শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:১৮

ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে দুরন্ত সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে দুরন্ত সেঞ্চুরি
Google News

চলতি মার্চে সিলেট স্টেডিয়ামে ১৭৬ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলে ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হন লিটন দাস। তিন অঙ্কের ম্যাজিক্যাল ইনিংসটি ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। ইতিহাস লেখার পর থেকেই বড় অঙ্কের রান করতে পুরোপুরি ভুলে যান লিটন। গতকালের আগে পর্যন্ত ৮ ম্যাচে তার রান মাত্র ১০১! নেই কোনো পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস। ছন্দ হারিয়ে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডেতে সুযোগ পাননি। তারপরও টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা রেখেছেন ড্যাসিং ব্যাটসম্যানের ওপর। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলেন ডান হাতি লিটন। নেমেই বাজিমাত। তুলে নেন ৪৫ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চার নম্বর সেঞ্চুরি। তার ১০২ রানের ইনিংসে চাপ সামলে দিয়ে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭৬ রান করে বাংলাদেশ। লিটন ইনিংসটি খেলেন ওপেনার হিসেবে। অথচ টিম ম্যানেজমেন্ট শুরুতে তাকে চারে খেলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগ্রহেই নতুন বলে অধিনায়ক তামিমের সঙ্গী হিসেবে খেলান। এরপর তিনি স্বাগতিক জিম্বাবুইয়ান বোলারদের গতি, বাউন্স ও সুইংয়ের বিপক্ষে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং করে ১১৪ বলে খেলেন ৮ চারে ১০২ রানের ইনিংস।

হারারের উইকেটে গতির সঙ্গে বাউন্সও একটু বেশি। টস জিতে সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে তামিম বাহিনীকে ব্যাটিংয়ে পাঠান স্বাগতিক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর। ব্লেসিং মুঝারাবানি, টেন্ডাই চাতারা, রিচার্ড এনগারাভাদের সাঁড়াশি আক্রমণে দিশাহারা হয়ে পড়েন টাইগাররা। তৃতীয় ওভারের শুরুতেই মুঝারাবানির লাফিয়ে ওঠা বল ঠিকমতো খেলতে না পেরে উইকেটরক্ষক চাকাভার তালুবন্দী হন টাইগার অধিনায়ক। নামের পাশে তখন শূন্য। সব মিলিয়ে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ মিলিয়ে এটা ৩৪ নম্বর শূন্য। অধিনায়কের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় টেকেননি সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিথুন ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ১৮.৪ ওভারে ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল যখন কোণঠাসা, তখনই টেস্টের মতো জুটি বাঁধেন লিটন ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে দুজনে ১৭.৫ ওভারে ৯৩ রান যোগ করে দলকে শুধু বিপদ থেকে উদ্ধারই করেননি, বড় স্কোরের পথে টেনে তোলেন। টেস্টকে বিদায় বলা মাহমুদুল্লাহ করেন ৩৩ রান। এরপর ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আফিফের সঙ্গে জুটি বেঁধে মাত্র ৪০ রান যোগ করেন লিটন। দলীয় ২০৫ রান ও ৪১.৩ ওভারে লিটন সাজঘরে ফেরার আগে নামের পাশে লেখেন ১০২ রানের ঝকমকে ইনিংস। অথচ ইনিংসটির শুরু ছিল নড়বড়ে। স্বাগতিক বোলারদের বিপক্ষে লড়াই করে প্রথম ৫০ রান করেন ৭৮ বলে। ১০০ রান করেন ১১০ বলে। মাত্র ৩২ বলে পরের পঞ্চাশ করেন তিনি। সব মিলিয়ে ১০২ রান করেন ১১৪ বলে। আফিফ ৪৫ রান করেন মাত্র ৩৫ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায়।

লিটন ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি করেছেন চারটি। তিনটিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। একটি সেঞ্চুরি ভারতের বিপক্ষে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে। বাকি তিন সেঞ্চুরির দুটি গত মার্চে সিলেটে। ১২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন ১০৫ বলে। ৬ মার্চ ১৭৬ রানের ইনিংস খেলেন ১৪৩ বলে ১৬ চার ও ৮ ছক্কায়। যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। টপকে যান টাইগার ওয়ানডে অধিনায়ক তামিমের ১৫৮ রানের ইনিংস। গতকালের সেঞ্চুরি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয়। এর আগে আফ্রিকান প্রতিনিধিদের বিপক্ষে তিনটি করে সেঞ্চুরি রয়েছে তামিম ও সাকিবের।