্ছিস? ইয়ে মানে, তোকে কী টিউশনিতে নাস্তা দেয়নি? মফিজ আস্তে আস্তে বলল, কই না তো! এবার মজনু বলল, তুই সারা জীবন বোকাই থেকে যাবি। মাথায় কিচ্ছু নেই!  মফিজ বলল, কী বলতে চাচ্ছিস? মজনু প্রতিউত্তরে বলল, আচ্ছা, শোন। কোনো সমস্যা নেই। রাতে হালকা একটা পার্টির ব্যবস্থা কর। তাতেই চলবে। তোকে অব্যর্থ একটি উপদেশ দেব যাতে কখনো আর বাইরে নাস্তা করতে না হয়। এই কৌশল অবলম্বন করলে টিউশনিতে তোকে প্রতিদিন নাস্তা দেবে। মজনুর কথা শুনে মফিজ গলে যায়। রাতে ধুমধাম করে পার্টির ব্যবস্থা করে মফিজ। মজনুসহ আরও অনেক বন্ধু যোগ দেয় পার্টিতে। খাওয়া-দাওয়া শেষে মজনু মফিজকে বলল, শোন, দোস্ত। টিউশনিতে আগামীকাল নাস্তা না দিলে পড়ার ফাঁকে এক গ্লাস পানি খেতে চাইবি। তখন পানির সঙ্গে টানিও দেবে। উপায় পেয়ে মফিজ আনন্দে আটখানা। পরের দিন মফিজ যথারীতি টিউশনিতে পড়ার ফাঁকে পানি খেতে চাইল। সেই বাসায় কাজ করতে আসে যে বুয়া ঝটপট মফিজকে পানি এনে দিল। এভাবে তিন দিন চলে যায়। কিন্তু পানির সঙ্গে টানি নেই। মফিজের প্রতিদিন পানি খাওয়া দেখে তার ছাত্রী বলল, স্যার, আমাদের বাসার পানি খুব ভালো, তাই না? ছাত্রীর মা বলল, হ্যাঁ, আমি খেয়াল করেছি আপনি প্রতিদিন পেটভরে পানি খান। আমাদের বাসায় শতভাগ বিশুদ্ধ পানি রয়েছে। তিনি বাসার বুয়াকে ডেকে বললেন, অ্যাঁই স্যারকে প্রতিদিন দুই গ্লাস করে পানি দিবি। বুয়া বলল, জি আচ্ছা। মফিজ এ কথা শুনে আঁতকে ওঠে। মনে মনে মজনুকে এক হাত নেওয়ার প্ল্যান করলেও চুপচাপ পানি খেতে থাকে।

-ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল